নবীনগরে অবৈধ বালু উত্তোলনের প্রতিবাদে গ্রামবাসীর সঙ্গে সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধ ৭
- আপডেট সময় : ১০:০৯:৪০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ২২ বার পড়া হয়েছে
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার চরলাপাং এলাকায় মেঘনা নদীর তীর কেটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের প্রতিবাদ করায় গ্রামবাসীর ওপর হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৭টার দিকে সংঘটিত এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন অন্তত ৭ জনসহ মোট ১৫ জন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে বালু মহলের লিজধারী সামিউল ট্রেডার্সের লোকজন চরলাপাং মৌজার মেঘনা নদীর পাড় কেটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছিল। এতে নদীভাঙনের ফলে ফসলি জমি বিলীন হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দেয়। এর প্রতিবাদে সকালে এলাকাবাসী সংঘবদ্ধ হয়ে বালু উত্তোলনে বাধা দিলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
একপর্যায়ে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত সন্ত্রাসীরা দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে গ্রামবাসীর ওপর হামলা চালায় এবং এলোপাতাড়ি গুলি বর্ষণ করে। এতে গুলিবিদ্ধ হন নূরুল আমীন (৪০), রূপা মিয়া (৪৫), স্বপন মিয়া (৫০), ইব্রাহীম খলিল (৩০), জুলহাস মিয়া (৫০), সাকাল মিয়া (৪০) ও সিয়াম আহমেদ (১৬)। আহতদের প্রথমে নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দিয়ে পরে জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষ ও হামলায় গুলিবিদ্ধদের পাশাপাশি নারীসহ আরও অন্তত ১৫ জন গ্রামবাসী আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রশাসনের নজরদারি এড়িয়ে দীর্ঘদিন ধরে নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলন করা হচ্ছিল। এতে ফসলি জমি ও বসতভিটা হুমকির মুখে পড়ায় তারা প্রতিবাদে নামেন। তবে প্রতিবাদস্থলেই সন্ত্রাসীরা গুলি চালায়।
ঘটনার সঙ্গে অভিযুক্ত সাখাওয়াত হোসেন পায়েলের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, গুলির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
এদিকে এ ঘটনায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত সন্ত্রাসীদের কঠোর হাতে দমন করা হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সংবাদটি শেয়ার করুন



















