ঢাকা ০১:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নদী দখল, দূষণ ও অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলার আহ্বান অসহায় পাপনের জীবনে আশার আলো হয়ে পাশে দাঁড়ালেন জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জেলা বিএনপির ১৪ ইউনিটের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভা বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদ প্রশাসক সিরাজুল ইসলামের সৌজন্য সাক্ষাৎ তিতাসের বুকে দুই বছর পর নৌকা বাইচ, অর্ধলক্ষাধিক দর্শকের উচ্ছ্বাস বিজয়নগর মডেল প্রেসক্লাবের কমিটি গঠন সভাপতি মাইনুদ্দিন রুবেল,সাধারণ সম্পাদক এস এম টিপু চৌধুরী পলিথিন বর্জনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জেলা পরিষদ প্রশাসকের সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেড ক্রিসেন্ট নির্বাচনে শাহীন ভাইস চেয়ারম্যান, মিজানুর রহমান সেক্রেটারি বণিকপাড়ার সড়কে জলাবদ্ধতা, দুর্গন্ধযুক্ত পানিতে চরম দুর্ভোগে এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা জেলা পরিষদ প্রশাসককে নোঙর বাংলাদেশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার ফুলেল শুভেচ্ছা

নবীনগরে নিম্নমানের সড়ক নির্মাণ নিয়ে বিরোধ: প্রকৌশলীকে তাড়া ও মারধর, মামলায় ঠিকাদারের ম্যানেজার গ্রেপ্তার

প্রতিনিধির নামঃ
  • আপডেট সময় : ১০:০৫:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
  • / ২০৫ বার পড়া হয়েছে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় সড়ক নির্মাণকাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলাকে কেন্দ্র করে উপসহকারী প্রকৌশলীকে তাড়া ও মারধরের ঘটনায় মামলা হওয়ার পর ঠিকাদারের ব্যবস্থাপককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় সদর উপজেলা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যবস্থাপকের নাম ফোরকান মিয়া। এ ঘটনায় ঠিকাদার লোকমান হোসেন, তাঁর গাড়িচালকসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে নবীনগর থানায় মামলা করেছেন ভুক্তভোগী উপসহকারী প্রকৌশলী মির্জা তরিকুল ইসলাম।

এর আগে সোমবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার মেরকুটা বাজার থেকে শিবপুর পর্যন্ত সড়ক নির্মাণকাজ পরিদর্শন করতে গিয়ে হামলার শিকার হন তিনি। জানা গেছে, প্রায় সাড়ে ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কটি নির্মাণের কাজ পায় রাজশাহীর বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশন লিমিটেড। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) অধীন প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৪ কোটি ৬৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

অভিযোগ রয়েছে, নির্মাণকাজে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে সোমবার দুপুরে এলজিইডির একটি প্রতিনিধিদল ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যায়। এ সময় কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলায় ঠিকাদার লোকমান হোসেন ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে তিনি উপসহকারী প্রকৌশলী তরিকুল ইসলামকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং হাতে বাঁশ নিয়ে তাড়া করেন।

ভুক্তভোগী প্রকৌশলী জানান, পরে ঠিকাদার ও তাঁর সহযোগীরা তাঁকে লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন এবং ইট ছুড়ে মারেন। সহকর্মীরা এগিয়ে এলে তাঁদেরও হুমকি দেওয়া হয়। প্রাণভয়ে তিনি সেখান থেকে দৌড়ে পালিয়ে আসেন।

এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং সড়ক নির্মাণকাজের মান নিয়েও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে ঠিকাদারকে প্রকৌশলীকে ধাওয়া করতে দেখা যায়।

এলজিইডি সূত্র জানায়, সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর আগেই কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ঠিকাদার তা অমান্য করে রাতে কাজ চালিয়ে যান। পরবর্তীতে পরিদর্শনে অনিয়মের সত্যতা পাওয়ায় পুনরায় কাজ বন্ধ এবং ত্রুটিপূর্ণ অংশ ভেঙে নতুন করে নির্মাণের নির্দেশ দেওয়া হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহিম খলীল বলেন, নির্মাণকাজে অনিয়ম পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে এবং এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রকৌশলীকে মারধরের ঘটনায় মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঠিকাদারের ব্যবস্থাপককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং সরকারি কাজের মান ও তদারকি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

নবীনগরে নিম্নমানের সড়ক নির্মাণ নিয়ে বিরোধ: প্রকৌশলীকে তাড়া ও মারধর, মামলায় ঠিকাদারের ম্যানেজার গ্রেপ্তার

আপডেট সময় : ১০:০৫:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় সড়ক নির্মাণকাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলাকে কেন্দ্র করে উপসহকারী প্রকৌশলীকে তাড়া ও মারধরের ঘটনায় মামলা হওয়ার পর ঠিকাদারের ব্যবস্থাপককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় সদর উপজেলা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যবস্থাপকের নাম ফোরকান মিয়া। এ ঘটনায় ঠিকাদার লোকমান হোসেন, তাঁর গাড়িচালকসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে নবীনগর থানায় মামলা করেছেন ভুক্তভোগী উপসহকারী প্রকৌশলী মির্জা তরিকুল ইসলাম।

এর আগে সোমবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার মেরকুটা বাজার থেকে শিবপুর পর্যন্ত সড়ক নির্মাণকাজ পরিদর্শন করতে গিয়ে হামলার শিকার হন তিনি। জানা গেছে, প্রায় সাড়ে ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কটি নির্মাণের কাজ পায় রাজশাহীর বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশন লিমিটেড। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) অধীন প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৪ কোটি ৬৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

অভিযোগ রয়েছে, নির্মাণকাজে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে সোমবার দুপুরে এলজিইডির একটি প্রতিনিধিদল ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যায়। এ সময় কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলায় ঠিকাদার লোকমান হোসেন ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে তিনি উপসহকারী প্রকৌশলী তরিকুল ইসলামকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং হাতে বাঁশ নিয়ে তাড়া করেন।

ভুক্তভোগী প্রকৌশলী জানান, পরে ঠিকাদার ও তাঁর সহযোগীরা তাঁকে লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন এবং ইট ছুড়ে মারেন। সহকর্মীরা এগিয়ে এলে তাঁদেরও হুমকি দেওয়া হয়। প্রাণভয়ে তিনি সেখান থেকে দৌড়ে পালিয়ে আসেন।

এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং সড়ক নির্মাণকাজের মান নিয়েও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে ঠিকাদারকে প্রকৌশলীকে ধাওয়া করতে দেখা যায়।

এলজিইডি সূত্র জানায়, সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর আগেই কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ঠিকাদার তা অমান্য করে রাতে কাজ চালিয়ে যান। পরবর্তীতে পরিদর্শনে অনিয়মের সত্যতা পাওয়ায় পুনরায় কাজ বন্ধ এবং ত্রুটিপূর্ণ অংশ ভেঙে নতুন করে নির্মাণের নির্দেশ দেওয়া হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহিম খলীল বলেন, নির্মাণকাজে অনিয়ম পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে এবং এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রকৌশলীকে মারধরের ঘটনায় মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঠিকাদারের ব্যবস্থাপককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং সরকারি কাজের মান ও তদারকি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।