নবীনগরে সড়ক নির্মাণকাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলায় প্রকৌশলীকে বাঁশ নিয়ে তাড়া ঠিকাদারের
- আপডেট সময় : ০৪:৫৩:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
- / ৫৭ বার পড়া হয়েছে
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় সড়ক নির্মাণকাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলায় এক উপসহকারী প্রকৌশলীকে বাঁশ নিয়ে তাড়া করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক প্রভাবশালী ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। সোমবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। হামলার শিকার প্রকৌশলী আতঙ্কে থানায় মামলাও করতে সাহস পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন।
জানা গেছে, নবীনগর উপজেলার মেরকুটা বাজার থেকে শিবপুর পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৪ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের কাজ পায় রাজশাহীর বরেন্দ্র কন্সট্রাকশন লিমিটেড। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এর অধীনে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৪ কোটি ৬৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা। প্রকল্পটির তদারকির দায়িত্বে ছিলেন স্থানীয় প্রভাবশালী ঠিকাদার লোকমান হোসেন।
অভিযোগ রয়েছে, নির্মাণকাজে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে সোমবার দুপুরে ঢাকা থেকে আসা এলজিইডির প্রতিনিধি দল ও স্থানীয় প্রকৌশলীরা ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। এ সময় কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলায় প্রতিনিধি দলের সামনেই উপসহকারী প্রকৌশলী মীর্জা মো. তরিকুল ইসলামকে লক্ষ্য করে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন ঠিকাদার লোকমান হোসেন।
ভুক্তভোগী প্রকৌশলী তরিকুল ইসলাম বলেন, কাজের নিম্নমান নিয়ে কথা বলতেই ঠিকাদার লোকমান ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তিনি হাতে বাঁশ নিয়ে আমাকে মারতে উদ্যত হন এবং অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন। এক পর্যায়ে আমি দৌড়ে সেখান থেকে প্রাণ বাঁচিয়ে পালিয়ে আসি।
ঘটনার পরও থানায় মামলা না করার বিষয়ে তিনি বলেন, “লোকমান খুবই প্রভাবশালী ও ভয়ংকর। মামলা করলে আমাকে প্রাণে মেরে ফেলতে পারে। তাই আমি এখান থেকে দ্রুত বদলি নেওয়ার চেষ্টা করছি।
এ বিষয়ে নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এম এ মান্নান বলেন, “ঘটনার পরপরই পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা বলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হামলাকারী ঠিকাদারকে গ্রেপ্তারের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তার ওপর এ ধরনের হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং সড়ক নির্মাণকাজের মান নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
সংবাদটি শেয়ার করুন



























