পৌরসভার নির্দেশ উপেক্ষা, রাত-দিন চলছে নির্মাণকাজ
- আপডেট সময় : ০৬:৩৮:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
- / ৩৮২ বার পড়া হয়েছে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার জারি করা কাজ বন্ধের নির্দেশনা অমান্য করে জেলা জামে মসজিদ সংলগ্ন একটি বহুতল বাণিজ্যিক ভবনের নির্মাণকাজ অব্যাহত রাখার অভিযোগ উঠেছে। এমনকি কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ভবনটির ছাদ ঢালাইয়ের প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
জানা গেছে, জেলা জামে মসজিদের পাশে নির্মাণাধীন বহুতল ভবনটি নিয়ে পৌর এলাকার বাসিন্দা মাইনুল হোসেন চপল পৌর প্রশাসকের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, ভবনটি মসজিদের সীমানা প্রাচীর ঘেঁষে নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে মসজিদের নিরাপত্তা, মুসল্লিদের চলাচল এবং নির্মাণ বিধিমালা লঙ্ঘনের বিষয়টি নিয়ে জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, অভিযোগপত্রে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর-বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল সুপারিশ করে লিখেছেন, “সরেজমিনে তদন্তপূর্বক যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হলো।” অভিযোগপত্রের অনুলিপি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর-বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক, জেলা পরিষদ প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রদান করা হয়।
এরপর পৌর কর্তৃপক্ষ নির্মাণকাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়ে নোটিশ জারি করে। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, সেই নোটিশকে তোয়াক্কা না করেই ভবনের মালিকপক্ষ পুরোদমে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
সরেজমিনে যা দেখা গেল, আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ও রাত সাড়ে দশটায় ঘটনাস্থলে গিয়ে এই প্রতিবেদক দেখতে পান, নির্মাণস্থলে শ্রমিকরা স্বাভাবিকভাবেই কাজ করছেন। ভবনের উপরের অংশে ছাদ ঢালাইয়ের প্রস্তুতির কাজ চলছিল। এতে পৌরসভার নির্দেশনা কার্যত অমান্য করা হচ্ছে বলে অভিযোগ আরও জোরালো হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, যদি কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা বাস্তবায়ন না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে যে কেউ সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করার সাহস পাবে। তারা অবিলম্বে নির্মাণকাজ বন্ধ করে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এ বিষয়ে পৌরসভার দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, পৌরসভার জারি করা নির্দেশনা অমান্য করা হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, পৌর কর্তৃপক্ষ তাদের জারি করা নির্দেশনা কার্যকর করতে কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
সংবাদটি শেয়ার করুন




















