ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের পুকুর-খাল-জলাশয় রক্ষায় ঢেউ’র ৭ দফা দাবি বাস্তবায়নে কর্মসূচি
- আপডেট সময় : ০৬:৪৩:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬
- / ১১৯ বার পড়া হয়েছে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের পুকুর, খাল, জলাশয় ও পরিবেশ রক্ষায় ৭ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে নদী ও জলাশয় সুরক্ষার সামাজিক সংগঠন ‘ঢেউ’। পরিবেশ রক্ষা, জলাশয় সংরক্ষণ এবং নগরবাসীর নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান বক্তারা।
রবিবার (৫ জুলাই) সকাল ১০টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর শহরের পুরাতন কাচারী মোড় (আধুনিক পৌর সুপার মার্কেটের সামনে) ৩৬ জুলাই স্মৃতি স্তম্ভ এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ক্রীড়া, সাংবাদিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, পরিবেশকর্মী এবং সচেতন নাগরিকরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে সংগঠনের যুগ্ম আহবায়ক আমিনুল ইসলাম আহাদ ৭ দফা দাবি তুলে ধরেন। ৭ দফা দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ১। ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে তিতাস নদীর উৎপত্তিস্থল ভাদুঘর থেকে মেড্ডা শ্মশানঘাট পর্যন্ত ২৬টি খাল (টাউন খালসহ) পুনরুদ্ধার করা, ২। টাউন খালের উভয় পাশের সীমানা নির্ধারণ, দখলমুক্তকরণ, সৌন্দর্যবর্ধন এবং নৌচলাচলের উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করা, ৩। পৌরসভার নিজস্ব ১০টি পুকুরসহ শহরের ২১২টি পুকুর সংরক্ষণ করে সরকারি গেজেটভুক্ত করা, ৪। শহরের কাউতলী মোড় থেকে মেড্ডা বাসস্ট্যান্ড হয়ে ঘাটুরা মোড় পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে প্রশস্ত করা, ৫। জেলা পরিষদ কর্তৃক খালের ওপর নির্মিত সকল মার্কেট উচ্ছেদ করে খালের পূর্বের স্বাভাবিক রূপ ফিরিয়ে আনা, ৬। শিশুবান্ধব শহর গড়ার লক্ষ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের পরিত্যক্ত পুরাতন জেলখানার স্থানে একটি আধুনিক শিশু বিনোদন পার্ক নির্মাণ করা ও ৭। শহরের যানজট ও শব্দদূষণ নিরসনে ব্যাটারিচালিত রিকশার অনিয়ম নিয়ন্ত্রণ এবং সকল অবৈধ হাইড্রোলিক হর্নের ব্যবহার বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
৭ দফা দাবি কর্মসূচিতে ঢেউ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আহবায়ক সোহেল আহাদের সভাপতিত্বে ও আলী আকরাম খন্দকার স্বপনের সঞ্চালনায় বক্তব্যে সোহেল আহাদ বলেন, আগে শহরের টেংকেরপাড়বাসী নাকে ধরে চলাফেরা করতো আর এখন পুরো পৌরবাসী নাকে ধরে চলাফেরা করে। ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসীর জন্য ওভারপাসটি এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া একসময় অসংখ্য পুকুর, খাল ও জলাশয়ের জন্য পরিচিত ছিল। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে অবৈধ দখল, ভরাট, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং প্রশাসনিক নজরদারির অভাবে এসব জলাশয় দ্রুত বিলীন হয়ে যাচ্ছে। জলাশয় হারিয়ে যাওয়ার ফলে বর্ষা মৌসুমে শহরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে এবং পরিবেশের ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এখনই কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ না করলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটি ভয়াবহ পরিবেশগত সংকটের মুখোমুখি হবে।
মাদক মুক্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া চাই সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল হাছান তপু বলেন, মাদক যেমন সমাজকে ধ্বংস করে, তেমনি পরিবেশ ধ্বংসও মানুষের জীবনকে হুমকির মুখে ঠেলে দেয়। একটি বাসযোগ্য শহর গড়ে তুলতে হলে জলাশয় সংরক্ষণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। তিনি প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং সাধারণ মানুষকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
সমাজসেবক কমরেড নজরুল ইসলাম বলেন, নদী, খাল ও জলাশয় কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সম্পদ নয়, এটি জনগণের সম্পদ। অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দখলমুক্ত করে জলাশয় পুনরুদ্ধারের বিকল্প নেই।
নীহার রঞ্জন সরকার বলেন, শিশু-কিশোরদের সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার জন্য একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ প্রয়োজন। পুকুর ও জলাশয় শুধু পানি ধারণ করে না, এটি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে সচেতন হতে হবে।
মাদক মুক্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া চাই সংগঠনের সভাপতি মাহফুজুর রহমান পুষ্প বলেন, উন্নয়নের নামে পরিবেশ ধ্বংস করা কোনো উন্নয়ন হতে পারে না। পরিকল্পিত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে জলাশয় সংরক্ষণকে বাধ্যতামূলক করতে হবে। প্রবীর চৌধুরী রিপন বলেন, গণমাধ্যম সবসময় জনস্বার্থের বিষয়গুলো তুলে ধরবে। পরিবেশ ধ্বংস, জলাশয় দখল ও দূষণের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা অব্যাহত থাকবে।
ঐক্যবদ্ধ ব্রাহ্মণবাড়িয়া সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শেখ আরিফ বিল্লাহ আজীজী বলেন, নাগরিকদের ঐক্যবদ্ধ অংশগ্রহণ ছাড়া পরিবেশ রক্ষা সম্ভব নয়। সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে জলাশয় সংরক্ষণে এগিয়ে আসতে হবে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক আরিফ নূরুল আমিন বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভা প্রথম শ্রেরণির পৌরসভা হলেও আমরা তা থেকে নাগরিক সুবিধা বঞ্চিত আছি। শহরে হালকা বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। ড্রেনেজ ব্যবস্থা অনুন্নত, অবৈধ রিকশায় ভরে গেছে। শহরে যানজট নিরসনে প্রশাসনকে সুদৃষ্টি দেয়ার জন্য আহবান জানিয়েছেন।
রোটিয়ান আশিকুল আলম বলেন, আমাদের প্রশাসন এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সদিচ্ছার অভাবে আমরা শহরবাসী নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত আছি।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপস্থাপনায় ছিলেন ঢেউ’র যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আকরাম খন্দকার স্বপ্ন ও সদস্য সচিব আইফাত মুন্সী।
মাবেশ শেষে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, দাবি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।তারা ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে একটি পরিবেশবান্ধব, জলাবদ্ধতামুক্ত ও বাসযোগ্য শহর হিসেবে গড়ে তুলতে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং সর্বস্তরের জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগ কামনা করেন।মানববন্ধন শেষে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক , ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদ প্রশাসক ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ সুপারসহ সকল সরকারি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
সংবাদটি শেয়ার করুন













