ঢাকা ০১:২৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার নিয়ে প্রেস ব্রিফিং ভারতের পশ্চিমবঙ্গে মুসলিমদের ওপর নিপীড়নের প্রতিবাদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতের সমাবেশ সীমান্তে রক্ত ঝরলে জনগণকে নিয়ে সীমান্তমুখী কর্মসূচি’ — ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের প্রতিবাদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ছাত্রদলের বিক্ষোভ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় র‍্যাব সদস্যদের ওপর হামলা ঘটনায় আটক ৫, উদ্ধার দেশীয় অস্ত্র ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলকে ঘিরে তোলপাড় কীটনাশক ট্যাবলেট সেবনে নবীনগর ও আখাউড়ায় দুই নারীর মৃত্যু প্রবাসীদের অভিজ্ঞতা ও বিনিয়োগেই গড়ে উঠবে আধুনিক ব্রাহ্মণবাড়িয়া — কবীর আহমেদ ভূঁইয়া তরুণ সমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই — খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল এমপি চাঁদাবাজির মামলায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুই কথিত সাংবাদিকের পাঁচ বছরের সাজা

নাসিরনগরে নৌকায় ঘুমানোকে কেন্দ্র করে জেলের বৈঠার আঘাতে আরেক জেলে নিহত

চন্দন কুমার দেব, নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) থেকে :
  • আপডেট সময় : ০৫:২০:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ অগাস্ট ২০২৫
  • / ৪২৩ বার পড়া হয়েছে

মাছ ধরতে গিয়ে নদীতে নৌকার মধ্যে জাল না ফেলে ঘুমিয়ে থাকার কারণে এক জেলের বৈঠার আঘাতে অপর এক জেলে নিহত হয়েছেন। নিহত জেলে তারই সাত বছরের সহকর্মী।

ঘটনাটি ঘটেছে গত ৭ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার ভলাকুট গ্রামে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কালী মোহন দাস (৬৫), মনিন্দ্র দাস (৫৫) ও দিলীপ সরকার (৩৫) নামের তিন জেলে গত সাত বছর ধরে নৌকা দিয়ে একসঙ্গে মাছ ধরার কাজ করতেন। ঘটনার দিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে তারা ভলাকুট উত্তরপাড়া সংলগ্ন নদী এলাকায় মাছ ধরতে যান।

শারীরিকভাবে অসুস্থ বোধ করায় মনিন্দ্র দাস নৌকার মধ্যে শুয়ে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। এ নিয়ে তার সঙ্গে সহকর্মী কালী মোহন দাসের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে ক্ষুব্ধ কালী মোহন দাস হাতে থাকা বৈঠা দিয়ে মনিন্দ্র দাসের মাথায় সজোরে আঘাত করেন। এতে গুরুতর আহত হয়ে তিনি নৌকার মধ্যে লুটিয়ে পড়েন।

সংগীয় জেলে দিলীপ সরকার চিৎকার করে নৌকা পাড়ে ভেড়ান এবং স্থানীয়দের সহযোগিতায় মনিন্দ্র দাসকে নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে গত ৯ আগস্ট শনিবার বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

শনিবার রাতেই নিহতের পরিবারের সদস্যরা নাসিরনগর থানায় বিষয়টি জানালে, রাত সাড়ে ১২টার দিকে এসআই কামালের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ভলাকুট গ্রামে অভিযান চালিয়ে আসামি কালী মোহন দাসকে তার বাড়ি থেকে আটক করে।

ভলাকুট ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. ইদ্রিস মিয়া বলেন, “শুনেছি মাছ ধরতে গিয়ে এক জেলের বৈঠার আঘাতে আরেক জেলে গুরুতর আহত হয়ে ঢাকায় চিকিৎসাধীন ছিলেন। গতকাল শুনেছি তিনি মারা গেছেন। এখনো লাশ বাড়িতে আসেনি, আমি তার বাড়িতেই আছি।”

নাসিরনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আজহারুল ইসলাম জানান, “এখনও মামলা হয়নি, নিহতের স্বজনরা আসছেন। লাশ ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়াধীন আছে। একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

নাসিরনগরে নৌকায় ঘুমানোকে কেন্দ্র করে জেলের বৈঠার আঘাতে আরেক জেলে নিহত

আপডেট সময় : ০৫:২০:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ অগাস্ট ২০২৫

মাছ ধরতে গিয়ে নদীতে নৌকার মধ্যে জাল না ফেলে ঘুমিয়ে থাকার কারণে এক জেলের বৈঠার আঘাতে অপর এক জেলে নিহত হয়েছেন। নিহত জেলে তারই সাত বছরের সহকর্মী।

ঘটনাটি ঘটেছে গত ৭ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার ভলাকুট গ্রামে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কালী মোহন দাস (৬৫), মনিন্দ্র দাস (৫৫) ও দিলীপ সরকার (৩৫) নামের তিন জেলে গত সাত বছর ধরে নৌকা দিয়ে একসঙ্গে মাছ ধরার কাজ করতেন। ঘটনার দিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে তারা ভলাকুট উত্তরপাড়া সংলগ্ন নদী এলাকায় মাছ ধরতে যান।

শারীরিকভাবে অসুস্থ বোধ করায় মনিন্দ্র দাস নৌকার মধ্যে শুয়ে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। এ নিয়ে তার সঙ্গে সহকর্মী কালী মোহন দাসের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে ক্ষুব্ধ কালী মোহন দাস হাতে থাকা বৈঠা দিয়ে মনিন্দ্র দাসের মাথায় সজোরে আঘাত করেন। এতে গুরুতর আহত হয়ে তিনি নৌকার মধ্যে লুটিয়ে পড়েন।

সংগীয় জেলে দিলীপ সরকার চিৎকার করে নৌকা পাড়ে ভেড়ান এবং স্থানীয়দের সহযোগিতায় মনিন্দ্র দাসকে নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে গত ৯ আগস্ট শনিবার বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

শনিবার রাতেই নিহতের পরিবারের সদস্যরা নাসিরনগর থানায় বিষয়টি জানালে, রাত সাড়ে ১২টার দিকে এসআই কামালের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ভলাকুট গ্রামে অভিযান চালিয়ে আসামি কালী মোহন দাসকে তার বাড়ি থেকে আটক করে।

ভলাকুট ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. ইদ্রিস মিয়া বলেন, “শুনেছি মাছ ধরতে গিয়ে এক জেলের বৈঠার আঘাতে আরেক জেলে গুরুতর আহত হয়ে ঢাকায় চিকিৎসাধীন ছিলেন। গতকাল শুনেছি তিনি মারা গেছেন। এখনো লাশ বাড়িতে আসেনি, আমি তার বাড়িতেই আছি।”

নাসিরনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আজহারুল ইসলাম জানান, “এখনও মামলা হয়নি, নিহতের স্বজনরা আসছেন। লাশ ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়াধীন আছে। একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”