ঢাকা ০২:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
​কসবায় ১১ দলীয় ঐক্যের বিক্ষোভ মিছিল: সীমান্ত হত্যা ও পুশ-ইন বন্ধের দাবি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত নাটাই উত্তরের রাজঘর-থলিয়ারায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে জেলা পরিষদ প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ ব্রিটেন কনজারভেটিভ পার্টির ইলিং সাউথল আসনে পুনরায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কৃতি সন্তান ইব্রাহিম ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশনে যাত্রীসেবায় জেলা পরিষদের উদ্যোগ, বসানো হবে ২০টি ফ্যান ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা সরাইলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে যাত্রীবাহী বাস, নিহত ৪; আহত অন্তত ১০ ঢোলভাঙ্গায় পানি নেই, আছে দূষন,দখল আর আবর্জনা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযান সাত মাসের অপেক্ষার অবসান, ফিরলেন না মানুষটি, ফিরল শুধু নিথর দেহ জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ ইউএনও নির্বাচিত হলেন আশুগঞ্জের রাফে মোহাম্মদ ছড়া

বন্যার পানিতে ডুবেছে ফসল, দিশেহারা কৃষক—নাসিরনগরে বাড়ছে ক্ষতির পরিমাণ

আজকের ব্রাহ্মণবাড়িয়া রিপোর্ট:
  • আপডেট সময় : ০৭:৩১:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬
  • / ৭৯ বার পড়া হয়েছে

অবিরাম বৃষ্টিপাতের ফলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার হাওরাঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখা দিয়েছে। অতিরিক্ত পানির চাপে প্রায় ৩০০ হেক্টর জমির বোরো ধান তলিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ। এতে অন্তত আট শতাধিক কৃষক সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মধ্যে গোয়ালনগর এলাকায় ক্ষতির মাত্রা সবচেয়ে বেশি। সোনাতলা, ঝামারবালি ও কদমতলীসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ হাওরে ধানক্ষেত পানির নিচে চলে গেছে। কোথাও কোথাও কাটা ধান জমিতেই পড়ে থেকে বৃষ্টির পানিতে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, যা কৃষকদের জন্য বাড়তি দুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ১৭ হাজার ৯৮২ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছে, যেখানে প্রায় ৫৫ হাজার কৃষক যুক্ত রয়েছেন। সম্প্রতি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রাথমিকভাবে ২০০ জন কৃষকের নাম সংবলিত একটি তালিকা পাঠানো হয়েছে।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, ক্ষতির পরিমাণ বেশি হলেও অনেক ভুক্তভোগীর নাম এখনো তালিকায় ওঠেনি।

বিশেষ করে গোয়ালনগর ইউনিয়নের অনেক কৃষক বাদ পড়েছেন বলে দাবি তাদের। এ বিষয়ে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সময় স্বল্পতার কারণে সব এলাকায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি, তবে পরবর্তীতে তালিকা হালনাগাদ করা হবে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে হতাশা চরমে পৌঁছেছে। সোনাতলার এক কৃষক জানান, শ্রমিক নিয়ে ধান কাটতে গিয়ে পুরো জমি পানির নিচে ডুবে থাকতে দেখে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। একই সময়ে পাশের একটি গ্রামে ধান কাটতে গিয়ে জমি ডুবে থাকতে দেখে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।

কৃষকদের অনেকে জানান, ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করলেও এখন ফসল হারিয়ে তারা চরম অনিশ্চয়তার মুখে। লক্ষ্মীপুর গ্রামের এক কৃষক বলেন, ঋণের কিস্তি পরিশোধ করা এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। উৎপাদিত ধান ঘরে তুলতে না পারায় সংসার চালানোই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান হোসাইন বলেন, ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র নিরূপণে কাজ চলছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

বন্যার পানিতে ডুবেছে ফসল, দিশেহারা কৃষক—নাসিরনগরে বাড়ছে ক্ষতির পরিমাণ

আপডেট সময় : ০৭:৩১:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬

অবিরাম বৃষ্টিপাতের ফলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার হাওরাঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখা দিয়েছে। অতিরিক্ত পানির চাপে প্রায় ৩০০ হেক্টর জমির বোরো ধান তলিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ। এতে অন্তত আট শতাধিক কৃষক সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মধ্যে গোয়ালনগর এলাকায় ক্ষতির মাত্রা সবচেয়ে বেশি। সোনাতলা, ঝামারবালি ও কদমতলীসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ হাওরে ধানক্ষেত পানির নিচে চলে গেছে। কোথাও কোথাও কাটা ধান জমিতেই পড়ে থেকে বৃষ্টির পানিতে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, যা কৃষকদের জন্য বাড়তি দুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ১৭ হাজার ৯৮২ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছে, যেখানে প্রায় ৫৫ হাজার কৃষক যুক্ত রয়েছেন। সম্প্রতি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রাথমিকভাবে ২০০ জন কৃষকের নাম সংবলিত একটি তালিকা পাঠানো হয়েছে।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, ক্ষতির পরিমাণ বেশি হলেও অনেক ভুক্তভোগীর নাম এখনো তালিকায় ওঠেনি।

বিশেষ করে গোয়ালনগর ইউনিয়নের অনেক কৃষক বাদ পড়েছেন বলে দাবি তাদের। এ বিষয়ে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সময় স্বল্পতার কারণে সব এলাকায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি, তবে পরবর্তীতে তালিকা হালনাগাদ করা হবে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে হতাশা চরমে পৌঁছেছে। সোনাতলার এক কৃষক জানান, শ্রমিক নিয়ে ধান কাটতে গিয়ে পুরো জমি পানির নিচে ডুবে থাকতে দেখে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। একই সময়ে পাশের একটি গ্রামে ধান কাটতে গিয়ে জমি ডুবে থাকতে দেখে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।

কৃষকদের অনেকে জানান, ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করলেও এখন ফসল হারিয়ে তারা চরম অনিশ্চয়তার মুখে। লক্ষ্মীপুর গ্রামের এক কৃষক বলেন, ঋণের কিস্তি পরিশোধ করা এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। উৎপাদিত ধান ঘরে তুলতে না পারায় সংসার চালানোই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান হোসাইন বলেন, ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র নিরূপণে কাজ চলছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।