ঢাকা ০৩:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিজয়নগর মডেল প্রেসক্লাবের কমিটি গঠন সভাপতি মাইনুদ্দিন রুবেল,সাধারণ সম্পাদক এস এম টিপু চৌধুরী পলিথিন বর্জনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জেলা পরিষদ প্রশাসকের সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেড ক্রিসেন্ট নির্বাচনে শাহীন ভাইস চেয়ারম্যান, মিজানুর রহমান সেক্রেটারি বণিকপাড়ার সড়কে জলাবদ্ধতা, দুর্গন্ধযুক্ত পানিতে চরম দুর্ভোগে এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা জেলা পরিষদ প্রশাসককে নোঙর বাংলাদেশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার ফুলেল শুভেচ্ছা আনন্দ মিছিল মৎস্য অবমুক্তকরণ ও বৃক্ষরোপণে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী নদী-প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষায় নোঙর বাংলাদেশের কার্যক্রমকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল এমপির বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শিক্ষার্থীদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ গ্যাস সংকটে বন্ধ সার কারখানা চালুর দাবিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মানববন্দন ও বিক্ষোভ দুই বছর পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১২ সেপ্টেম্বর নৌকাবাইচ

বন্যার পানিতে ডুবেছে ফসল, দিশেহারা কৃষক—নাসিরনগরে বাড়ছে ক্ষতির পরিমাণ

আজকের ব্রাহ্মণবাড়িয়া রিপোর্ট:
  • আপডেট সময় : ০৭:৩১:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬
  • / ২০১ বার পড়া হয়েছে

অবিরাম বৃষ্টিপাতের ফলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার হাওরাঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখা দিয়েছে। অতিরিক্ত পানির চাপে প্রায় ৩০০ হেক্টর জমির বোরো ধান তলিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ। এতে অন্তত আট শতাধিক কৃষক সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মধ্যে গোয়ালনগর এলাকায় ক্ষতির মাত্রা সবচেয়ে বেশি। সোনাতলা, ঝামারবালি ও কদমতলীসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ হাওরে ধানক্ষেত পানির নিচে চলে গেছে। কোথাও কোথাও কাটা ধান জমিতেই পড়ে থেকে বৃষ্টির পানিতে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, যা কৃষকদের জন্য বাড়তি দুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ১৭ হাজার ৯৮২ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছে, যেখানে প্রায় ৫৫ হাজার কৃষক যুক্ত রয়েছেন। সম্প্রতি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রাথমিকভাবে ২০০ জন কৃষকের নাম সংবলিত একটি তালিকা পাঠানো হয়েছে।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, ক্ষতির পরিমাণ বেশি হলেও অনেক ভুক্তভোগীর নাম এখনো তালিকায় ওঠেনি।

বিশেষ করে গোয়ালনগর ইউনিয়নের অনেক কৃষক বাদ পড়েছেন বলে দাবি তাদের। এ বিষয়ে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সময় স্বল্পতার কারণে সব এলাকায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি, তবে পরবর্তীতে তালিকা হালনাগাদ করা হবে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে হতাশা চরমে পৌঁছেছে। সোনাতলার এক কৃষক জানান, শ্রমিক নিয়ে ধান কাটতে গিয়ে পুরো জমি পানির নিচে ডুবে থাকতে দেখে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। একই সময়ে পাশের একটি গ্রামে ধান কাটতে গিয়ে জমি ডুবে থাকতে দেখে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।

কৃষকদের অনেকে জানান, ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করলেও এখন ফসল হারিয়ে তারা চরম অনিশ্চয়তার মুখে। লক্ষ্মীপুর গ্রামের এক কৃষক বলেন, ঋণের কিস্তি পরিশোধ করা এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। উৎপাদিত ধান ঘরে তুলতে না পারায় সংসার চালানোই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান হোসাইন বলেন, ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র নিরূপণে কাজ চলছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

বন্যার পানিতে ডুবেছে ফসল, দিশেহারা কৃষক—নাসিরনগরে বাড়ছে ক্ষতির পরিমাণ

আপডেট সময় : ০৭:৩১:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬

অবিরাম বৃষ্টিপাতের ফলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার হাওরাঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখা দিয়েছে। অতিরিক্ত পানির চাপে প্রায় ৩০০ হেক্টর জমির বোরো ধান তলিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ। এতে অন্তত আট শতাধিক কৃষক সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মধ্যে গোয়ালনগর এলাকায় ক্ষতির মাত্রা সবচেয়ে বেশি। সোনাতলা, ঝামারবালি ও কদমতলীসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ হাওরে ধানক্ষেত পানির নিচে চলে গেছে। কোথাও কোথাও কাটা ধান জমিতেই পড়ে থেকে বৃষ্টির পানিতে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, যা কৃষকদের জন্য বাড়তি দুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ১৭ হাজার ৯৮২ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছে, যেখানে প্রায় ৫৫ হাজার কৃষক যুক্ত রয়েছেন। সম্প্রতি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রাথমিকভাবে ২০০ জন কৃষকের নাম সংবলিত একটি তালিকা পাঠানো হয়েছে।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, ক্ষতির পরিমাণ বেশি হলেও অনেক ভুক্তভোগীর নাম এখনো তালিকায় ওঠেনি।

বিশেষ করে গোয়ালনগর ইউনিয়নের অনেক কৃষক বাদ পড়েছেন বলে দাবি তাদের। এ বিষয়ে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সময় স্বল্পতার কারণে সব এলাকায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি, তবে পরবর্তীতে তালিকা হালনাগাদ করা হবে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে হতাশা চরমে পৌঁছেছে। সোনাতলার এক কৃষক জানান, শ্রমিক নিয়ে ধান কাটতে গিয়ে পুরো জমি পানির নিচে ডুবে থাকতে দেখে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। একই সময়ে পাশের একটি গ্রামে ধান কাটতে গিয়ে জমি ডুবে থাকতে দেখে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।

কৃষকদের অনেকে জানান, ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করলেও এখন ফসল হারিয়ে তারা চরম অনিশ্চয়তার মুখে। লক্ষ্মীপুর গ্রামের এক কৃষক বলেন, ঋণের কিস্তি পরিশোধ করা এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। উৎপাদিত ধান ঘরে তুলতে না পারায় সংসার চালানোই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান হোসাইন বলেন, ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র নিরূপণে কাজ চলছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।