আমাদের মূল উদ্দেশ্য কৃষকদের আমরা ন্যায্য মূল্য দিতে চাই- নাসিরনগরে কৃষিমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ০৪:২১:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬
- / ৪৭ বার পড়া হয়েছে
কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, কৃষকদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। দেশের অধিকাংশ মানুষ কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত উল্লেখ করে তিনি বলেন, কৃষকেরা কষ্ট করে ফসল উৎপাদন করেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগে সেই ফসল নষ্ট হলে কৃষকদের দুর্ভোগ বাড়ে। তাই কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে সরকার বিভিন্নমুখী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।
শনিবার (৯ মে) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে মেদির হাওর পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে জেলা পর্যায়ে কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে ইউনিয়ন পর্যায়েও সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এজন্য মাইকিংসহ বিভিন্ন প্রচারণার মাধ্যমে কৃষকদের অবহিত করা হবে। সরকার চায় কৃষকেরা যেন তাদের উৎপাদিত ধানের সঠিক মূল্য পান।
হাওরাঞ্চলের সড়ক নির্মাণের কারণে পানিপ্রবাহে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি কাজ করছে বলেও জানান তিনি। কোথাও সমস্যা পাওয়া গেলে দ্রুত সমাধানের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন মন্ত্রী।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য এম এ হান্নান, জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ, নাসিরনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান হোসাইনসহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা।
পরে বিকেলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে ৩০ কেজি করে চাল বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন মন্ত্রী।
এদিকে কয়েকদিন ধরে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং ভারি বৃষ্টিপাত না হওয়ায় মেদির হাওরসহ বিভিন্ন হাওর এলাকার পানি কিছুটা কমেছে। পানির নিচে থাকা ধানি জমি এখন দৃশ্যমান হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। অনুকূল আবহাওয়ায় কৃষকরা কাটা ধান শুকানোর সুযোগ পাচ্ছেন। তবে এখনও অনেক জমি পানির নিচে থাকায় ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়ে গেছে। এতে কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ ও হতাশা বিরাজ করছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ৫০০ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, চলতি বোরো মৌসুমে নাসিরনগর উপজেলার হাওরাঞ্চলে প্রায় ১১ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আকস্মিক ঢলের পানিতে প্রায় ৩০৫ হেক্টর জমির ধান তলিয়ে গেছে। এতে প্রায় ১৩ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে স্থানীয় কৃষকদের দাবি, প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ সরকারি হিসাবের চেয়েও বেশি।
সংবাদটি শেয়ার করুন























