ঢাকা ১১:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ ইউএনও নির্বাচিত হলেন আশুগঞ্জের রাফে মোহাম্মদ ছড়া  আখাউড়ায় সাংবাদিকদের সাথে মেয়র প্রার্থী মিশনের মতবিনিময় জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকীতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিএনপির দোয়া মাহফিল ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ ঈদের দিনেও মানবতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো বাতিঘর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ফের নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে আলোচনা জেলা পরিষদর প্রশাসক  আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম সিরাজ এর ঈদ শুভেচ্ছা শাহ্ মোঃ ইব্রাহিম মিয়ার পক্ষ থেকে ঈদ মোবারক লন্ডনে কবীর আহমেদ ভূঁইয়ার জন্মদিন পালন, দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে নেতাকর্মীদের মিলনমেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সেপটিক ট্যাংকে নেমে চার শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার নিয়ে প্রেস ব্রিফিং

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুই সমাজের সংঘর্ষে নিহত ২, আহত শতাধিক

নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)প্রতিনিধি :
  • আপডেট সময় : ১২:২৮:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬
  • / ১২৬ বার পড়া হয়েছে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার গোয়ালনগর ইউনিয়নে দুই সমাজের দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নারী, পুরুষ ও শিশুসহ শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চৌরা সমাজ ও হোনারো সমাজের মধ্যে রমজানের শুরু থেকেই উত্তেজনা বিরাজ করছিল। জাতীয় নির্বাচনের পর থেকে এই উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সকাল আনুমানিক ১০টা ৩০ মিনিটে কয়েকটি গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে থেমে থেমে চলা এই সংঘর্ষ বেলা ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সংঘর্ষের তীব্রতা ও বিস্তৃতি বাড়তে থাকে এবং আশপাশের অন্তত সাতটি গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে। লালুয়ারটুকু, দক্ষিণদিয়া, শিবপুর, জামারবালি, মাইজখোলা ও কদমতলী গ্রামের লোকজনও এতে জড়িয়ে পড়ে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে রয়েছেন চৌরা সমাজের মাওলানা হাবীবুর রহমান (৪০), এবং হোনারো সমাজের আক্তার হোসেন (৫০)।
আহতদের নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, অষ্টগ্রাম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, আগে থেকেই সংঘর্ষের আশঙ্কা থাকলেও সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে এমন মর্মান্তিক ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতো।

গোয়ালনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজহারুল হক চৌধুরী জানান, “দীর্ঘদিন ধরে দুই সমাজের মধ্যে বিরোধ চলছিল এবং তা মীমাংসার চেষ্টা করা হচ্ছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং উভয় পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।”

নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুল ইসলাম বলেন, “পূর্বের বিরোধের জেরে সকালে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে দুইজন নিহত হয়েছেন। একজনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং অন্যজনের মরদেহ পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে।”

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুই সমাজের সংঘর্ষে নিহত ২, আহত শতাধিক

আপডেট সময় : ১২:২৮:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার গোয়ালনগর ইউনিয়নে দুই সমাজের দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নারী, পুরুষ ও শিশুসহ শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চৌরা সমাজ ও হোনারো সমাজের মধ্যে রমজানের শুরু থেকেই উত্তেজনা বিরাজ করছিল। জাতীয় নির্বাচনের পর থেকে এই উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সকাল আনুমানিক ১০টা ৩০ মিনিটে কয়েকটি গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে থেমে থেমে চলা এই সংঘর্ষ বেলা ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সংঘর্ষের তীব্রতা ও বিস্তৃতি বাড়তে থাকে এবং আশপাশের অন্তত সাতটি গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে। লালুয়ারটুকু, দক্ষিণদিয়া, শিবপুর, জামারবালি, মাইজখোলা ও কদমতলী গ্রামের লোকজনও এতে জড়িয়ে পড়ে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে রয়েছেন চৌরা সমাজের মাওলানা হাবীবুর রহমান (৪০), এবং হোনারো সমাজের আক্তার হোসেন (৫০)।
আহতদের নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, অষ্টগ্রাম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, আগে থেকেই সংঘর্ষের আশঙ্কা থাকলেও সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে এমন মর্মান্তিক ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতো।

গোয়ালনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজহারুল হক চৌধুরী জানান, “দীর্ঘদিন ধরে দুই সমাজের মধ্যে বিরোধ চলছিল এবং তা মীমাংসার চেষ্টা করা হচ্ছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং উভয় পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।”

নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুল ইসলাম বলেন, “পূর্বের বিরোধের জেরে সকালে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে দুইজন নিহত হয়েছেন। একজনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং অন্যজনের মরদেহ পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে।”