ঢাকা ০৭:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাঞ্ছারামপুরে সাড়ে ৩ লাখ মানুষের ৩০ টি কমিউনিটি ক্লিনিক চলছে জোড়াতালি দিয়ে।। পরিত্যক্ত ভবনে চলে মাদকসেবন কসবায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে ১২০ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার আখাউড়ায় ৪ মাসপর জামিন মিললো মানসিক ভারসাম্যহীন তিন সন্তানের জননীর। বিজয়নগরে কিশোরীর বিয়ে নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ১০ সরাইল থানার ওসির সঙ্গে রুমিন ফারহানার বাদানুবাদ, পুলিশের জিডি সাংবাদিকদের গাড়ি আটকে ইজারার নামে যুবদল নেতার চাঁদা আদায়ের চেষ্টা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ, ভিডিও ভাইরাল মণ্ডপে শোভিত প্রতিমা, কানে কানে উৎসব পৌঁছে দিচ্ছে ঢাক সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নজরুলের বাড়িতে শোকের মাতম ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি মডেল গার্লস হাই স্কুলের ছয়তলা ভবন উদ্বোধন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুই সমাজের সংঘর্ষে নিহত ২, আহত শতাধিক

নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)প্রতিনিধি :
  • আপডেট সময় : ১২:২৮:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬
  • / ২৭২ বার পড়া হয়েছে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার গোয়ালনগর ইউনিয়নে দুই সমাজের দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নারী, পুরুষ ও শিশুসহ শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চৌরা সমাজ ও হোনারো সমাজের মধ্যে রমজানের শুরু থেকেই উত্তেজনা বিরাজ করছিল। জাতীয় নির্বাচনের পর থেকে এই উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সকাল আনুমানিক ১০টা ৩০ মিনিটে কয়েকটি গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে থেমে থেমে চলা এই সংঘর্ষ বেলা ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সংঘর্ষের তীব্রতা ও বিস্তৃতি বাড়তে থাকে এবং আশপাশের অন্তত সাতটি গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে। লালুয়ারটুকু, দক্ষিণদিয়া, শিবপুর, জামারবালি, মাইজখোলা ও কদমতলী গ্রামের লোকজনও এতে জড়িয়ে পড়ে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে রয়েছেন চৌরা সমাজের মাওলানা হাবীবুর রহমান (৪০), এবং হোনারো সমাজের আক্তার হোসেন (৫০)।
আহতদের নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, অষ্টগ্রাম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, আগে থেকেই সংঘর্ষের আশঙ্কা থাকলেও সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে এমন মর্মান্তিক ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতো।

গোয়ালনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজহারুল হক চৌধুরী জানান, “দীর্ঘদিন ধরে দুই সমাজের মধ্যে বিরোধ চলছিল এবং তা মীমাংসার চেষ্টা করা হচ্ছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং উভয় পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।”

নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুল ইসলাম বলেন, “পূর্বের বিরোধের জেরে সকালে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে দুইজন নিহত হয়েছেন। একজনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং অন্যজনের মরদেহ পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে।”

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুই সমাজের সংঘর্ষে নিহত ২, আহত শতাধিক

আপডেট সময় : ১২:২৮:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার গোয়ালনগর ইউনিয়নে দুই সমাজের দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নারী, পুরুষ ও শিশুসহ শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চৌরা সমাজ ও হোনারো সমাজের মধ্যে রমজানের শুরু থেকেই উত্তেজনা বিরাজ করছিল। জাতীয় নির্বাচনের পর থেকে এই উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সকাল আনুমানিক ১০টা ৩০ মিনিটে কয়েকটি গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে থেমে থেমে চলা এই সংঘর্ষ বেলা ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সংঘর্ষের তীব্রতা ও বিস্তৃতি বাড়তে থাকে এবং আশপাশের অন্তত সাতটি গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে। লালুয়ারটুকু, দক্ষিণদিয়া, শিবপুর, জামারবালি, মাইজখোলা ও কদমতলী গ্রামের লোকজনও এতে জড়িয়ে পড়ে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে রয়েছেন চৌরা সমাজের মাওলানা হাবীবুর রহমান (৪০), এবং হোনারো সমাজের আক্তার হোসেন (৫০)।
আহতদের নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, অষ্টগ্রাম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, আগে থেকেই সংঘর্ষের আশঙ্কা থাকলেও সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে এমন মর্মান্তিক ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতো।

গোয়ালনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজহারুল হক চৌধুরী জানান, “দীর্ঘদিন ধরে দুই সমাজের মধ্যে বিরোধ চলছিল এবং তা মীমাংসার চেষ্টা করা হচ্ছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং উভয় পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।”

নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুল ইসলাম বলেন, “পূর্বের বিরোধের জেরে সকালে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে দুইজন নিহত হয়েছেন। একজনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং অন্যজনের মরদেহ পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে।”