ঢাকা ০৩:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মাদক-চাঁদাবাজ মুক্ত রাজশাহী গড়ছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সন্তান পুলিশ কমিশনার ফয়েজুল কবির নবাগত পুলিশ সুপারের সাথে সাংবাদিকদের মতবিনিময় বাঞ্ছারামপুরে সাড়ে ৩ লাখ মানুষের ৩০ টি কমিউনিটি ক্লিনিক চলছে জোড়াতালি দিয়ে।। পরিত্যক্ত ভবনে চলে মাদকসেবন কসবায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে ১২০ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার আখাউড়ায় ৪ মাসপর জামিন মিললো মানসিক ভারসাম্যহীন তিন সন্তানের জননীর। বিজয়নগরে কিশোরীর বিয়ে নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ১০ সরাইল থানার ওসির সঙ্গে রুমিন ফারহানার বাদানুবাদ, পুলিশের জিডি সাংবাদিকদের গাড়ি আটকে ইজারার নামে যুবদল নেতার চাঁদা আদায়ের চেষ্টা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ, ভিডিও ভাইরাল মণ্ডপে শোভিত প্রতিমা, কানে কানে উৎসব পৌঁছে দিচ্ছে ঢাক

আখাউড়ায় নববধূ খুন করলো স্বামীকে

স্টাফ রিপোর্টার:
  • আপডেট সময় : ১২:৪০:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ মে ২০২৫
  • / ৩৫১ বার পড়া হয়েছে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় বিয়ের মাত্র আট দিনের মাথায় স্বামী মেহেদী হাসানকে (২৭) খুনের অভিযোগ উঠেছে স্ত্রীর বিরুদ্ধে। শুক্রবার দিনগত রাতে পৌর শহরের মসজিদপাড়ায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত মেহেদী হাসান ওই এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হোসেনের বাড়ির ভাড়াটিয়া ছিলেন।

ঘটনার পর পুলিশ তার স্ত্রী জান্নাত আক্তারকে (১৮) আটক করেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে স্বামী হত্যার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিহত মেহেদী হাসান কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার মৃত জলফু মিয়ার ছেলে। দীর্ঘ ২০-২৫ বছর ধরে তিনি মাকে নিয়ে মসজিদপাড়ায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন।

পুলিশ ও নিহতের পরিবারের বরাতে জানা গেছে, চলতি বছরের ৯ মে মেহেদী হাসানের সঙ্গে একই এলাকার আল আমিনের মেয়ে জান্নাত আক্তারের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। শুক্রবার রাত ১০টার দিকে মেহেদী রাতের খাবার শেষে ঘুমিয়ে পড়েন।

পরে ভোররাতে জান্নাত বাড়ির মালিককে ডেকে জানান, তার স্বামী অসুস্থ। বাড়ির মালিকসহ প্রতিবেশীরা গিয়ে মেহেদীকে ঘরের মেঝেতে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তাকে আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের পরিবারের দাবি, বিয়ের আগ থেকেই জান্নাতের এক যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং বিয়ের পরও তা চলমান ছিল। সেই সম্পর্কের জেরেই সে স্বামীকে হত্যা করেছে।

মেহেদীর মা বকুল বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আট দিন হলো ছেলের বিয়ে দিয়েছি। কিন্তু বউয়ের আগেই প্রেম ছিল। সেই সম্পর্কের কারণেই আমার ছেলেকে হত্যা করেছে। আমি এর বিচার চাই। হত্যার দায়ে তার ফাঁসি চাই।”

নিহতের বড় ভাই আবুল কালাম বলেন, “আমার ভাই স্থানীয় একটি ওষুধের দোকানে চাকরি করত। খুব শান্ত স্বভাবের ছিল। তার স্ত্রী ঘুমের ট্যাবলেট খাইয়ে তাকে অচেতন করে বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করেছে।”

আখাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ ছমিউদ্দিন বলেন, “প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জান্নাত আক্তার স্বামীর হত্যার কথা স্বীকার করেছে। বিয়ের আগে তার অন্য এক ছেলের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিয়ের পর স্বামীর প্রতি বিরূপ আচরণ করতে থাকে। শুক্রবার রাতে ঘুম না আসার কথা বলে স্বামীকে দিয়ে ঘুমের ট্যাবলেট আনিয়ে কোকের সঙ্গে ৬টি ট্যাবলেট মিশিয়ে খাওয়ায়। পরে তাকে বালিশচাপা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে।”

পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আখাউড়ায় নববধূ খুন করলো স্বামীকে

আপডেট সময় : ১২:৪০:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ মে ২০২৫

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় বিয়ের মাত্র আট দিনের মাথায় স্বামী মেহেদী হাসানকে (২৭) খুনের অভিযোগ উঠেছে স্ত্রীর বিরুদ্ধে। শুক্রবার দিনগত রাতে পৌর শহরের মসজিদপাড়ায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত মেহেদী হাসান ওই এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হোসেনের বাড়ির ভাড়াটিয়া ছিলেন।

ঘটনার পর পুলিশ তার স্ত্রী জান্নাত আক্তারকে (১৮) আটক করেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে স্বামী হত্যার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিহত মেহেদী হাসান কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার মৃত জলফু মিয়ার ছেলে। দীর্ঘ ২০-২৫ বছর ধরে তিনি মাকে নিয়ে মসজিদপাড়ায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন।

পুলিশ ও নিহতের পরিবারের বরাতে জানা গেছে, চলতি বছরের ৯ মে মেহেদী হাসানের সঙ্গে একই এলাকার আল আমিনের মেয়ে জান্নাত আক্তারের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। শুক্রবার রাত ১০টার দিকে মেহেদী রাতের খাবার শেষে ঘুমিয়ে পড়েন।

পরে ভোররাতে জান্নাত বাড়ির মালিককে ডেকে জানান, তার স্বামী অসুস্থ। বাড়ির মালিকসহ প্রতিবেশীরা গিয়ে মেহেদীকে ঘরের মেঝেতে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তাকে আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের পরিবারের দাবি, বিয়ের আগ থেকেই জান্নাতের এক যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং বিয়ের পরও তা চলমান ছিল। সেই সম্পর্কের জেরেই সে স্বামীকে হত্যা করেছে।

মেহেদীর মা বকুল বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আট দিন হলো ছেলের বিয়ে দিয়েছি। কিন্তু বউয়ের আগেই প্রেম ছিল। সেই সম্পর্কের কারণেই আমার ছেলেকে হত্যা করেছে। আমি এর বিচার চাই। হত্যার দায়ে তার ফাঁসি চাই।”

নিহতের বড় ভাই আবুল কালাম বলেন, “আমার ভাই স্থানীয় একটি ওষুধের দোকানে চাকরি করত। খুব শান্ত স্বভাবের ছিল। তার স্ত্রী ঘুমের ট্যাবলেট খাইয়ে তাকে অচেতন করে বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করেছে।”

আখাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ ছমিউদ্দিন বলেন, “প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জান্নাত আক্তার স্বামীর হত্যার কথা স্বীকার করেছে। বিয়ের আগে তার অন্য এক ছেলের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিয়ের পর স্বামীর প্রতি বিরূপ আচরণ করতে থাকে। শুক্রবার রাতে ঘুম না আসার কথা বলে স্বামীকে দিয়ে ঘুমের ট্যাবলেট আনিয়ে কোকের সঙ্গে ৬টি ট্যাবলেট মিশিয়ে খাওয়ায়। পরে তাকে বালিশচাপা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে।”

পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।