ঢাকা ১১:২০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাড়ি ফেরার পথে অপহরণের শিকার ডুয়েট শিক্ষার্থী নাহিদ।। মুক্তিপণ আদায়ের পর মুক্ত  ব্রাহ্মণবাড়িয়া পাসপোর্ট অফিসে জেলা পরিষদ প্রশাসকের আকস্মিক পরিদর্শন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নানা অনিয়মের দায়ে অচি মেমোরিয়াল ও পদ্মা মা ও শিশু হাসপাতালকে ৪ লাখ টাকা জরিমানা হাইকোর্টের নির্দেশে বন্ধ হলো বহুতল ভবনের নির্মাণকাজ ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৬৫টি কচ্ছপ উদ্ধার, সালদানদীতে অবমুক্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কাজীপাড়ায় মাদকবিরোধী সমাবেশ সফল করতে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত নদী-খাল-বিলে মাছ রক্ষায় অবৈধ রিংজাল বন্ধে সচেতনতার আহ্বান জেলা পরিষদ প্রশাসক সিরাজুল ইসলামের এফ এ টাওয়ারের অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীকে জেলা পরিষদের আর্থিক অনুদান প্রদান ঢেউ’র আহবায়ক সোহেল সদস্য সচিব আইফাত  তিতাস তীরের কৃষিজমি ও জলাশয় দখলমুক্তে উচ্ছেদ অভিযান

ইন্দুরকানীতে নিজ বাড়ির উঠানে ইউপি সদস্য ও ভাবিকে কুপিয়ে হত্যা

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:২৯:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ জুন ২০২৫
  • / ৩৪৫ বার পড়া হয়েছে

ছবি সংগৃহিত

পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলায় নিজ বাড়ির উঠানে ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম হাওলাদার (৫০) ও তার ভাবি মুকুল বেগমকে (৪৫) কুপিয়ে হত্যা এবং স্ত্রী রেহেনা বেগমকে (৪২) মারাত্মকভাবে আহত করেছে দুর্বৃত্তরা।

শুক্রবার (২৭ জুন) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার পশ্চিম চর বলেশ্বর গ্রামে এ নৃশংস ঘটনা ঘটে।

শনিবার সকালে নিহত শহিদুল ইসলামের ভাই মর্তুজা হাওলাদার বাদী হয়ে ইন্দুরকানী থানায় ৬ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ২ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ রফিকুল ইসলাম নামে একজনকে আটক করেছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা রেহেনা বেগমকে প্রথমে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য শনিবার দুপুরে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম রাতে ঘরে নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে বাড়ির পাশের পুকুর পাড়ে গিয়ে মোবাইলে কথা বলছিলেন এবং এ সময় মাছের খাবার দিচ্ছিলেন। তখন ওত পেতে থাকা ৫ থেকে ৬ জনের একটি দল ধারালো অস্ত্র নিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তারা শহিদুলকে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করে।

শহিদুলের ছোট মেয়ে সুমনা ইসলাম তোহা তখন বাবার সঙ্গে ছিলেন। পিতাকে বাঁচাতে গেলে তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় দুর্বৃত্তরা।

স্বামী ও মেয়ের চিৎকার শুনে ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন শহিদুলের স্ত্রী রেহেনা বেগম। তাকেও কুপিয়ে আহত করে বাড়ির উঠানে ফেলে রাখে দুর্বৃত্তরা।

 

পরে শহিদুলের ভাবি মুকুল বেগম বাইরে বেরিয়ে এলে তাকেও কুপিয়ে রাস্তায় ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা।

পরে স্থানীয় লোকজন তিনজনকে বাড়ির উঠানে কাদা পানির মধ্যে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম ও তার ভাবি মুকুল বেগমের।

গুরুতর আহত রেহেনা বেগমকে প্রথমে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে ও পরে খুলনায় নেওয়া হয়।

নিহত শহিদুল ইসলাম চন্ডিপুর ইউনিয়নের পশ্চিম চর বলেশ্বর ২ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য এবং উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক আহ্বায়ক ছিলেন। তিনি মৃত মোসলেম আলী হাওলাদারের ছেলে।

তার বড় ভাই মোস্তাফিজুর রহমান হাওলাদার ছিলেন চন্ডিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি এবং মেজ ভাই মনিরুজ্জামান সেলিম বর্তমানে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

নিহত শহিদুলের শ্যালক মিজান মাঝি মোবাইলে বলেন, সরকার পরিবর্তনের পর আমার দুলাভাই তিনটি রাজনৈতিক মামলায় পুলিশের হাতে আটক হয়ে কারাবাস করেন। কয়েক মাস আগে কোর্ট থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে বাড়ি ফিরে আসেন। হঠাৎ করে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটবে, তা কল্পনাও করতে পারিনি।

 

তিনি বলেন, রাতে বেশ কয়েকজন লোক এসে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। দুলাভাই ও ভাবিকে কুপিয়ে হত্যা করে এবং আমার বোনকেও মেরে ফেলার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করে।

নিহত শহিদুলের ভাই মর্তুজা হাওলাদার বলেন, আমার ভাই ও স্ত্রীর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের দ্রুত গ্রেফতার করে কঠোর বিচার চাই।

ইন্দুরকানী থানার ওসি মো. মারুফ হোসেন বলেন, শুক্রবার রাতে নিজ বাড়ির উঠানে ইউপি সদস্য ও তার ভাবিকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। ইউপি সদস্যের স্ত্রী রেহেনা বেগম গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

তিনি জানান, আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি, পারিবারিক বিরোধ অথবা পরকীয়া সন্দেহের জের ধরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে।

ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পিরোজপুর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাসরিন জাহান, ইন্দুরকানী থানার ওসি মো. মারুফ হোসেন এবং গোয়েন্দা বিভাগের সদস্যরা।

পরে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পিরোজপুর মর্গে পাঠানো হয়।

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

ইন্দুরকানীতে নিজ বাড়ির উঠানে ইউপি সদস্য ও ভাবিকে কুপিয়ে হত্যা

আপডেট সময় : ১১:২৯:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ জুন ২০২৫

পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলায় নিজ বাড়ির উঠানে ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম হাওলাদার (৫০) ও তার ভাবি মুকুল বেগমকে (৪৫) কুপিয়ে হত্যা এবং স্ত্রী রেহেনা বেগমকে (৪২) মারাত্মকভাবে আহত করেছে দুর্বৃত্তরা।

শুক্রবার (২৭ জুন) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার পশ্চিম চর বলেশ্বর গ্রামে এ নৃশংস ঘটনা ঘটে।

শনিবার সকালে নিহত শহিদুল ইসলামের ভাই মর্তুজা হাওলাদার বাদী হয়ে ইন্দুরকানী থানায় ৬ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ২ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ রফিকুল ইসলাম নামে একজনকে আটক করেছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা রেহেনা বেগমকে প্রথমে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য শনিবার দুপুরে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম রাতে ঘরে নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে বাড়ির পাশের পুকুর পাড়ে গিয়ে মোবাইলে কথা বলছিলেন এবং এ সময় মাছের খাবার দিচ্ছিলেন। তখন ওত পেতে থাকা ৫ থেকে ৬ জনের একটি দল ধারালো অস্ত্র নিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তারা শহিদুলকে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করে।

শহিদুলের ছোট মেয়ে সুমনা ইসলাম তোহা তখন বাবার সঙ্গে ছিলেন। পিতাকে বাঁচাতে গেলে তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় দুর্বৃত্তরা।

স্বামী ও মেয়ের চিৎকার শুনে ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন শহিদুলের স্ত্রী রেহেনা বেগম। তাকেও কুপিয়ে আহত করে বাড়ির উঠানে ফেলে রাখে দুর্বৃত্তরা।

 

পরে শহিদুলের ভাবি মুকুল বেগম বাইরে বেরিয়ে এলে তাকেও কুপিয়ে রাস্তায় ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা।

পরে স্থানীয় লোকজন তিনজনকে বাড়ির উঠানে কাদা পানির মধ্যে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম ও তার ভাবি মুকুল বেগমের।

গুরুতর আহত রেহেনা বেগমকে প্রথমে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে ও পরে খুলনায় নেওয়া হয়।

নিহত শহিদুল ইসলাম চন্ডিপুর ইউনিয়নের পশ্চিম চর বলেশ্বর ২ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য এবং উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক আহ্বায়ক ছিলেন। তিনি মৃত মোসলেম আলী হাওলাদারের ছেলে।

তার বড় ভাই মোস্তাফিজুর রহমান হাওলাদার ছিলেন চন্ডিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি এবং মেজ ভাই মনিরুজ্জামান সেলিম বর্তমানে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

নিহত শহিদুলের শ্যালক মিজান মাঝি মোবাইলে বলেন, সরকার পরিবর্তনের পর আমার দুলাভাই তিনটি রাজনৈতিক মামলায় পুলিশের হাতে আটক হয়ে কারাবাস করেন। কয়েক মাস আগে কোর্ট থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে বাড়ি ফিরে আসেন। হঠাৎ করে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটবে, তা কল্পনাও করতে পারিনি।

 

তিনি বলেন, রাতে বেশ কয়েকজন লোক এসে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। দুলাভাই ও ভাবিকে কুপিয়ে হত্যা করে এবং আমার বোনকেও মেরে ফেলার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করে।

নিহত শহিদুলের ভাই মর্তুজা হাওলাদার বলেন, আমার ভাই ও স্ত্রীর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের দ্রুত গ্রেফতার করে কঠোর বিচার চাই।

ইন্দুরকানী থানার ওসি মো. মারুফ হোসেন বলেন, শুক্রবার রাতে নিজ বাড়ির উঠানে ইউপি সদস্য ও তার ভাবিকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। ইউপি সদস্যের স্ত্রী রেহেনা বেগম গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

তিনি জানান, আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি, পারিবারিক বিরোধ অথবা পরকীয়া সন্দেহের জের ধরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে।

ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পিরোজপুর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাসরিন জাহান, ইন্দুরকানী থানার ওসি মো. মারুফ হোসেন এবং গোয়েন্দা বিভাগের সদস্যরা।

পরে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পিরোজপুর মর্গে পাঠানো হয়।