ঢাকা ০৬:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঢোলভাঙ্গায় পানি নেই, আছে দূষন,দখল আর আবর্জনা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযান সাত মাসের অপেক্ষার অবসান, ফিরলেন না মানুষটি, ফিরল শুধু নিথর দেহ জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ ইউএনও নির্বাচিত হলেন আশুগঞ্জের রাফে মোহাম্মদ ছড়া  আখাউড়ায় সাংবাদিকদের সাথে মেয়র প্রার্থী মিশনের মতবিনিময় জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকীতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিএনপির দোয়া মাহফিল ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ ঈদের দিনেও মানবতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো বাতিঘর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ফের নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে আলোচনা জেলা পরিষদর প্রশাসক  আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম সিরাজ এর ঈদ শুভেচ্ছা শাহ্ মোঃ ইব্রাহিম মিয়ার পক্ষ থেকে ঈদ মোবারক

গ্রামভিত্তিক মাদক ব্যবসায়ীর তালিকা, কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা প্রশাসনের

আজকের ব্রাহ্মণবাড়িয়া রিপোর্ট:
  • আপডেট সময় : ০২:০৫:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
  • / ১১৭ বার পড়া হয়েছে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদারে মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা প্রস্তুতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রবিবার (১২ এপ্রিল) দুপুরে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার শাহ মো. আবদুর রউফ। সভায় তার বক্তব্যে জেলার মাদক পরিস্থিতির উদ্বেগজনক চিত্র উঠে আসে।

তিনি জানান, মাদক ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করতে গিয়ে সীমান্তবর্তী বিজয়নগর উপজেলার সিঙ্গারবিল ইউনিয়নের একটি অংশে অন্তত ৬১টি মাদকস্পট শনাক্ত করা হয়েছে। সেখানে সহজেই ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক পাওয়া যায় বলেও উল্লেখ করেন তিনি। বিজয়নগরের পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, এলাকা, গ্রাম ও পাড়া-মহল্লাভিত্তিকভাবে তালিকা প্রণয়নের কাজ চলছে।

জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদের সভাপতিত্বে এবং অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এহসান মুরাদের সঞ্চালনায় আলোচনা হয়। এতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনের সংসদ সদস্য এম. এ. হান্নান বলেন, আগে নাসিরনগরের অবস্থা তুলনামূলক ভালো থাকলেও এখন এটি মাদক পাচারের রুটে পরিণত হচ্ছে। সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে বড় একটি গাঁজার চালান আটকের বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেন। মাদক প্রতিরোধে ইউনিয়ন পর্যায়ে সভা করার ওপর জোর দিয়ে তিনি ধরমন্ডল এলাকায় কার্যক্রম শুরু করার প্রস্তাব দেন।

সভায় জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মোবারক হোসাইন আকন্দ বলেন, শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তারের পর যাতে সহজে জামিন না পায়, সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি জহিরুল হক খোকন বলেন, কারা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত তা অনেকেই জানে, তবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াটাই বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, অতীতে রাজনৈতিকভাবে হয়রানিমূলক মামলা হয়েছে, কিন্তু প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধেও কঠোর পদক্ষেপ জরুরি। জামিনে বের হলে পুনরায় মামলা করার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পাবলিক প্রসিকিউটর ফখর উদ্দিন আহমেদ খান বলেন, প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে মাদক সংশ্লিষ্টদের চিহ্নিত করে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে এবং এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করা হবে।

এদিকে সভায় উপস্থাপিত অপরাধ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মার্চ মাসে জেলায় চাঁদাবাজি বা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেনি। তবে একটি ডাকাতি ও ১৫টি চুরির ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন ১৯ জন।

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

গ্রামভিত্তিক মাদক ব্যবসায়ীর তালিকা, কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা প্রশাসনের

আপডেট সময় : ০২:০৫:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদারে মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা প্রস্তুতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রবিবার (১২ এপ্রিল) দুপুরে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার শাহ মো. আবদুর রউফ। সভায় তার বক্তব্যে জেলার মাদক পরিস্থিতির উদ্বেগজনক চিত্র উঠে আসে।

তিনি জানান, মাদক ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করতে গিয়ে সীমান্তবর্তী বিজয়নগর উপজেলার সিঙ্গারবিল ইউনিয়নের একটি অংশে অন্তত ৬১টি মাদকস্পট শনাক্ত করা হয়েছে। সেখানে সহজেই ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক পাওয়া যায় বলেও উল্লেখ করেন তিনি। বিজয়নগরের পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, এলাকা, গ্রাম ও পাড়া-মহল্লাভিত্তিকভাবে তালিকা প্রণয়নের কাজ চলছে।

জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদের সভাপতিত্বে এবং অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এহসান মুরাদের সঞ্চালনায় আলোচনা হয়। এতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনের সংসদ সদস্য এম. এ. হান্নান বলেন, আগে নাসিরনগরের অবস্থা তুলনামূলক ভালো থাকলেও এখন এটি মাদক পাচারের রুটে পরিণত হচ্ছে। সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে বড় একটি গাঁজার চালান আটকের বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেন। মাদক প্রতিরোধে ইউনিয়ন পর্যায়ে সভা করার ওপর জোর দিয়ে তিনি ধরমন্ডল এলাকায় কার্যক্রম শুরু করার প্রস্তাব দেন।

সভায় জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মোবারক হোসাইন আকন্দ বলেন, শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তারের পর যাতে সহজে জামিন না পায়, সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি জহিরুল হক খোকন বলেন, কারা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত তা অনেকেই জানে, তবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াটাই বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, অতীতে রাজনৈতিকভাবে হয়রানিমূলক মামলা হয়েছে, কিন্তু প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধেও কঠোর পদক্ষেপ জরুরি। জামিনে বের হলে পুনরায় মামলা করার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পাবলিক প্রসিকিউটর ফখর উদ্দিন আহমেদ খান বলেন, প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে মাদক সংশ্লিষ্টদের চিহ্নিত করে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে এবং এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করা হবে।

এদিকে সভায় উপস্থাপিত অপরাধ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মার্চ মাসে জেলায় চাঁদাবাজি বা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেনি। তবে একটি ডাকাতি ও ১৫টি চুরির ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন ১৯ জন।