ঢাকা ০৩:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
পাবলিক লাইব্রেরিকে জ্ঞানচর্চার প্রাণকেন্দ্রে পরিণত করতে হবে — জেলা প্রশাসক মোঃ আবু সাঈদ মায়ের দল আওয়ামী লীগ, মেয়ের পথ বিএনপি।। মনোনয়ন ঘিরে কৌতূহল ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বৈশাখী উৎসবের সমাপনী: আবৃত্তি, সঙ্গীত ও আলোচনা সভায় সংস্কৃতিচর্চার আহ্বান টিকেট কালোবাজারি রোধে কঠোর পদক্ষেপের আশ্বাস দিলেন রেলওয়ে ফাঁড়ি ইনচার্জ শাহ আলম তিতাসে দেশের সর্বোচ্চ গভীর কূপ ‘তিতাস-৩১’ খনন শুরু, প্রতিদিন মিলবে ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পিবিআইয়ের চৌকস তদন্তে উন্মোচিত নিশাত হত্যা রহস্য: ‘ঘুরতে নেওয়ার প্রলোভন’, তারপর শ্বাসরোধে নৃশংস হত্যার চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিখোঁজের দুইদিন পর স্কুলছাত্রীর বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার জেলা পরিষদ প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম সিরাজের মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা প্রবর্তক একাডেমি ও ঢেউ আয়োজিত আনন্দ শোভাযাত্রা যেমন খুশি তেমন সাজে লোকজ পুরস্কার ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জেলা পরিষদ প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম সিরাজকে গণসংবর্ধনা

পিবিআইয়ের চৌকস তদন্তে উন্মোচিত নিশাত হত্যা রহস্য: ‘ঘুরতে নেওয়ার প্রলোভন’, তারপর শ্বাসরোধে নৃশংস হত্যার চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি

মো. আবু নাছের (রতন)
  • আপডেট সময় : ০৫:১৪:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
  • / ২২ বার পড়া হয়েছে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বহুল আলোচিত শিশু নিশাত (৬) হত্যাকাণ্ডে অবশেষে রহস্যের জট খুলেছে। পুলিশের পাশাপাশি পিবিআইয়ের (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) প্রযুক্তিনির্ভর ও সূক্ষ্ম তদন্তে চাঞ্চল্যকর এই হত্যার নেপথ্যের ভয়াবহ ঘটনা সামনে এসেছে। গ্রেপ্তার হওয়া আসামি মো. ইসহাক মিয়ার জবানবন্দিতে উঠে এসেছে শিহরণ জাগানো বর্ণনা, যা পুরো জেলাজুড়ে নতুন করে ক্ষোভ ও আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।

এদিকে খুনি গ্রেফতারের খবর জানাজানি হলে বিক্ষুব্ধ জনতা ইসহাকের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ এপ্রিল দুপুরে বাড়ির পাশের এলাকায় একা থাকা অবস্থায় নিশাতকে লক্ষ্য করে অভিযুক্ত। পরে কৌশলে ‘ঘুরতে যাওয়ার’ প্রলোভন দেখিয়ে তাকে সঙ্গে নেয়। দিনের বেলায় বিভিন্ন স্থানে ঘোরাঘুরির পর সন্ধ্যার দিকে শিশুটিকে নিজের বসতঘরে নিয়ে যায়।

জবানবন্দি অনুযায়ী, রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিশুটির ওপর অমানবিক আচরণ শুরু করে সে এবং তাকে জোরপূর্বক আটকে রাখার চেষ্টা চালায়। কিন্তু নিশাত কান্নাকাটি শুরু করলে এবং পরিবারকে জানিয়ে দেওয়ার হুমকি দিলে পরিস্থিতি তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

এ অবস্থায় ঘটনাটি ফাঁস হয়ে যাওয়ার ভয়ে এক ভয়ংকর সিদ্ধান্ত নেয় অভিযুক্ত। সে শিশুটির মুখ চেপে ধরে দীর্ঘ সময় শ্বাসরোধ করে হত্যা করে—এমনটাই স্বীকার করেছে জবানবন্দিতে।

হত্যার পর মরদেহ গুম করতে পরিকল্পিতভাবে পদক্ষেপ নেয় সে। প্রথমে নিজের ঘরে লাশ লুকিয়ে রাখে এবং পরদিন গভীর রাতে বস্তাবন্দি করে পার্শ্ববর্তী বিলে ফেলে দেয়, যাতে কেউ সহজে খুঁজে না পায়।

১৭ এপ্রিল দুপুরে স্থানীয় এক যুবক বাড়ির পাশে একটি সন্দেহজনক বস্তা দেখতে পেয়ে বিষয়টি জানালে পরে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পোশাক দেখে নিশাতকে শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় মুহূর্তেই এলাকায় নেমে আসে শোক ও ক্ষোভের ছায়া।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, শুরুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি সিসিটিভি ফুটেজ নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। অনেকেই ধারণা করেছিলেন, ফুটেজে দেখা শিশুটিই নিশাত। তবে পিবিআইয়ের নিবিড় যাচাই-বাছাই ও প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্লেষণে নিশ্চিত হওয়া যায়, সেটি ভিন্ন একটি শিশু। এই গুরুত্বপূর্ণ সূত্র থেকেই তদন্তের মোড় ঘুরে যায়।

পরবর্তীতে পিবিআই ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত অভিযানে প্রকৃত অপরাধীকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে জটিল এই মামলার রহস্য উদঘাটন পিবিআইয়ের একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য।

এদিকে এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, মামলার তদন্ত দ্রুত এগিয়ে চলছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

পিবিআইয়ের চৌকস তদন্তে উন্মোচিত নিশাত হত্যা রহস্য: ‘ঘুরতে নেওয়ার প্রলোভন’, তারপর শ্বাসরোধে নৃশংস হত্যার চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি

আপডেট সময় : ০৫:১৪:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বহুল আলোচিত শিশু নিশাত (৬) হত্যাকাণ্ডে অবশেষে রহস্যের জট খুলেছে। পুলিশের পাশাপাশি পিবিআইয়ের (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) প্রযুক্তিনির্ভর ও সূক্ষ্ম তদন্তে চাঞ্চল্যকর এই হত্যার নেপথ্যের ভয়াবহ ঘটনা সামনে এসেছে। গ্রেপ্তার হওয়া আসামি মো. ইসহাক মিয়ার জবানবন্দিতে উঠে এসেছে শিহরণ জাগানো বর্ণনা, যা পুরো জেলাজুড়ে নতুন করে ক্ষোভ ও আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।

এদিকে খুনি গ্রেফতারের খবর জানাজানি হলে বিক্ষুব্ধ জনতা ইসহাকের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ এপ্রিল দুপুরে বাড়ির পাশের এলাকায় একা থাকা অবস্থায় নিশাতকে লক্ষ্য করে অভিযুক্ত। পরে কৌশলে ‘ঘুরতে যাওয়ার’ প্রলোভন দেখিয়ে তাকে সঙ্গে নেয়। দিনের বেলায় বিভিন্ন স্থানে ঘোরাঘুরির পর সন্ধ্যার দিকে শিশুটিকে নিজের বসতঘরে নিয়ে যায়।

জবানবন্দি অনুযায়ী, রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিশুটির ওপর অমানবিক আচরণ শুরু করে সে এবং তাকে জোরপূর্বক আটকে রাখার চেষ্টা চালায়। কিন্তু নিশাত কান্নাকাটি শুরু করলে এবং পরিবারকে জানিয়ে দেওয়ার হুমকি দিলে পরিস্থিতি তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

এ অবস্থায় ঘটনাটি ফাঁস হয়ে যাওয়ার ভয়ে এক ভয়ংকর সিদ্ধান্ত নেয় অভিযুক্ত। সে শিশুটির মুখ চেপে ধরে দীর্ঘ সময় শ্বাসরোধ করে হত্যা করে—এমনটাই স্বীকার করেছে জবানবন্দিতে।

হত্যার পর মরদেহ গুম করতে পরিকল্পিতভাবে পদক্ষেপ নেয় সে। প্রথমে নিজের ঘরে লাশ লুকিয়ে রাখে এবং পরদিন গভীর রাতে বস্তাবন্দি করে পার্শ্ববর্তী বিলে ফেলে দেয়, যাতে কেউ সহজে খুঁজে না পায়।

১৭ এপ্রিল দুপুরে স্থানীয় এক যুবক বাড়ির পাশে একটি সন্দেহজনক বস্তা দেখতে পেয়ে বিষয়টি জানালে পরে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পোশাক দেখে নিশাতকে শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় মুহূর্তেই এলাকায় নেমে আসে শোক ও ক্ষোভের ছায়া।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, শুরুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি সিসিটিভি ফুটেজ নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। অনেকেই ধারণা করেছিলেন, ফুটেজে দেখা শিশুটিই নিশাত। তবে পিবিআইয়ের নিবিড় যাচাই-বাছাই ও প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্লেষণে নিশ্চিত হওয়া যায়, সেটি ভিন্ন একটি শিশু। এই গুরুত্বপূর্ণ সূত্র থেকেই তদন্তের মোড় ঘুরে যায়।

পরবর্তীতে পিবিআই ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত অভিযানে প্রকৃত অপরাধীকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে জটিল এই মামলার রহস্য উদঘাটন পিবিআইয়ের একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য।

এদিকে এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, মামলার তদন্ত দ্রুত এগিয়ে চলছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।