ভারতের ঢলের পানিতে ১৯ গ্রাম প্লাবিত হয়ে পানি-বন্ধী ৪৫০ পরিবার।
- আপডেট সময় : ০১:১৯:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ জুন ২০২৫
- / ৫৭০ বার পড়া হয়েছে
ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার সীমান্তবর্তী নিম্নাঞ্চলের ১৯ গ্রাম প্লাবিত হয়ে পানি বন্ধী অবস্থায় ৪৫০টি পরিবার। এতে থমকে গিয়েছে পানিবন্ধি পরিবার গুলোর জীবনযাত্রা। দোকান-পাটে পানি ঢুকায় স্থবির হয়ে পড়েছে ব্যাবসা বানিজ্য। তবে স্থলবন্দরের বাণিজ্যিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছেন বন্দর কর্তৃপক্ষ। টানা বৃষ্টির কারণেই দুইদিন গত হয়ে গেলেও বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের।
সোমবার(২ জুন) সকালে খানিকটা সময় আকাশের অবস্থা পরিস্কার দেখা গেলেও পরক্ষনেই পাল্টে গিয়েছে সেই চিত্র। আকাশে জমেছে মেঘ, ফের শুরু হয়েছে মুতুল বৃষ্টি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ত্রিপুরা রাজ্যের পাহাড়ি ঢলের পানি আখাউড়া-আগরতলা সড়কের বঙ্গেরচর এলাকার সড়কের উপর দিয়ে অতিক্রম করছে। ফলে পানি ঢুকেছে এলাকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ঘর-বাড়িতে।
আখাউড়া স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক মাহমুদুল হাসান জানান, আকষ্মিক বন্যায় আখাউড়া স্থলবন্দরের কার্যক্রমে এখন পর্যন্ত কোন বিঘ্নতা ঘটেনি। সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ৩টি ট্রাকে করে ১৫ মেট্রিক টন হিমায়ীত (বরফযুক্ত) মাছ ভারতের আগরতলায় রপ্তানি হয়েছে।
আখাউড়া ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট ইনচার্জ মোহাম্মদ আব্দুস সাত্তার বলেন, সকাল থেকে বেলা ১১ টা পর্যন্ত ৪৫-৫০ জন যাত্রী পারাপার হয়েছে। ইমিগ্রেশন ভবনের সামনে পানি ঢুকছে।
তবে ইমিগ্রেশন কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, আখাউড়া দক্ষিণ, মোগড়া ও মনিয়ন্দ ইউনিয়নের ১৯ টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ফলে ৪৫০ টি পরিবার পানি বন্দি অবস্থায় রয়েছে। বন্যা কবলিত এলাকার ১১ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে।
আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জি.এম রাশেদুল ইসলাম বলেন, “প্রয়োজনীয় আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সেখানকার পানি বন্দি কিছু মানুষদের আশ্রয়ণকেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে। তাছাড়া তাদের কাছে শুকনো খাবার পোছানোর চেষ্টা চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার গুলোর তালিকা তৈরি করা হচ্ছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া পানি উন্নয়ন নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মনজুর রহমান জানান, সকালে ত্রিপুরার হাওড়া নদীর পানি বিপদসীসার ৫২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে অতিক্রম করছে। আর সেই পানি বাংলাদেশে ধেয়ে আসছে।
পানিবন্ধি কিছু পরিবারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন , এ বন্যা এতটাই আকস্মিক ছিল যে, অনেক পরিবার প্রস্তুত হওয়ার আগেই পানিবন্দি হয়ে পড়ে। রাতের অন্ধকারে ঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে হয়েছে বহু পরিবারকে। অনেকেই নিজের মালামাল রক্ষা করতে না পারায় ঘরবাড়ি ও খামারের ক্ষতির শিকার হয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ২৮ মে (বুধবার) সন্ধ্যা থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিপাত ও ঢলের তীব্রতায় মোগড়া, মনিয়ন্দ ও দক্ষিণ ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে পানি উঠে যায়, ফলে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে জনজীবন। গতকাল রোববার উপজেলার ১০ টি গ্রাম প্লাবিত ছিলো।
সংবাদটি শেয়ার করুন































