কসবায় কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা, এলাকায় চাঞ্চল্য
- আপডেট সময় : ০৭:২৭:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬
- / ৯৭ বার পড়া হয়েছে
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় মো. দ্বীন ইসলাম (৩৫) নামে এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুরে উপজেলার মেহারী ইউনিয়নের শিমরাইল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত দ্বীন ইসলাম শিমরাইল গ্রামের বাসিন্দা সফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইউটিউবে ‘তালাশ ক্রাইম দৃষ্টি’ নামে একটি পেজ পরিচালনা করতেন এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক বিষয় নিয়ে ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করতেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরে একদল ব্যক্তি দ্বীন ইসলামকে তার নিজ বাড়ি থেকে ডেকে বা জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। পরে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে বুড়ি নদী পার করে পাশের কুমিল্লার বাঙ্গরা এলাকার গাঙ্গেরকুটে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা।
পরিবারের সদস্যরা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে কসবা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং বিষয়টি বাঙ্গরা থানাকে অবহিত করে। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে কসবা থানায় নিয়ে আসে। স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের বাবা সফিকুল ইসলাম ও মা পারুল বেগম অভিযোগ করেন, তাদের ছেলে বিভিন্ন সময় মাদক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ভিডিও প্রকাশ করতেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে একটি প্রভাবশালী চক্র পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করেছে। তারা এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এ ঘটনায় স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য মো. আবদুল আওয়াল ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও তিনি তা অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, দ্বীন ইসলাম নানা বিষয়ে মানুষের বিরুদ্ধে ভিডিও প্রকাশ করতেন এবং কে বা কারা তাকে মারধর করে অন্য এলাকায় ফেলে রেখে গেছে—এ বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন।
কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজনীন সুলতানা বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে মারধর করে নদীর ধারে ফেলে রেখে যায়। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, দ্বীন ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শাহ মো. আব্দুর রউফ বলেন, তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তিনি বিভিন্ন অপরাধ নিয়ে কাজ করতেন, সে কারণেও এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে।
সংবাদটি শেয়ার করুন





























