লাগেজ হারানোকে কেন্দ্র করে কসবায় দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষ, আহত অন্তত ৩০
- আপডেট সময় : ০৩:২৬:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
- / ২১ বার পড়া হয়েছে
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় এক হজযাত্রীর লাগেজ হারানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উপজেলার কদমতলী এলাকায় শাহপুর ও আড়াইবাড়ি গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, কসবা পৌরসভার শাহপুর গ্রামের মরিয়ম বেগম (৬২) চলতি বছর হজ পালন করতে সৌদি আরবে যান। দেশে ফেরার সময় তাঁর একটি লাগেজ হারিয়ে যায়। পরে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হারানো লাগেজের বিষয়ে খোঁজ নিতে পরিবারের সদস্যরা উপজেলার আড়াইবাড়ি গ্রামের মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন পরিচালিত ‘কসবা হজ কাফেলা’ ট্রাভেল এজেন্সিতে যান।
এ সময় ট্রাভেল এজেন্সি কর্তৃপক্ষ জানায়, লাগেজের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট হজযাত্রীর। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটির সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে হজযাত্রীর পরিবারের সদস্যরা ট্রাভেল এজেন্সিতে ভাঙচুর চালালে হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার পর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
এরই জেরে শনিবার সকাল ১০টার দিকে শাহপুর ও আড়াইবাড়ি গ্রামের লোকজন লাঠিসোঁটা, দা, ছুরি ও বল্লমসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। সংঘর্ষ চলাকালে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে কদমতলী মোড়সহ আশপাশের এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে পড়ে। কয়েকটি দোকানপাটেও ভাঙচুর চালানো হয়।
খবর পেয়ে কসবা থানা পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। সংঘর্ষকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। দুপুর পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে দফায় দফায় সংঘর্ষ চললেও বৃষ্টির সময় পরিস্থিতি শান্ত হতে শুরু করে।
সংঘর্ষে আহত অন্তত ৩০ জনকে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতাল এবং কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার চেষ্টা করেও ‘কসবা হজ কাফেলা’র পরিচালক মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজনীন সুলতানা জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তিনি বলেন, “সংঘর্ষকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে প্রায় ২০টি কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করা হয়েছে। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সংঘর্ষ চলে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।”
সংবাদটি শেয়ার করুন






















