ঢাকা ১০:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কালবৈশাখীর তাণ্ডবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিদ্যুতায়িত খুঁটির স্পর্শে প্রাণ গেল যুবকের সকালের আকাশে রাতের অন্ধকার: বজ্রপাত-টানা বর্ষণে বিপর্যস্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ভোগান্তিতে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা, ভেঙে পড়েছে মোবাইল টাওয়ার ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিকাশ লেনদেনের বিরোধে টর্চের আলোয় ত্রিমুখী সংঘর্ষ, আহত ৩০ ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানা পুলিশের অভিযানে ১৫ কেজি গাঁজাসহ মা- ছেলে গ্রেফতার ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাংবাদিক দ্বীন ইসলাম হত্যা: প্রধান আসামি বিএনপি নেতা আব্দুল আওয়াল গ্রেফতার রাজস্ব আদায়ে গতি ও নাগরিক সেবার মানোন্নয়নে কঠোর নির্দেশনা জেলা প্রশাসকের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কৃতি সন্তান আবদাল আহমদ প্রধান তথ্য কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রিমিয়ার লীগ-২০২৬ সিজন-১ এর ফাইনালে ‘আমরা বন্ধু একাদশ’ চ্যাম্পিয়ন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জলবায়ু-সংবেদনশীল নগর পরিবেশ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত বাঞ্ছারামপুরে বিশ্বব্যাংক সহায়তাপ্রাপ্ত ল্যাট্রিন প্রকল্পে অনিয়ম: পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশে তদন্ত কমিটি

সকালের আকাশে রাতের অন্ধকার: বজ্রপাত-টানা বর্ষণে বিপর্যস্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ভোগান্তিতে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা, ভেঙে পড়েছে মোবাইল টাওয়ার

মো. আবু নাছের (রতন)
  • আপডেট সময় : ১১:০৪:১৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
  • / ৩৮ বার পড়া হয়েছে

সকাল হতেই যেন রাতের আবহ—ঘন কালো মেঘে ঢেকে যায় আকাশ। তীব্র বজ্রপাত, দমকা হাওয়া ও ভারী বর্ষণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে পুরো জেলা। সকাল থেকে শুরু হওয়া এই দুর্যোগে জনজীবনে নেমে আসে চরম দুর্ভোগ।

জেলার প্রায় সব উপজেলাতেই একই চিত্র দেখা গেছে। টানা বৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো পানিতে তলিয়ে যায়, ফলে যান চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। কর্মস্থলে যেতে গিয়ে বিপাকে পড়েন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে নিম্নআয়ের দিনমজুরদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের বটতলী বাজারে একটি ঐতিহাসিক কৃষ্ণচূড়া গাছ উপড়ে সড়কের ওপর পড়ে, ফলে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

এদিকে আজ সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া এসএসসি পরীক্ষাকে ঘিরে ভোগান্তি ছিল সবচেয়ে বেশি। সকাল থেকেই বৃষ্টি ও বজ্রপাতের মধ্যে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পরীক্ষার উদ্দেশ্যে বের হতে হয় শিক্ষার্থীদের। অনেক পরীক্ষার্থী ভিজে কাপড়েই কেন্দ্রে পৌঁছায়, কেউ কেউ আবার নির্ধারিত সময়ে পৌঁছাতে না পেরে দুশ্চিন্তায় পড়ে।
অভিভাবকদের মধ্যেও ছিল উদ্বেগ। সন্তানদের নিরাপদে কেন্দ্রে পৌঁছানো নিয়ে উৎকণ্ঠায় ছিলেন তারা। অনেক এলাকায় যানবাহনের সংকট ও জলাবদ্ধতার কারণে পরীক্ষার্থীদের পায়ে হেঁটেই দীর্ঘ পথ অতিক্রম করতে হয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, বজ্রপাতের তীব্রতা ছিল অত্যন্ত বেশি, যা বিভিন্ন এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়। কিছু স্থানে সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহও বন্ধ হয়ে যায়।

এদিকে কসবা উপজেলার বিনাউটি ইউনিয়নের তিনলাখপীর বাসস্ট্যান্ডের সামনে একটি মোবাইলফোন নেটওয়ার্ক টাওয়ার ঝড়ে ভেঙে পাশের খালের পানিতে পড়ে যায়। এতে ওই এলাকায় মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট সেবা ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সকাল ৮টার দিকে শুরু হওয়া ঝড় ক্রমেই তীব্র আকার ধারণ করে। দমকা হাওয়ার আঘাতে টাওয়ারটি হেলে পড়ে মুহূর্তেই খালে ধসে পড়ে।

এদিকে কায়েমপুর ইউনিয়নের মঈনপুর বাজারে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়ায় ওই এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। বাদৈর ইউনিয়নের বাদৈর বাজার এলাকায় একটি বড় গাছ উপড়ে সড়কের ওপর পড়ে থাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মসজিদের ওপর গাছ ভেঙে পড়লে মসজিদের একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও প্রশাসনের তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ছামিউল ইসলাম জানান, মঈনপুর বাজারের ভেঙে পড়া বৈদ্যুতিক খুঁটি সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে।
এ ছাড়া আখাউড়া উপজেলার নারায়ণপুর পূর্বপাড়ায় শের আলী শাহ জামে মসজিদের ওপর গাছ পড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।

আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এই বৃষ্টিপাত হয়েছে এবং আগামী কয়েক দিন একই ধরনের আবহাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় বাইরে বের না হওয়ার এবং বজ্রপাতের সময় নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ জানিয়েছেন, কালবৈশাখী ঝড়ে জেলার বিভিন্ন স্থানে আংশিক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেলেও বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

তিনি বলেন, “জেলার বিভিন্ন উপজেলার ইউএনওদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যে বড় ধরনের ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে কসবা উপজেলায় একটি মোবাইল ফোন নেটওয়ার্ক টাওয়ার ভেঙে পড়ার বিষয়টি আমরা জেনেছি।”

তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে।

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

সকালের আকাশে রাতের অন্ধকার: বজ্রপাত-টানা বর্ষণে বিপর্যস্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ভোগান্তিতে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা, ভেঙে পড়েছে মোবাইল টাওয়ার

আপডেট সময় : ১১:০৪:১৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

সকাল হতেই যেন রাতের আবহ—ঘন কালো মেঘে ঢেকে যায় আকাশ। তীব্র বজ্রপাত, দমকা হাওয়া ও ভারী বর্ষণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে পুরো জেলা। সকাল থেকে শুরু হওয়া এই দুর্যোগে জনজীবনে নেমে আসে চরম দুর্ভোগ।

জেলার প্রায় সব উপজেলাতেই একই চিত্র দেখা গেছে। টানা বৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো পানিতে তলিয়ে যায়, ফলে যান চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। কর্মস্থলে যেতে গিয়ে বিপাকে পড়েন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে নিম্নআয়ের দিনমজুরদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের বটতলী বাজারে একটি ঐতিহাসিক কৃষ্ণচূড়া গাছ উপড়ে সড়কের ওপর পড়ে, ফলে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

এদিকে আজ সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া এসএসসি পরীক্ষাকে ঘিরে ভোগান্তি ছিল সবচেয়ে বেশি। সকাল থেকেই বৃষ্টি ও বজ্রপাতের মধ্যে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পরীক্ষার উদ্দেশ্যে বের হতে হয় শিক্ষার্থীদের। অনেক পরীক্ষার্থী ভিজে কাপড়েই কেন্দ্রে পৌঁছায়, কেউ কেউ আবার নির্ধারিত সময়ে পৌঁছাতে না পেরে দুশ্চিন্তায় পড়ে।
অভিভাবকদের মধ্যেও ছিল উদ্বেগ। সন্তানদের নিরাপদে কেন্দ্রে পৌঁছানো নিয়ে উৎকণ্ঠায় ছিলেন তারা। অনেক এলাকায় যানবাহনের সংকট ও জলাবদ্ধতার কারণে পরীক্ষার্থীদের পায়ে হেঁটেই দীর্ঘ পথ অতিক্রম করতে হয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, বজ্রপাতের তীব্রতা ছিল অত্যন্ত বেশি, যা বিভিন্ন এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়। কিছু স্থানে সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহও বন্ধ হয়ে যায়।

এদিকে কসবা উপজেলার বিনাউটি ইউনিয়নের তিনলাখপীর বাসস্ট্যান্ডের সামনে একটি মোবাইলফোন নেটওয়ার্ক টাওয়ার ঝড়ে ভেঙে পাশের খালের পানিতে পড়ে যায়। এতে ওই এলাকায় মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট সেবা ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সকাল ৮টার দিকে শুরু হওয়া ঝড় ক্রমেই তীব্র আকার ধারণ করে। দমকা হাওয়ার আঘাতে টাওয়ারটি হেলে পড়ে মুহূর্তেই খালে ধসে পড়ে।

এদিকে কায়েমপুর ইউনিয়নের মঈনপুর বাজারে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়ায় ওই এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। বাদৈর ইউনিয়নের বাদৈর বাজার এলাকায় একটি বড় গাছ উপড়ে সড়কের ওপর পড়ে থাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মসজিদের ওপর গাছ ভেঙে পড়লে মসজিদের একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও প্রশাসনের তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ছামিউল ইসলাম জানান, মঈনপুর বাজারের ভেঙে পড়া বৈদ্যুতিক খুঁটি সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে।
এ ছাড়া আখাউড়া উপজেলার নারায়ণপুর পূর্বপাড়ায় শের আলী শাহ জামে মসজিদের ওপর গাছ পড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।

আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এই বৃষ্টিপাত হয়েছে এবং আগামী কয়েক দিন একই ধরনের আবহাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় বাইরে বের না হওয়ার এবং বজ্রপাতের সময় নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ জানিয়েছেন, কালবৈশাখী ঝড়ে জেলার বিভিন্ন স্থানে আংশিক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেলেও বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

তিনি বলেন, “জেলার বিভিন্ন উপজেলার ইউএনওদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যে বড় ধরনের ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে কসবা উপজেলায় একটি মোবাইল ফোন নেটওয়ার্ক টাওয়ার ভেঙে পড়ার বিষয়টি আমরা জেনেছি।”

তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে।