ঢাকা ১২:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মাদক-চাঁদাবাজ মুক্ত রাজশাহী গড়ছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সন্তান পুলিশ কমিশনার ফয়েজুল কবির নবাগত পুলিশ সুপারের সাথে সাংবাদিকদের মতবিনিময় বাঞ্ছারামপুরে সাড়ে ৩ লাখ মানুষের ৩০ টি কমিউনিটি ক্লিনিক চলছে জোড়াতালি দিয়ে।। পরিত্যক্ত ভবনে চলে মাদকসেবন কসবায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে ১২০ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার আখাউড়ায় ৪ মাসপর জামিন মিললো মানসিক ভারসাম্যহীন তিন সন্তানের জননীর। বিজয়নগরে কিশোরীর বিয়ে নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ১০ সরাইল থানার ওসির সঙ্গে রুমিন ফারহানার বাদানুবাদ, পুলিশের জিডি সাংবাদিকদের গাড়ি আটকে ইজারার নামে যুবদল নেতার চাঁদা আদায়ের চেষ্টা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ, ভিডিও ভাইরাল মণ্ডপে শোভিত প্রতিমা, কানে কানে উৎসব পৌঁছে দিচ্ছে ঢাক

বাঞ্ছারামপুরে বিশ্বব্যাংক সহায়তাপ্রাপ্ত ল্যাট্রিন প্রকল্পে অনিয়ম: পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশে তদন্ত কমিটি

স্টাফ রিপোর্টার:
  • আপডেট সময় : ০৪:৩৮:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
  • / ২৬৭ বার পড়া হয়েছে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় বাস্তবায়িত “মানব সম্পদ উন্নয়নে গ্রামীণ পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন এবং স্বাস্থ্যবিধি” প্রকল্পের আওতায় টুইন পিট ল্যাট্রিন নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম, নিম্নমান ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে উপজেলা প্রশাসন।

জানা যায়, উজানচরসহ উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য টুইন পিট ল্যাট্রিন নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। প্রকল্প অনুযায়ী প্রতিটি ল্যাট্রিন নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৫ হাজার ১০৮ টাকা এবং মোট ২২৯টি ল্যাট্রিন নির্মাণে বরাদ্দ প্রায় ৮০ লাখ ৩৯ হাজার ৭৩২ টাকা। সে হিসেবে পুরো উপজেলায় প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১০ কোটি ৪৫ লাখ টাকার বেশি।
তবে অভিযোগ রয়েছে, পূর্বনির্ধারিত নকশা ও মানদণ্ড উপেক্ষা করে নিম্নমানের রিং, স্ল্যাব, পাইপ, ইটের সুরকি ও বালু ব্যবহার করে কাজ করা হচ্ছে। কোথাও কোথাও ল্যাট্রিন নির্মাণ অসম্পূর্ণ অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, ব্যবহৃত টিন হাত দিয়েই ছিঁড়ে ফেলা যাচ্ছে এবং নিম্নমানের সামগ্রী সহজেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

এছাড়া ফরদাবাদ, দরিয়াদৌলত ও রূপসদী ইউনিয়নে উপকারভোগীদের কাছ থেকে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

প্রকল্পের কাজ ২০২৪ সালের ২৫ জুলাই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান “মেসার্স ইসলাম এন্টারপ্রাইজ”-এর সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়। চুক্তি অনুযায়ী ৬ মাসে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও প্রায় দুই বছর পার হলেও কাজ সম্পন্ন হয়নি বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি নজরে আসে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকির। তিনি দ্রুত অনিয়ম খতিয়ে দেখতে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ তারিকুল ইসলাম জানান, প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনার পর এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর হোসেনকে প্রধান করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) প্রকৌশলী মিজানুর রহমান এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন। তাদের আগামী ৩ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

অন্যদিকে, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের সামগ্রী পরিবর্তনের আশ্বাস দিয়েছে এবং ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে।

তবে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান “মেসার্স ইসলাম এন্টারপ্রাইজ”-এর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে প্রতিষ্ঠানটির একজন প্রতিনিধি শহিদুল হক প্রধান মুঠোফোনে বলেন, নিম্নমানের কাজ হয়ে থাকলে তা সংশোধন করা হবে, এতে ক্ষতি হলেও তারা তা মেনে নেবেন।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং প্রকল্পের কাজ সঠিক মান বজায় রেখে দ্রুত শেষ করে সুবিধাভোগীদের কাছে হস্তান্তর নিশ্চিত করা হোক।

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

বাঞ্ছারামপুরে বিশ্বব্যাংক সহায়তাপ্রাপ্ত ল্যাট্রিন প্রকল্পে অনিয়ম: পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশে তদন্ত কমিটি

আপডেট সময় : ০৪:৩৮:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় বাস্তবায়িত “মানব সম্পদ উন্নয়নে গ্রামীণ পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন এবং স্বাস্থ্যবিধি” প্রকল্পের আওতায় টুইন পিট ল্যাট্রিন নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম, নিম্নমান ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে উপজেলা প্রশাসন।

জানা যায়, উজানচরসহ উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য টুইন পিট ল্যাট্রিন নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। প্রকল্প অনুযায়ী প্রতিটি ল্যাট্রিন নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৫ হাজার ১০৮ টাকা এবং মোট ২২৯টি ল্যাট্রিন নির্মাণে বরাদ্দ প্রায় ৮০ লাখ ৩৯ হাজার ৭৩২ টাকা। সে হিসেবে পুরো উপজেলায় প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১০ কোটি ৪৫ লাখ টাকার বেশি।
তবে অভিযোগ রয়েছে, পূর্বনির্ধারিত নকশা ও মানদণ্ড উপেক্ষা করে নিম্নমানের রিং, স্ল্যাব, পাইপ, ইটের সুরকি ও বালু ব্যবহার করে কাজ করা হচ্ছে। কোথাও কোথাও ল্যাট্রিন নির্মাণ অসম্পূর্ণ অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, ব্যবহৃত টিন হাত দিয়েই ছিঁড়ে ফেলা যাচ্ছে এবং নিম্নমানের সামগ্রী সহজেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

এছাড়া ফরদাবাদ, দরিয়াদৌলত ও রূপসদী ইউনিয়নে উপকারভোগীদের কাছ থেকে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

প্রকল্পের কাজ ২০২৪ সালের ২৫ জুলাই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান “মেসার্স ইসলাম এন্টারপ্রাইজ”-এর সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়। চুক্তি অনুযায়ী ৬ মাসে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও প্রায় দুই বছর পার হলেও কাজ সম্পন্ন হয়নি বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি নজরে আসে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকির। তিনি দ্রুত অনিয়ম খতিয়ে দেখতে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ তারিকুল ইসলাম জানান, প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনার পর এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর হোসেনকে প্রধান করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) প্রকৌশলী মিজানুর রহমান এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন। তাদের আগামী ৩ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

অন্যদিকে, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের সামগ্রী পরিবর্তনের আশ্বাস দিয়েছে এবং ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে।

তবে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান “মেসার্স ইসলাম এন্টারপ্রাইজ”-এর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে প্রতিষ্ঠানটির একজন প্রতিনিধি শহিদুল হক প্রধান মুঠোফোনে বলেন, নিম্নমানের কাজ হয়ে থাকলে তা সংশোধন করা হবে, এতে ক্ষতি হলেও তারা তা মেনে নেবেন।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং প্রকল্পের কাজ সঠিক মান বজায় রেখে দ্রুত শেষ করে সুবিধাভোগীদের কাছে হস্তান্তর নিশ্চিত করা হোক।