ঢাকা ১২:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মাদক-চাঁদাবাজ মুক্ত রাজশাহী গড়ছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সন্তান পুলিশ কমিশনার ফয়েজুল কবির নবাগত পুলিশ সুপারের সাথে সাংবাদিকদের মতবিনিময় বাঞ্ছারামপুরে সাড়ে ৩ লাখ মানুষের ৩০ টি কমিউনিটি ক্লিনিক চলছে জোড়াতালি দিয়ে।। পরিত্যক্ত ভবনে চলে মাদকসেবন কসবায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে ১২০ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার আখাউড়ায় ৪ মাসপর জামিন মিললো মানসিক ভারসাম্যহীন তিন সন্তানের জননীর। বিজয়নগরে কিশোরীর বিয়ে নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ১০ সরাইল থানার ওসির সঙ্গে রুমিন ফারহানার বাদানুবাদ, পুলিশের জিডি সাংবাদিকদের গাড়ি আটকে ইজারার নামে যুবদল নেতার চাঁদা আদায়ের চেষ্টা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ, ভিডিও ভাইরাল মণ্ডপে শোভিত প্রতিমা, কানে কানে উৎসব পৌঁছে দিচ্ছে ঢাক

সীমান্তে রক্ত ঝরলে জনগণকে নিয়ে সীমান্তমুখী কর্মসূচি’ — ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন

আজকের ব্রাহ্মণবাড়িয়া রিপোর্ট:
  • আপডেট সময় : ০৭:৩৯:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
  • / ২৩৮ বার পড়া হয়েছে

সীমান্তে বাংলাদেশি হত্যাকাণ্ড বন্ধে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হলে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে জনসম্পৃক্ত কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
মঙ্গলবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের গুলিতে নিহত কলেজশিক্ষার্থী মো. মোরসালিনের কবর জিয়ারত শেষে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, সীমান্তে প্রাণহানি বাড়তে থাকলে দেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সীমান্তমুখী লংমার্চ কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। তিনি সরকারের প্রতি দ্রুত কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানান।
তিনি দাবি করেন, সীমান্ত এলাকায় মাদক চোরাচালান উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। এনসিপি রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে খাল খননের মাধ্যমে অবৈধ যাতায়াত ও মাদক প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগ নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমালোচনা করে এনসিপির এই নেতা বলেন, দেশে ইয়াবা, ফেনসিডিল ও গাঁজার বিস্তার কীভাবে ঘটছে, তার জবাব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দিতে হবে। সীমান্ত হত্যা বন্ধে ব্যর্থ হলে সরকারের দায়িত্বশীল মন্ত্রীদের জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নিহতদের চোরাকারবারি হিসেবে উল্লেখ করে বিজিবির দেওয়া বিজ্ঞপ্তিরও সমালোচনা করেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, বিজিবির বক্তব্যে নিহত বাংলাদেশিদের মাদক কারবারি ও চোরাকারবারি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে, যা তিনি “ভারতীয় বয়ান” হিসেবে আখ্যা দেন। তার ভাষ্য, সীমান্ত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবিকে স্বাধীন অবস্থান নিতে হবে।

তিনি আরও দাবি করেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পর সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কার্যকর অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়েছে। অতীতে বিএসএফ সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন সীমান্তে বাংলাদেশের অবস্থান আগের মতো শক্ত নেই।

এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, মাদকবিরোধী অবস্থানের কারণে স্থানীয় এক সাংবাদিক হত্যার শিকার হয়েছেন এবং বর্তমানে সাংবাদিকদের নিরাপত্তাও হুমকির মুখে রয়েছে। “নাগরিক ও সাংবাদিক কেউই নিরাপদ নয়”— এমন মন্তব্য করে তিনি সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

কসবায় যাওয়ার পথে তাকে বিভিন্ন স্থানে বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, একজন নাগরিক হিসেবে দেশের যেকোনো স্থানে যাওয়ার অধিকার তার রয়েছে। এ ঘটনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

পরে এনসিপির প্রতিনিধি দল নিহত ও আহত পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেয় এবং সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করে।

প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ আতাউল্লাহ, স্বাস্থ্য উইং সমন্বয়ক ডা. আশরাফ উদ্দিন, কেন্দ্রীয় সংগঠক মিয়াজ মেহরাব তালুকদার, আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জিহান, মোস্তাক আহমেদ শিশির ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক তারেক আদেল।

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

সীমান্তে রক্ত ঝরলে জনগণকে নিয়ে সীমান্তমুখী কর্মসূচি’ — ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন

আপডেট সময় : ০৭:৩৯:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

সীমান্তে বাংলাদেশি হত্যাকাণ্ড বন্ধে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হলে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে জনসম্পৃক্ত কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
মঙ্গলবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের গুলিতে নিহত কলেজশিক্ষার্থী মো. মোরসালিনের কবর জিয়ারত শেষে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, সীমান্তে প্রাণহানি বাড়তে থাকলে দেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সীমান্তমুখী লংমার্চ কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। তিনি সরকারের প্রতি দ্রুত কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানান।
তিনি দাবি করেন, সীমান্ত এলাকায় মাদক চোরাচালান উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। এনসিপি রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে খাল খননের মাধ্যমে অবৈধ যাতায়াত ও মাদক প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগ নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমালোচনা করে এনসিপির এই নেতা বলেন, দেশে ইয়াবা, ফেনসিডিল ও গাঁজার বিস্তার কীভাবে ঘটছে, তার জবাব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দিতে হবে। সীমান্ত হত্যা বন্ধে ব্যর্থ হলে সরকারের দায়িত্বশীল মন্ত্রীদের জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নিহতদের চোরাকারবারি হিসেবে উল্লেখ করে বিজিবির দেওয়া বিজ্ঞপ্তিরও সমালোচনা করেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, বিজিবির বক্তব্যে নিহত বাংলাদেশিদের মাদক কারবারি ও চোরাকারবারি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে, যা তিনি “ভারতীয় বয়ান” হিসেবে আখ্যা দেন। তার ভাষ্য, সীমান্ত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবিকে স্বাধীন অবস্থান নিতে হবে।

তিনি আরও দাবি করেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পর সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কার্যকর অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়েছে। অতীতে বিএসএফ সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন সীমান্তে বাংলাদেশের অবস্থান আগের মতো শক্ত নেই।

এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, মাদকবিরোধী অবস্থানের কারণে স্থানীয় এক সাংবাদিক হত্যার শিকার হয়েছেন এবং বর্তমানে সাংবাদিকদের নিরাপত্তাও হুমকির মুখে রয়েছে। “নাগরিক ও সাংবাদিক কেউই নিরাপদ নয়”— এমন মন্তব্য করে তিনি সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

কসবায় যাওয়ার পথে তাকে বিভিন্ন স্থানে বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, একজন নাগরিক হিসেবে দেশের যেকোনো স্থানে যাওয়ার অধিকার তার রয়েছে। এ ঘটনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

পরে এনসিপির প্রতিনিধি দল নিহত ও আহত পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেয় এবং সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করে।

প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ আতাউল্লাহ, স্বাস্থ্য উইং সমন্বয়ক ডা. আশরাফ উদ্দিন, কেন্দ্রীয় সংগঠক মিয়াজ মেহরাব তালুকদার, আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জিহান, মোস্তাক আহমেদ শিশির ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক তারেক আদেল।