ঢাকা ০৩:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সাত মাসের অপেক্ষার অবসান, ফিরলেন না মানুষটি, ফিরল শুধু নিথর দেহ জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ ইউএনও নির্বাচিত হলেন আশুগঞ্জের রাফে মোহাম্মদ ছড়া  আখাউড়ায় সাংবাদিকদের সাথে মেয়র প্রার্থী মিশনের মতবিনিময় জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকীতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিএনপির দোয়া মাহফিল ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ ঈদের দিনেও মানবতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো বাতিঘর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ফের নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে আলোচনা জেলা পরিষদর প্রশাসক  আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম সিরাজ এর ঈদ শুভেচ্ছা শাহ্ মোঃ ইব্রাহিম মিয়ার পক্ষ থেকে ঈদ মোবারক লন্ডনে কবীর আহমেদ ভূঁইয়ার জন্মদিন পালন, দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে নেতাকর্মীদের মিলনমেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সেপটিক ট্যাংকে নেমে চার শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু

সাত মাসের অপেক্ষার অবসান, ফিরলেন না মানুষটি, ফিরল শুধু নিথর দেহ

আবু নাছের রতন
  • আপডেট সময় : ০৪:৩৭:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬
  • / ৩০ বার পড়া হয়েছে

প্রতিদিনের মতোই হয়তো সেদিনও পরিবারের কেউ দরজার দিকে তাকিয়ে ছিলেন। হয়তো মনে মনে ভেবেছিলেন, “আজ কি ফিরবে মাসুদ?” দিন গড়িয়েছে, সপ্তাহ পেরিয়েছে, মাস কেটেছে। কিন্তু যে মানুষটির জন্য অপেক্ষা, তিনি আর ফিরে আসেননি। দীর্ঘ সাত মাস পর অবশেষে পরিবারের কাছে ফিরলেন তিনি—তবে জীবিত নয়, নিথর দেহ হয়ে।

মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার মাশুরগাঁও গ্রামের বাসিন্দা মাসুদ রানা (৪৭)। একসময় ছিলেন মেধাবী ছাত্র, সংসারী মানুষ, একজন স্নেহশীল বাবা। ছোট্ট একটি মুদির দোকান চালিয়ে চলত তাঁর জীবন। কিন্তু জীবনের নির্মম বাস্তবতা ধীরে ধীরে তাঁকে ভেঙে দেয়।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যক্তিগত জীবনের নানা সংকট, সংসার ভাঙনের যন্ত্রণা এবং মানসিক অস্থিরতা তাঁকে ক্রমেই নিঃসঙ্গ করে তোলে। প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে স্ত্রী অন্যত্র সংসার শুরু করলে সেই আঘাত তিনি কখনোই কাটিয়ে উঠতে পারেননি। একমাত্র মেয়েকে ভীষণ ভালোবাসতেন তিনি। কিন্তু জীবনের বাস্তবতা যেন ধীরে ধীরে তাঁকে মানুষের ভিড় থেকেও বিচ্ছিন্ন করে দেয়।

২০২৫ সালের ১৭ ডিসেম্বর হঠাৎ করেই নিখোঁজ হন মাসুদ রানা। এরপর শুরু হয় পরিবারের দীর্ঘ অপেক্ষা। আত্মীয়-স্বজন, পরিচিতজন, বিভিন্ন জেলা-উপজেলা—যেখানে খবর পেয়েছেন, সেখানেই ছুটে গেছেন স্বজনরা। থানায় সাধারণ ডায়েরিও করা হয়েছিল। কিন্তু কোথাও কোনো সন্ধান মেলেনি।

এদিকে মাসুদ রানা তখন এক অজানা পথের যাত্রী। কেউ জানত না তাঁর পরিচয়, কেউ জানত না তাঁর বাড়ির ঠিকানা। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন এলাকায় তাঁকে দেখা যেত ভবঘুরের মতো ঘুরে বেড়াতে। কখনও রাস্তার পাশে, কখনও সেতুর নিচে, কখনও ঝড়-বৃষ্টির রাতে খোলা আকাশের নিচে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন অনাহার ও অযত্নে তাঁর শারীরিক অবস্থা ভয়াবহ হয়ে উঠেছিল। দুই হাতের ক্ষতস্থানে পচন ধরেছিল, সেখানে পোকাও জন্মেছিল। তবুও তিনি যেন কাউকে নিজের কাছে টানতে চাইতেন না। অনেকেই সাহায্যের হাত বাড়িয়েছেন, হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন, খাবার দিয়েছেন—কিন্তু তিনি ছিলেন নিজের ভেতরেই হারিয়ে যাওয়া এক মানুষ।
গত ১৮ মে রাতে মানবিক সংগঠন ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর’-এর উদ্যোগে তাঁকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাও শুরু হয়েছিল। কিন্তু পরদিন ভোরে কাউকে কিছু না জানিয়েই হাসপাতাল ছেড়ে চলে যান তিনি। তারপর আবারও অদৃশ্য হয়ে যান মানুষের চোখের আড়ালে।

অবশেষে গত ৩ জুন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার ঘাটুরা এলাকায় কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের পাশে ঘাসের ওপর পড়ে থাকতে দেখা যায় এক অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। তখনও কেউ জানত না, এই মানুষটির জন্য সাত মাস ধরে অপেক্ষা করছে একটি পরিবার।

পরে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্ট এবং পিবিআইয়ের তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায়—এটাই সেই নিখোঁজ মাসুদ রানা।

খবরটি পৌঁছায় মুন্সিগঞ্জে। যে পরিবার সাত মাস ধরে একটি অলৌকিক প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় ছিল, তারা জানতে পারে তাদের প্রিয় মানুষটি আর বেঁচে নেই।
গত বৃহস্পতিবার রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘরের মাধ্যমে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সংগঠনটির সদস্যরা শুধু পরিচয় খুঁজে দিতেই নয়, শেষ বিদায়ের ব্যবস্থাতেও পাশে দাঁড়ান। পরিবারের সম্মতিতে কাফনের কাপড়সহ প্রয়োজনীয় সব আয়োজন সম্পন্ন করা হয়।
শুক্রবার ভোরে ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় তাঁর গ্রামের বাড়িতে। সকাল ৯টায় জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয় সেই মানুষটিকে, যিনি জীবনের শেষ দিনগুলো কাটিয়েছেন পরিচয়হীন এক ভবঘুরে হিসেবে।

এই গল্প শুধু একজন মাসুদ রানার নয়। এটি অপেক্ষার গল্প, হারিয়ে যাওয়ার গল্প, মানসিক ভাঙনের গল্প, সমাজের অসহায় মানুষদের গল্প। এটি সেই বাবার গল্প, যিনি হয়তো শেষ দিন পর্যন্ত মেয়ের মুখটি একবার দেখার অপেক্ষায় ছিলেন। এটি সেই পরিবারের গল্প, যারা সাত মাস ধরে দরজার দিকে তাকিয়ে থেকেও ফিরে পেয়েছে শুধু একটি লাশ।
মানবিক সংগঠন ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর’ মরহুমের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছে।

হয়তো মাসুদ রানা আর ফিরবেন না। কিন্তু তাঁর জীবন আমাদের মনে করিয়ে দেয়—কখনও কখনও মানুষের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন শুধু খাবার বা চিকিৎসা নয়, প্রয়োজন একটু খোঁজ নেওয়া, একটু পাশে দাঁড়ানো, একটু ভালোবাসা।

আল্লাহ মরহুম মাসুদ রানাকে ক্ষমা করুন এবং জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আমিন।

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

সাত মাসের অপেক্ষার অবসান, ফিরলেন না মানুষটি, ফিরল শুধু নিথর দেহ

আপডেট সময় : ০৪:৩৭:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬

প্রতিদিনের মতোই হয়তো সেদিনও পরিবারের কেউ দরজার দিকে তাকিয়ে ছিলেন। হয়তো মনে মনে ভেবেছিলেন, “আজ কি ফিরবে মাসুদ?” দিন গড়িয়েছে, সপ্তাহ পেরিয়েছে, মাস কেটেছে। কিন্তু যে মানুষটির জন্য অপেক্ষা, তিনি আর ফিরে আসেননি। দীর্ঘ সাত মাস পর অবশেষে পরিবারের কাছে ফিরলেন তিনি—তবে জীবিত নয়, নিথর দেহ হয়ে।

মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার মাশুরগাঁও গ্রামের বাসিন্দা মাসুদ রানা (৪৭)। একসময় ছিলেন মেধাবী ছাত্র, সংসারী মানুষ, একজন স্নেহশীল বাবা। ছোট্ট একটি মুদির দোকান চালিয়ে চলত তাঁর জীবন। কিন্তু জীবনের নির্মম বাস্তবতা ধীরে ধীরে তাঁকে ভেঙে দেয়।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যক্তিগত জীবনের নানা সংকট, সংসার ভাঙনের যন্ত্রণা এবং মানসিক অস্থিরতা তাঁকে ক্রমেই নিঃসঙ্গ করে তোলে। প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে স্ত্রী অন্যত্র সংসার শুরু করলে সেই আঘাত তিনি কখনোই কাটিয়ে উঠতে পারেননি। একমাত্র মেয়েকে ভীষণ ভালোবাসতেন তিনি। কিন্তু জীবনের বাস্তবতা যেন ধীরে ধীরে তাঁকে মানুষের ভিড় থেকেও বিচ্ছিন্ন করে দেয়।

২০২৫ সালের ১৭ ডিসেম্বর হঠাৎ করেই নিখোঁজ হন মাসুদ রানা। এরপর শুরু হয় পরিবারের দীর্ঘ অপেক্ষা। আত্মীয়-স্বজন, পরিচিতজন, বিভিন্ন জেলা-উপজেলা—যেখানে খবর পেয়েছেন, সেখানেই ছুটে গেছেন স্বজনরা। থানায় সাধারণ ডায়েরিও করা হয়েছিল। কিন্তু কোথাও কোনো সন্ধান মেলেনি।

এদিকে মাসুদ রানা তখন এক অজানা পথের যাত্রী। কেউ জানত না তাঁর পরিচয়, কেউ জানত না তাঁর বাড়ির ঠিকানা। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন এলাকায় তাঁকে দেখা যেত ভবঘুরের মতো ঘুরে বেড়াতে। কখনও রাস্তার পাশে, কখনও সেতুর নিচে, কখনও ঝড়-বৃষ্টির রাতে খোলা আকাশের নিচে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন অনাহার ও অযত্নে তাঁর শারীরিক অবস্থা ভয়াবহ হয়ে উঠেছিল। দুই হাতের ক্ষতস্থানে পচন ধরেছিল, সেখানে পোকাও জন্মেছিল। তবুও তিনি যেন কাউকে নিজের কাছে টানতে চাইতেন না। অনেকেই সাহায্যের হাত বাড়িয়েছেন, হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন, খাবার দিয়েছেন—কিন্তু তিনি ছিলেন নিজের ভেতরেই হারিয়ে যাওয়া এক মানুষ।
গত ১৮ মে রাতে মানবিক সংগঠন ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর’-এর উদ্যোগে তাঁকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাও শুরু হয়েছিল। কিন্তু পরদিন ভোরে কাউকে কিছু না জানিয়েই হাসপাতাল ছেড়ে চলে যান তিনি। তারপর আবারও অদৃশ্য হয়ে যান মানুষের চোখের আড়ালে।

অবশেষে গত ৩ জুন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার ঘাটুরা এলাকায় কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের পাশে ঘাসের ওপর পড়ে থাকতে দেখা যায় এক অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। তখনও কেউ জানত না, এই মানুষটির জন্য সাত মাস ধরে অপেক্ষা করছে একটি পরিবার।

পরে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্ট এবং পিবিআইয়ের তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায়—এটাই সেই নিখোঁজ মাসুদ রানা।

খবরটি পৌঁছায় মুন্সিগঞ্জে। যে পরিবার সাত মাস ধরে একটি অলৌকিক প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় ছিল, তারা জানতে পারে তাদের প্রিয় মানুষটি আর বেঁচে নেই।
গত বৃহস্পতিবার রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘরের মাধ্যমে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সংগঠনটির সদস্যরা শুধু পরিচয় খুঁজে দিতেই নয়, শেষ বিদায়ের ব্যবস্থাতেও পাশে দাঁড়ান। পরিবারের সম্মতিতে কাফনের কাপড়সহ প্রয়োজনীয় সব আয়োজন সম্পন্ন করা হয়।
শুক্রবার ভোরে ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় তাঁর গ্রামের বাড়িতে। সকাল ৯টায় জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয় সেই মানুষটিকে, যিনি জীবনের শেষ দিনগুলো কাটিয়েছেন পরিচয়হীন এক ভবঘুরে হিসেবে।

এই গল্প শুধু একজন মাসুদ রানার নয়। এটি অপেক্ষার গল্প, হারিয়ে যাওয়ার গল্প, মানসিক ভাঙনের গল্প, সমাজের অসহায় মানুষদের গল্প। এটি সেই বাবার গল্প, যিনি হয়তো শেষ দিন পর্যন্ত মেয়ের মুখটি একবার দেখার অপেক্ষায় ছিলেন। এটি সেই পরিবারের গল্প, যারা সাত মাস ধরে দরজার দিকে তাকিয়ে থেকেও ফিরে পেয়েছে শুধু একটি লাশ।
মানবিক সংগঠন ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর’ মরহুমের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছে।

হয়তো মাসুদ রানা আর ফিরবেন না। কিন্তু তাঁর জীবন আমাদের মনে করিয়ে দেয়—কখনও কখনও মানুষের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন শুধু খাবার বা চিকিৎসা নয়, প্রয়োজন একটু খোঁজ নেওয়া, একটু পাশে দাঁড়ানো, একটু ভালোবাসা।

আল্লাহ মরহুম মাসুদ রানাকে ক্ষমা করুন এবং জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আমিন।