ঢাকা ০২:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাড়ি ফেরার পথে অপহরণের শিকার ডুয়েট শিক্ষার্থী নাহিদ।। মুক্তিপণ আদায়ের পর মুক্ত  ব্রাহ্মণবাড়িয়া পাসপোর্ট অফিসে জেলা পরিষদ প্রশাসকের আকস্মিক পরিদর্শন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নানা অনিয়মের দায়ে অচি মেমোরিয়াল ও পদ্মা মা ও শিশু হাসপাতালকে ৪ লাখ টাকা জরিমানা হাইকোর্টের নির্দেশে বন্ধ হলো বহুতল ভবনের নির্মাণকাজ ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৬৫টি কচ্ছপ উদ্ধার, সালদানদীতে অবমুক্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কাজীপাড়ায় মাদকবিরোধী সমাবেশ সফল করতে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত নদী-খাল-বিলে মাছ রক্ষায় অবৈধ রিংজাল বন্ধে সচেতনতার আহ্বান জেলা পরিষদ প্রশাসক সিরাজুল ইসলামের এফ এ টাওয়ারের অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীকে জেলা পরিষদের আর্থিক অনুদান প্রদান ঢেউ’র আহবায়ক সোহেল সদস্য সচিব আইফাত  তিতাস তীরের কৃষিজমি ও জলাশয় দখলমুক্তে উচ্ছেদ অভিযান

ঈদের দিনেও মানবতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো বাতিঘর

আজকের ব্রাহ্মণবাড়িয়া রিপোর্ট:
  • আপডেট সময় : ০৩:২৫:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
  • / ৮৫ বার পড়া হয়েছে

পবিত্র ঈদুল আযহার আনন্দ-উৎসবের মধ্যেও মানবিক দায়িত্ব পালনে থেমে থাকেনি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘরের’। ঈদের দিনেই অজ্ঞাত পরিচয়ের এক ভবঘুরে ব্যক্তির বেওয়ারিশ মরদেহ দাফন করেছে সংগঠনটি। এ নিয়ে সংগঠনটির উদ্যোগে মোট ২৫৪টি বেওয়ারিশ লাশ দাফনের নজির তৈরি হলো।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের পূর্ব মেড্ডা এলাকার তিতাস নদী সংলগ্ন বেওয়ারিশ লাশের কবরস্থানে মরদেহটি দাফন করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এম এম রকীব উর রাজা।

জানা গেছে, গত শুক্রবার (২২ মে) সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার মাছিহাতা ইউনিয়নের উত্তর জগৎসার গ্রামের খোয়াজুদ্দিনের বাড়ির পাশের একটি পুকুরঘাট থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ের (৫২) এক ভবঘুরে ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৃত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে ভবঘুরে ও মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়াতেন। তবে স্থানীয় কেউ তার পরিচয় শনাক্ত করতে পারেননি। ধারণা করা হচ্ছে, গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত কোনো এক সময়ে অসুস্থতাজনিত বা অজ্ঞাত কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। মরদেহ উদ্ধারের সময় তার মুখে দাঁড়ি-গোঁফ ছিল এবং তিনি জিন্স প্যান্ট পরিহিত ছিলেন। পরিচয় শনাক্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) মরদেহের ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করলেও আঙুলের ছাপের মাধ্যমে তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পরে ছয়দিন হাসপাতালের হিমাগারে সংরক্ষণ করে রাখা হলেও স্বজনদের কেউ খোঁজ নিতে আসেননি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘরের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. আজহার উদ্দিন বলেন, “ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমেও পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তারপরও আমরা ছয়দিন মরদেহটি হিমাগারে রেখেছিলাম, যদি কোনো স্বজন এসে পরিচয় নিশ্চিত করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কেউ না আসায় ঈদের দিনেই মরদেহটি দাফন করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “বেওয়ারিশের ওয়ারিশ হয়ে গত ছয় বছর ধরে আমরা এই মানবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। পরিচয়হীন মানুষগুলোর সম্মানজনক দাফন নিশ্চিত করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ঝড়-বৃষ্টি কিংবা বড় কোনো উৎসব কোনো কিছুই মানবিক কাজকে থামাতে পারে না।”

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এম এম রকীব উর রাজা বলেন, “পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় মরদেহটি বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়েছে। আমি নিজে উপস্থিত থেকে পুরো কার্যক্রম দেখেছি। অত্যন্ত সম্মানের সঙ্গে তারা বেওয়ারিশ লাশ দাফন করেন। এমন মানবিক কাজ সত্যিই বিরল। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতেও ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘরকে প্রয়োজনীয় আইনি সহযোগিতা দেওয়া হবে।”

উল্লেখ্য, পবিত্র ঈদুল আযহার মতো উৎসবের দিনেও সংগঠনটির মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ঝড়-বৃষ্টি কিংবা প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তারা বেওয়ারিশ লাশ দাফন ও অজ্ঞাত রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত সংগঠনটির উদ্যোগে ২৫৪টি বেওয়ারিশ লাশ দাফন এবং দুই হাজারের বেশি অজ্ঞাত রোগীর চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও রক্তদান, অক্সিজেন সেবা ও অসহায়-সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মতো বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে সংগঠনটি।

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

ঈদের দিনেও মানবতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো বাতিঘর

আপডেট সময় : ০৩:২৫:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬

পবিত্র ঈদুল আযহার আনন্দ-উৎসবের মধ্যেও মানবিক দায়িত্ব পালনে থেমে থাকেনি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘরের’। ঈদের দিনেই অজ্ঞাত পরিচয়ের এক ভবঘুরে ব্যক্তির বেওয়ারিশ মরদেহ দাফন করেছে সংগঠনটি। এ নিয়ে সংগঠনটির উদ্যোগে মোট ২৫৪টি বেওয়ারিশ লাশ দাফনের নজির তৈরি হলো।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের পূর্ব মেড্ডা এলাকার তিতাস নদী সংলগ্ন বেওয়ারিশ লাশের কবরস্থানে মরদেহটি দাফন করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এম এম রকীব উর রাজা।

জানা গেছে, গত শুক্রবার (২২ মে) সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার মাছিহাতা ইউনিয়নের উত্তর জগৎসার গ্রামের খোয়াজুদ্দিনের বাড়ির পাশের একটি পুকুরঘাট থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ের (৫২) এক ভবঘুরে ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৃত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে ভবঘুরে ও মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়াতেন। তবে স্থানীয় কেউ তার পরিচয় শনাক্ত করতে পারেননি। ধারণা করা হচ্ছে, গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত কোনো এক সময়ে অসুস্থতাজনিত বা অজ্ঞাত কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। মরদেহ উদ্ধারের সময় তার মুখে দাঁড়ি-গোঁফ ছিল এবং তিনি জিন্স প্যান্ট পরিহিত ছিলেন। পরিচয় শনাক্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) মরদেহের ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করলেও আঙুলের ছাপের মাধ্যমে তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পরে ছয়দিন হাসপাতালের হিমাগারে সংরক্ষণ করে রাখা হলেও স্বজনদের কেউ খোঁজ নিতে আসেননি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘরের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. আজহার উদ্দিন বলেন, “ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমেও পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তারপরও আমরা ছয়দিন মরদেহটি হিমাগারে রেখেছিলাম, যদি কোনো স্বজন এসে পরিচয় নিশ্চিত করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কেউ না আসায় ঈদের দিনেই মরদেহটি দাফন করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “বেওয়ারিশের ওয়ারিশ হয়ে গত ছয় বছর ধরে আমরা এই মানবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। পরিচয়হীন মানুষগুলোর সম্মানজনক দাফন নিশ্চিত করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ঝড়-বৃষ্টি কিংবা বড় কোনো উৎসব কোনো কিছুই মানবিক কাজকে থামাতে পারে না।”

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এম এম রকীব উর রাজা বলেন, “পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় মরদেহটি বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়েছে। আমি নিজে উপস্থিত থেকে পুরো কার্যক্রম দেখেছি। অত্যন্ত সম্মানের সঙ্গে তারা বেওয়ারিশ লাশ দাফন করেন। এমন মানবিক কাজ সত্যিই বিরল। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতেও ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘরকে প্রয়োজনীয় আইনি সহযোগিতা দেওয়া হবে।”

উল্লেখ্য, পবিত্র ঈদুল আযহার মতো উৎসবের দিনেও সংগঠনটির মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ঝড়-বৃষ্টি কিংবা প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তারা বেওয়ারিশ লাশ দাফন ও অজ্ঞাত রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত সংগঠনটির উদ্যোগে ২৫৪টি বেওয়ারিশ লাশ দাফন এবং দুই হাজারের বেশি অজ্ঞাত রোগীর চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও রক্তদান, অক্সিজেন সেবা ও অসহায়-সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মতো বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে সংগঠনটি।