ঢাকা ১২:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাড়ি ফেরার পথে অপহরণের শিকার ডুয়েট শিক্ষার্থী নাহিদ।। মুক্তিপণ আদায়ের পর মুক্ত  ব্রাহ্মণবাড়িয়া পাসপোর্ট অফিসে জেলা পরিষদ প্রশাসকের আকস্মিক পরিদর্শন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নানা অনিয়মের দায়ে অচি মেমোরিয়াল ও পদ্মা মা ও শিশু হাসপাতালকে ৪ লাখ টাকা জরিমানা হাইকোর্টের নির্দেশে বন্ধ হলো বহুতল ভবনের নির্মাণকাজ ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৬৫টি কচ্ছপ উদ্ধার, সালদানদীতে অবমুক্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কাজীপাড়ায় মাদকবিরোধী সমাবেশ সফল করতে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত নদী-খাল-বিলে মাছ রক্ষায় অবৈধ রিংজাল বন্ধে সচেতনতার আহ্বান জেলা পরিষদ প্রশাসক সিরাজুল ইসলামের এফ এ টাওয়ারের অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীকে জেলা পরিষদের আর্থিক অনুদান প্রদান ঢেউ’র আহবায়ক সোহেল সদস্য সচিব আইফাত  তিতাস তীরের কৃষিজমি ও জলাশয় দখলমুক্তে উচ্ছেদ অভিযান

ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র ব্যবস্থার পরিবর্তন করতে হবে- জোনায়েদ সাকী

বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৪:০০:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ২২৬ বার পড়া হয়েছে

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধানসম্বয়কারী জননেতা জোনায়েদ সাকী বলেছেন- বাঞ্ছারামপুরের বহু বিএনপি নেতাকর্মী ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে গুম, খুন ও অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

তিনি বলেন, সারাদেশের মতো বাঞ্ছারামপুরেও বিএনপির নেতাকর্মীদের রিমান্ডে নিয়ে ঝুলিয়ে পেটানোসহ ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তবুও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই থেমে থাকেনি।

আজ সোমবার সকালে বাঞ্ছারামপুর সদর ইউনিয়ন বিএনপির সাথে পরিচিতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, “একটি ফ্যাসিবাদী সরকার বিদায় নিয়েছে। এখন নতুন বাংলাদেশ গড়ার সময়। বাঞ্ছারামপুরবাসী যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে তাহলে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের লড়াই শুধু সরকার পরিবর্তনের জন্য ছিল না, বরং ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের জন্য ছিল। যে সরকার দেশ থেকে ন্যায়বিচার উধাও করে দিয়েছিল, জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে স্বৈরশাসন কায়েম করেছিল সেই ব্যবস্থা বদলাতে হবে।”

তিনি জোর দিয়ে বলেন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য জবাবদিহি মূলক রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে শাসকরা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে। দেশের ১৮ কোটি মানুষ ভোটের মাধ্যমে ঠিক করবে কারা তাদের প্রতিনিধি হবে।

তিনি বলেন, “সংবিধান এমনভাবে সংস্কার করতে হবে যাতে ভবিষ্যতে কোনো শাসক ইচ্ছামতো তা পরিবর্তন করতে না পারে। জনগণের মতামতের ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কার পরিষদ ও জাতীয় সংসদের মাধ্যমে এই সংস্কার হতে হবে। গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন ছাড়া টেকসই সংস্কার সম্ভব নয়।”

তিনি বলেন, বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন এই তিনটি বিষয়ই এখন জাতীয় স্বার্থে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। জুলাই মাসে ছাত্র, শিশু ও তরুণদের হত্যার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচন পেছানো বা বানচালের যে কোনো ষড়যন্ত্র দেশকে গভীর সংকটে ফেলবে। এই মুহূর্তে দেশে একটি নির্বাচিত সরকার অপরিহার্য।

তিনি আরও বলেন, “আমাদের সামনে কয়েকটি সুস্পষ্ট দায়িত্ব দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা, জনগণের ভোটে ক্ষমতা হস্তান্তর নিশ্চিত করা এবং ন্যায্যতার ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনা।”

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দেখানো স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার ধারাকে সমুন্নত রাখার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি অভিযোগ করেন, পার্শ্ববর্তী দেশগুলো বাংলাদেশের শাসকদের ব্যবহার করে দেশকে ‘মক্কেল রাষ্ট্রে’ পরিণত করার চেষ্টা করেছে। তবে জনগণের রায়ে স্পষ্ট বাংলাদেশ আর কখনো মক্কেল রাষ্ট্র হবে না।

তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা চাই যেখানে ক্ষমতায় আসা-যাওয়া হবে শুধু জনগণের ভোটে। কৃষক, শ্রমিক ও মেহনতি মানুষ তাদের ন্যায্য হিস্যা পাবে। তাদের সন্তানদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার নিশ্চয়তা দিতে হবে। ৩১ দফা বাস্তবায়নের লড়াই অব্যাহত থাকবে।”

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ভিপি একেএম মূসা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ম. ম. ইলিয়াস, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম সাজ্জাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক এসএইচজেড শুকরী সেলিম, উপজেলা গুসংহতি আন্দোলন বাংলাদেশের উপজেলা প্রধান সম্বয়নকারী শামীম শিবলীসহ উপজেলা ও পৌর বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল এবং গণসংহতি আন্দোলন বাংলাদেশ বাঞ্ছারামপুর শাখার নেতাকর্মীরা।

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র ব্যবস্থার পরিবর্তন করতে হবে- জোনায়েদ সাকী

আপডেট সময় : ০৪:০০:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধানসম্বয়কারী জননেতা জোনায়েদ সাকী বলেছেন- বাঞ্ছারামপুরের বহু বিএনপি নেতাকর্মী ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে গুম, খুন ও অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

তিনি বলেন, সারাদেশের মতো বাঞ্ছারামপুরেও বিএনপির নেতাকর্মীদের রিমান্ডে নিয়ে ঝুলিয়ে পেটানোসহ ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তবুও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই থেমে থাকেনি।

আজ সোমবার সকালে বাঞ্ছারামপুর সদর ইউনিয়ন বিএনপির সাথে পরিচিতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, “একটি ফ্যাসিবাদী সরকার বিদায় নিয়েছে। এখন নতুন বাংলাদেশ গড়ার সময়। বাঞ্ছারামপুরবাসী যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে তাহলে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের লড়াই শুধু সরকার পরিবর্তনের জন্য ছিল না, বরং ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের জন্য ছিল। যে সরকার দেশ থেকে ন্যায়বিচার উধাও করে দিয়েছিল, জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে স্বৈরশাসন কায়েম করেছিল সেই ব্যবস্থা বদলাতে হবে।”

তিনি জোর দিয়ে বলেন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য জবাবদিহি মূলক রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে শাসকরা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে। দেশের ১৮ কোটি মানুষ ভোটের মাধ্যমে ঠিক করবে কারা তাদের প্রতিনিধি হবে।

তিনি বলেন, “সংবিধান এমনভাবে সংস্কার করতে হবে যাতে ভবিষ্যতে কোনো শাসক ইচ্ছামতো তা পরিবর্তন করতে না পারে। জনগণের মতামতের ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কার পরিষদ ও জাতীয় সংসদের মাধ্যমে এই সংস্কার হতে হবে। গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন ছাড়া টেকসই সংস্কার সম্ভব নয়।”

তিনি বলেন, বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন এই তিনটি বিষয়ই এখন জাতীয় স্বার্থে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। জুলাই মাসে ছাত্র, শিশু ও তরুণদের হত্যার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচন পেছানো বা বানচালের যে কোনো ষড়যন্ত্র দেশকে গভীর সংকটে ফেলবে। এই মুহূর্তে দেশে একটি নির্বাচিত সরকার অপরিহার্য।

তিনি আরও বলেন, “আমাদের সামনে কয়েকটি সুস্পষ্ট দায়িত্ব দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা, জনগণের ভোটে ক্ষমতা হস্তান্তর নিশ্চিত করা এবং ন্যায্যতার ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনা।”

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দেখানো স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার ধারাকে সমুন্নত রাখার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি অভিযোগ করেন, পার্শ্ববর্তী দেশগুলো বাংলাদেশের শাসকদের ব্যবহার করে দেশকে ‘মক্কেল রাষ্ট্রে’ পরিণত করার চেষ্টা করেছে। তবে জনগণের রায়ে স্পষ্ট বাংলাদেশ আর কখনো মক্কেল রাষ্ট্র হবে না।

তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা চাই যেখানে ক্ষমতায় আসা-যাওয়া হবে শুধু জনগণের ভোটে। কৃষক, শ্রমিক ও মেহনতি মানুষ তাদের ন্যায্য হিস্যা পাবে। তাদের সন্তানদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার নিশ্চয়তা দিতে হবে। ৩১ দফা বাস্তবায়নের লড়াই অব্যাহত থাকবে।”

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ভিপি একেএম মূসা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ম. ম. ইলিয়াস, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম সাজ্জাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক এসএইচজেড শুকরী সেলিম, উপজেলা গুসংহতি আন্দোলন বাংলাদেশের উপজেলা প্রধান সম্বয়নকারী শামীম শিবলীসহ উপজেলা ও পৌর বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল এবং গণসংহতি আন্দোলন বাংলাদেশ বাঞ্ছারামপুর শাখার নেতাকর্মীরা।