ঢাকা ০২:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জেলা বিএনপির ১৪ ইউনিটের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভা বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদ প্রশাসক সিরাজুল ইসলামের সৌজন্য সাক্ষাৎ তিতাসের বুকে দুই বছর পর নৌকা বাইচ, অর্ধলক্ষাধিক দর্শকের উচ্ছ্বাস বিজয়নগর মডেল প্রেসক্লাবের কমিটি গঠন সভাপতি মাইনুদ্দিন রুবেল,সাধারণ সম্পাদক এস এম টিপু চৌধুরী পলিথিন বর্জনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জেলা পরিষদ প্রশাসকের সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেড ক্রিসেন্ট নির্বাচনে শাহীন ভাইস চেয়ারম্যান, মিজানুর রহমান সেক্রেটারি বণিকপাড়ার সড়কে জলাবদ্ধতা, দুর্গন্ধযুক্ত পানিতে চরম দুর্ভোগে এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা জেলা পরিষদ প্রশাসককে নোঙর বাংলাদেশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার ফুলেল শুভেচ্ছা আনন্দ মিছিল মৎস্য অবমুক্তকরণ ও বৃক্ষরোপণে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী নদী-প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষায় নোঙর বাংলাদেশের কার্যক্রমকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল এমপির

রুশ বাহিনীর হয়ে যুদ্ধে অংশ নিয়ে প্রাণ হারালেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আকরাম

আজকের ব্রাহ্মণবাড়িয়া রিপোর্ট:
  • আপডেট সময় : ০৫:৩৪:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৫
  • / ৪২৮ বার পড়া হয়েছে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জের মোহাম্মদ আকরাম হোসেন নামের এক যুবক রাশিয়া গিয়ে দালালের খপ্পরে পড়ে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রুশ বাহিনীর হয়ে যুদ্ধে অংশ নিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। গতকাল শুক্রবার (১৮ এপ্রিল) মোবাইলফোনে আকরামের এক সহযোদ্ধা তার মৃত্যুর খবর পরিবারকে জানান।

আকরাম মিয়ার মৃত্যুর খবরে পরিবারে চলছে শোকের মাতম। শনিবার (১৯ এপ্রিল) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জের হোসেনপুর গ্রামে সুখের ছায়া নেমে এসেছে। ছেলের ছবি নিয়ে মা মোবিনা বেগম বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন। শোকে হতবিহ্বল পরিবারের অন্য সদস্যরা।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওয়েল্ডিংয়ের কাজ শিখে সংসারের সচ্ছলতা আর নিজের ভবিষ্যতের আশায় রাশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন উপজেলার লালপুর হোসেনপুর গ্রামের মোরশেদ মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ আকরাম (২৫)। তিন ভাই ও দুই বোনসহ পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে আকরাম ছিল সবার বড়। আকরামদের সংসারের একমাত্র উপার্জনকারী দিনমজুর পিতা মোরশেদ মিয়া স্ত্রী, পুত্র ও কন্যা নিয়ে কোনোরকমে দিনাতিপাত করছিলেন। এ অবস্থায় ওয়েল্ডিংয়ের কাজ শিখিয়ে আত্মীয়স্বজনের সহযোগিতায় প্রায় ৯ মাস আগে আকরামকে রাশিয়া পাঠানো হয়। রাশিয়ায় যাবার পর বিগত ছয় মাস সেখানকার একটি চায়না কোম্পানিতে ওয়েল্ডিংয়ের কাজ করেন আকরাম। বেতন খুব বেশি না পেলেও তার উপার্জনে পরিবার স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে শুরু করে। কিন্তু বিগত আড়াই মাস আগে আকরাম দালালের প্রলোভনে পড়ে রুশ সেনাবাহিনীতে চুক্তিভিত্তিক যোদ্ধা হিসেবে যুক্ত হয়ে অংশ নেন ইউক্রেন যুদ্ধে। রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেওয়ার ছবিও নিজের ফেসবুক আইডিতে আপলোড করেছিলেন তিনি। কিন্তু ইউক্রেনের মিসাইল হামলায় থেমে যায় তার স্বপ্নের যাত্রা। নিহতের মরদেহ দেশে আনতে ও ক্ষতিপূরণ পেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করছেন পরিবারের সদস্যরা।

আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাফে মোহাম্মদ ছড়া বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে আশুগঞ্জের যুবকের মৃত্যুর বিষয়টি অবগত হয়েছি। নিহতের মরদেহ ফিরিয়ে আনতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

রুশ বাহিনীর হয়ে যুদ্ধে অংশ নিয়ে প্রাণ হারালেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আকরাম

আপডেট সময় : ০৫:৩৪:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৫

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জের মোহাম্মদ আকরাম হোসেন নামের এক যুবক রাশিয়া গিয়ে দালালের খপ্পরে পড়ে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রুশ বাহিনীর হয়ে যুদ্ধে অংশ নিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। গতকাল শুক্রবার (১৮ এপ্রিল) মোবাইলফোনে আকরামের এক সহযোদ্ধা তার মৃত্যুর খবর পরিবারকে জানান।

আকরাম মিয়ার মৃত্যুর খবরে পরিবারে চলছে শোকের মাতম। শনিবার (১৯ এপ্রিল) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জের হোসেনপুর গ্রামে সুখের ছায়া নেমে এসেছে। ছেলের ছবি নিয়ে মা মোবিনা বেগম বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন। শোকে হতবিহ্বল পরিবারের অন্য সদস্যরা।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওয়েল্ডিংয়ের কাজ শিখে সংসারের সচ্ছলতা আর নিজের ভবিষ্যতের আশায় রাশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন উপজেলার লালপুর হোসেনপুর গ্রামের মোরশেদ মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ আকরাম (২৫)। তিন ভাই ও দুই বোনসহ পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে আকরাম ছিল সবার বড়। আকরামদের সংসারের একমাত্র উপার্জনকারী দিনমজুর পিতা মোরশেদ মিয়া স্ত্রী, পুত্র ও কন্যা নিয়ে কোনোরকমে দিনাতিপাত করছিলেন। এ অবস্থায় ওয়েল্ডিংয়ের কাজ শিখিয়ে আত্মীয়স্বজনের সহযোগিতায় প্রায় ৯ মাস আগে আকরামকে রাশিয়া পাঠানো হয়। রাশিয়ায় যাবার পর বিগত ছয় মাস সেখানকার একটি চায়না কোম্পানিতে ওয়েল্ডিংয়ের কাজ করেন আকরাম। বেতন খুব বেশি না পেলেও তার উপার্জনে পরিবার স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে শুরু করে। কিন্তু বিগত আড়াই মাস আগে আকরাম দালালের প্রলোভনে পড়ে রুশ সেনাবাহিনীতে চুক্তিভিত্তিক যোদ্ধা হিসেবে যুক্ত হয়ে অংশ নেন ইউক্রেন যুদ্ধে। রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেওয়ার ছবিও নিজের ফেসবুক আইডিতে আপলোড করেছিলেন তিনি। কিন্তু ইউক্রেনের মিসাইল হামলায় থেমে যায় তার স্বপ্নের যাত্রা। নিহতের মরদেহ দেশে আনতে ও ক্ষতিপূরণ পেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করছেন পরিবারের সদস্যরা।

আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাফে মোহাম্মদ ছড়া বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে আশুগঞ্জের যুবকের মৃত্যুর বিষয়টি অবগত হয়েছি। নিহতের মরদেহ ফিরিয়ে আনতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।