ঢাকা ০৩:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রাজনৈতিক ও পারিবারিক সদিচ্ছা ছাড়া মাদক নির্মূল সম্ভব নয় বিজয়নগরে সড়ক সংস্কারে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগে কাজ বন্ধ প্রকৃত শ্রমিকদের প্রতি অন্যায় আচরণ মেনে নেওয়া হবে না- ইঞ্জিনিয়ার শ্যামল এমপি পুশইনের আশঙ্কায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সীমান্তে সতর্ক অবস্থায় বিজিবি এলাকায় মাদকবিরোধী কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকাই কাল হলো আবু সাঈদের মাদক একটি সমাজ ও রাষ্ট্রবিরোধী ব্যাধি-মাওলানা মোবারক হোসেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ভুল ইনজেকশন দেয়ায় শিশু মৃত্যু অসহায় নারীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করালেন জেলা পরিষদ প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তূর্ণা এক্সপ্রেসে পাথর নিক্ষেপ: চোখ হারালো আয়কর আইনজীবী ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১৮০ কেজি গাঁজা ও গাড়িসহ এক মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

বিজয়নগরে সড়ক সংস্কারে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগে কাজ বন্ধ

আজকের ব্রাহ্মণবাড়িয়া রিপোর্ট:
  • আপডেট সময় : ০৪:০৮:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
  • / ২৯ বার পড়া হয়েছে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ চান্দুরা-সিঙ্গারবিল সড়ক সংস্কার কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও নির্মাণ বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের রাস্তার কাজ বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে বিজয়নগর উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী দপ্তরের কর্মকর্তারা সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে সংস্কার কাজে বিভিন্ন অনিয়ম দেখতে পান। পরে তারা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন এবং নির্ধারিত সিডিউল অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন।

এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চান্দুরা-সিঙ্গারবিল সড়কের (চান্দুরা আরঅ্যান্ডএইচ-নুরপুর জিসি রোড) আড়িয়ল ব্রিজ থেকে প্রায় সোয়া এক কিলোমিটার অংশ সংস্কারের কাজের জন্য ২০২৪ সালের ২৮ ডিসেম্বর চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ৯৩ লাখ ৬৮ হাজার ৫১২ টাকা।

সংস্কার কাজ বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স রিপা-সাফা এন্টারপ্রাইজ। তবে কাজ শুরুর পর অজ্ঞাত কারণে দীর্ঘ সময় কাজ বন্ধ রাখে প্রতিষ্ঠানটি। পরবর্তীতে পুনরায় কাজ শুরু হলেও কাজের মান নিয়ে অভিযোগ ওঠে।

এলজিইডি কর্মকর্তারা জানান, সংস্কার কাজের প্রায় ৩০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু কাজের মান সন্তোষজনক না হওয়ায় এবং একাধিক অনিয়ম ধরা পড়ায় গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সতর্কতামূলক লিখিত নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। এরপরও তারা প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
প্রকৌশল দপ্তরের পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, সড়কের লেভেল ঠিক না রেখে, প্রাইম কোট ছাড়াই অপরিচ্ছন্ন ধুলাবালুর ওপর কার্পেটিং করা হয়েছে। এছাড়া কাজে ব্যবহৃত পাথরের মানও নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী নয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে প্রকল্পটির নির্ধারিত মেয়াদ গত ৩০ মার্চ ২০২৬ তারিখে শেষ হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেয়াদ বৃদ্ধি না করেই পুনরায় কাজ শুরু করে। বিষয়টি নজরে আসার পর উপজেলা এলজিইডি কর্তৃপক্ষ কাজের মান যাচাই করে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিজয়নগর উপজেলা এলজিইডি দপ্তর থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে বিস্তারিত প্রতিবেদন ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চিঠি পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে বিজয়নগর উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মোহাম্মদ আশিকুর রহমান ভূঞা বলেন, “প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও মেয়াদ বৃদ্ধি ছাড়া কাজ পরিচালনা করা হয়েছে। এছাড়া সংস্কার কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও কাজের মান সঠিকভাবে বজায় না রাখার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

তবে এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

উল্লেখ্য যে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ সিরাজুল ইসলাম সিরাজের কাছে বিজয়নগর উপজেলার জনগণ নিম্নমানের রাস্তার কাজের কথা অবহিত করলে তিনি ২৫ জুন সরেজমিনে পরিদর্শন করে এলজিআরডির নির্বাহী প্রকৌশলীকে নিম্নমানের কাজ করার কথা জানান। তারপরই এলজিআরডি অফিস নড়েচড়ে উঠে। 

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

বিজয়নগরে সড়ক সংস্কারে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগে কাজ বন্ধ

আপডেট সময় : ০৪:০৮:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ চান্দুরা-সিঙ্গারবিল সড়ক সংস্কার কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও নির্মাণ বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের রাস্তার কাজ বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে বিজয়নগর উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী দপ্তরের কর্মকর্তারা সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে সংস্কার কাজে বিভিন্ন অনিয়ম দেখতে পান। পরে তারা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন এবং নির্ধারিত সিডিউল অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন।

এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চান্দুরা-সিঙ্গারবিল সড়কের (চান্দুরা আরঅ্যান্ডএইচ-নুরপুর জিসি রোড) আড়িয়ল ব্রিজ থেকে প্রায় সোয়া এক কিলোমিটার অংশ সংস্কারের কাজের জন্য ২০২৪ সালের ২৮ ডিসেম্বর চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ৯৩ লাখ ৬৮ হাজার ৫১২ টাকা।

সংস্কার কাজ বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স রিপা-সাফা এন্টারপ্রাইজ। তবে কাজ শুরুর পর অজ্ঞাত কারণে দীর্ঘ সময় কাজ বন্ধ রাখে প্রতিষ্ঠানটি। পরবর্তীতে পুনরায় কাজ শুরু হলেও কাজের মান নিয়ে অভিযোগ ওঠে।

এলজিইডি কর্মকর্তারা জানান, সংস্কার কাজের প্রায় ৩০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু কাজের মান সন্তোষজনক না হওয়ায় এবং একাধিক অনিয়ম ধরা পড়ায় গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সতর্কতামূলক লিখিত নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। এরপরও তারা প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
প্রকৌশল দপ্তরের পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, সড়কের লেভেল ঠিক না রেখে, প্রাইম কোট ছাড়াই অপরিচ্ছন্ন ধুলাবালুর ওপর কার্পেটিং করা হয়েছে। এছাড়া কাজে ব্যবহৃত পাথরের মানও নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী নয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে প্রকল্পটির নির্ধারিত মেয়াদ গত ৩০ মার্চ ২০২৬ তারিখে শেষ হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেয়াদ বৃদ্ধি না করেই পুনরায় কাজ শুরু করে। বিষয়টি নজরে আসার পর উপজেলা এলজিইডি কর্তৃপক্ষ কাজের মান যাচাই করে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিজয়নগর উপজেলা এলজিইডি দপ্তর থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে বিস্তারিত প্রতিবেদন ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চিঠি পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে বিজয়নগর উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মোহাম্মদ আশিকুর রহমান ভূঞা বলেন, “প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও মেয়াদ বৃদ্ধি ছাড়া কাজ পরিচালনা করা হয়েছে। এছাড়া সংস্কার কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও কাজের মান সঠিকভাবে বজায় না রাখার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

তবে এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

উল্লেখ্য যে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ সিরাজুল ইসলাম সিরাজের কাছে বিজয়নগর উপজেলার জনগণ নিম্নমানের রাস্তার কাজের কথা অবহিত করলে তিনি ২৫ জুন সরেজমিনে পরিদর্শন করে এলজিআরডির নির্বাহী প্রকৌশলীকে নিম্নমানের কাজ করার কথা জানান। তারপরই এলজিআরডি অফিস নড়েচড়ে উঠে।