চার বছর পর শিপ্রা রানী হত্যা রহস্যের উন্মোচন, পিবিআইয়ের জালে মূল ঘাতক কাজল
- আপডেট সময় : ১২:২৯:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
- / ৬৫ বার পড়া হয়েছে
দীর্ঘ চার বছর ধরে অন্ধকারে ঢাকা থাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর শিপ্রা রানী দাস হত্যা মামলার রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী এবং দীর্ঘদিন পলাতক থাকা তাজুল ইসলাম প্রকাশ কাজলকে (৪২) গ্রেপ্তার করেছে সংস্থাটি।
সোমবার (২২ জুন) বেলা সাড়ে ১১টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মামলার তদন্ত অগ্রগতি, রহস্য উদ্ঘাটন এবং আসামি গ্রেপ্তারের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন পিবিআই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শচীন চাকমা।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক অনুসন্ধান, গোয়েন্দা নজরদারি এবং বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী রেলস্টেশন এলাকা থেকে তাজুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, নিহত শিপ্রা রানী দাস (৩৪) জীবিকার তাগিদে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বাবুর্চির সহকারী হিসেবে কাজ করতেন। ২০২১ সালের ১ অক্টোবর কাজের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর তিনি নিখোঁজ হন। পরবর্তীতে ৪ অক্টোবর নবীনগর উপজেলার নবীপুর এলাকার একটি জলার চরের ফসলি জমি থেকে অর্ধগলিত অবস্থায় এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে স্বজনরা মরদেহটি শিপ্রা রানী দাসের বলে শনাক্ত করেন।
এ ঘটনায় ২০২২ সালের ৯ জানুয়ারি নিহতের স্বামী সবিনয় দাস বাদী হয়ে নবীনগর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ সময় তদন্ত করেও স্থানীয় থানা পুলিশ ঘটনার কোনো রহস্য উদ্ঘাটন করতে না পারায় পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে মামলাটির তদন্তভার পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পিবিআইয়ের তদন্তে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঘটনার প্রায় ছয় থেকে সাত মাস আগে থেকে শিপ্রা রানী দাসের সঙ্গে তাজুল ইসলাম কাজলের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে তাদের সম্পর্ক নিয়ে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। শিপ্রা রানী কাজলের কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন এবং টাকা না দিলে তাদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক প্রকাশ করে দেওয়ার হুমকি দেন।
এ অবস্থায় লোকসমাজে অপমানিত হওয়ার আশঙ্কা থেকে কাজল হত্যার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার দিন সে শিপ্রা রানীকে কৌশলে নির্জন নদীতীরবর্তী এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে তাকে ধর্ষণের পর গলা চেপে হত্যা করে। পরে মরদেহ জলার চরের একটি ফসলি জমিতে ফেলে রেখে আত্মগোপনে চলে যায়।
এর আগে একই মামলার তদন্তে ২০২৩ সালের ৭ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জ থেকে কালু বাবুর্চি প্রকাশ কালু সাহা (৫৫) নামে এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছিল পিবিআই।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার শচীন চাকমা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত থাকা এই ক্লু-লেস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্তকারী কর্মকর্তারা নিরলসভাবে কাজ করেছেন। তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য এবং মাঠ পর্যায়ের অনুসন্ধানের সমন্বয়ে মূল আসামিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।
তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং মামলার তদন্তের বাকি কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
দীর্ঘ চার বছর পর বহুল আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচিত হওয়ায় নিহতের পরিবারসহ স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। পিবিআইয়ের এই সাফল্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সংবাদটি শেয়ার করুন





















