সরাইল থানার ওসির সঙ্গে রুমিন ফারহানার বাদানুবাদ, পুলিশের জিডি
- আপডেট সময় : ০১:১১:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
- / ২৫ বার পড়া হয়েছে
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর কাদের ভূঁইয়ার সঙ্গে থানা ভবনে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার বাদানুবাদের ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে জিডির বিষয়টি জানাজানি হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোহাম্মদ আরাফাতুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তবে জিডির বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে রাজি হননি ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া। এদিকে, ঘটনার দিন রুমিন ফারহানার সঙ্গে থানায় কারা কারা এসেছিলেন, পুলিশ তাঁদের পরিচয় ও তথ্য সংগ্রহ করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আরাফাতুল ইসলাম বলেন, “ওই দিনের ঘটনাটি উল্লেখ করে একটি জিডি করা হয়েছে। এটি কোনো অভিযোগ নয়। উল্লেখযোগ্য কোনো ঘটনা ঘটলে আমরা সাধারণত জিডি করে রাখি।”
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাতে সরাইল থানা ভবনে ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়ার সঙ্গে বাদানুবাদে জড়ান রুমিন ফারহানা। ওসির বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ এবং দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শনের সময় পুলিশি নিরাপত্তা না পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে তাঁদের মধ্যে এ বাদানুবাদ হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দুর্গাপূজা চলাকালে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের সময় সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অনুরোধ জানানো হলেও ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেননি বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে জানতে এবং ওসির বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে কথা বলতে বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে থানায় যান রুমিন ফারহানা। রাত ৯টা পর্যন্ত তিনি ওসির কক্ষে অবস্থান করেন।
এ সময় রুমিন ফারহানার সঙ্গে থানায় যাওয়া এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, ওসি তাঁর কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন। তবে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন ওসি। ওই ব্যক্তিকে রুমিন ফারহানা শিখিয়ে থানায় এনেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এ নিয়ে বাদানুবাদের একপর্যায়ে রুমিন ফারহানা ওসিকে বলেন, “আপনি তো বিরাট আওয়ামী লীগ ছিলেন। আপনার হিস্ট্রি তো আমি জানি স্যার। যাই হোক, সেটা নিয়ে আমার কোনো মাথাব্যথা নেই।”
অন্যদিকে, রুমিন ফারহানার অভিযোগ অস্বীকার করে ওই দিন সাংবাদিকদের কাছে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া। তিনি বলেন, সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা শত শত লোক নিয়ে থানায় এসে অস্থিরতা তৈরি করেন। কয়েকজনকে শিখিয়ে-পরিয়ে আজেবাজে কথা বলার জন্য নিয়ে আসেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ইটভাটা থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে ওসি বলেন, হাওরের সব ইটভাটা পানির নিচে রয়েছে।
দুর্গাপূজা উপলক্ষে পুরো থানা এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি। তবে ওই সময়ে ব্যক্তিগতভাবে রুমিন ফারহানার সঙ্গে পুলিশের একটি দল রাখা কঠিন ছিল বলে মন্তব্য করেন ওসি।
সংবাদটি শেয়ার করুন














