ঢাকা ১০:৪৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাড়ি ফেরার পথে অপহরণের শিকার ডুয়েট শিক্ষার্থী নাহিদ।। মুক্তিপণ আদায়ের পর মুক্ত  ব্রাহ্মণবাড়িয়া পাসপোর্ট অফিসে জেলা পরিষদ প্রশাসকের আকস্মিক পরিদর্শন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নানা অনিয়মের দায়ে অচি মেমোরিয়াল ও পদ্মা মা ও শিশু হাসপাতালকে ৪ লাখ টাকা জরিমানা হাইকোর্টের নির্দেশে বন্ধ হলো বহুতল ভবনের নির্মাণকাজ ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৬৫টি কচ্ছপ উদ্ধার, সালদানদীতে অবমুক্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কাজীপাড়ায় মাদকবিরোধী সমাবেশ সফল করতে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত নদী-খাল-বিলে মাছ রক্ষায় অবৈধ রিংজাল বন্ধে সচেতনতার আহ্বান জেলা পরিষদ প্রশাসক সিরাজুল ইসলামের এফ এ টাওয়ারের অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীকে জেলা পরিষদের আর্থিক অনুদান প্রদান ঢেউ’র আহবায়ক সোহেল সদস্য সচিব আইফাত  তিতাস তীরের কৃষিজমি ও জলাশয় দখলমুক্তে উচ্ছেদ অভিযান

বুড়িগঙ্গার আদলে দখল ও দূষণমুক্ত করা হবে তিতাস নদী

আবু নাছের রতন
  • আপডেট সময় : ০৩:৫৯:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ১৯০ বার পড়া হয়েছে

কালের প্রবাহে অস্তিত্ব সংকটে পড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঐতিহ্যবাহী তিতাস নদীকে আবার প্রাণ ফিরিয়ে দিতে উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। নদীর দখল উচ্ছেদ ও দূষণ বন্ধে পানি উন্নয়ন বোর্ড, বিআইডব্লিউটিএ এবং পৌরসভাসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নিয়ে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।

এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহান শহরের শিমরাইলকান্দি মসজিদঘাট থেকে মেড্ডা শ্মশানঘাট পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার এলাকা নৌপথে ঘুরে দেখেন। পরিদর্শনকালে নদীর দুই পাড়ে অবৈধ ভরাট, গড়ে ওঠা স্থাপনা, বাজার ও গৃহস্থালির বর্জ্যে নদী দূষণের চিত্র সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন তিনি।

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের জেলা প্রশাসক বলেন, তিতাস নদী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রাণ হলেও আজ তা বিলুপ্তির মুখে। নির্বিচারে বর্জ্য ফেলা ও নদীর জমি ভরাট করে দখল নেওয়ার ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তিনি জানান, সিএস নকশা অনুযায়ী নদীর সীমানা চিহ্নিত করা হবে এবং প্রাথমিকভাবে দেখা গেছে, নদী পাড়ের প্রায় ৯০ শতাংশ স্থাপনাই অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, রাজধানীর বুড়িগঙ্গা নদী পুনরুদ্ধারের আদলে তিতাস নদীকে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে একটি মেগা প্রকল্প নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।

তিনি জানান, পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে নদীর নাব্যতা ও স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরবে, পাশাপাশি নৌপথে ব্যবসা-বাণিজ্যের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে। দখলদার উচ্ছেদের পর নদীর দুই পাড়ে ওয়াকওয়ে নির্মাণের কথাও ভাবা হচ্ছে। তবে এসব উদ্যোগ সফল করতে জনসচেতনতার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মো. শরীফুল ইসলাম, উপ-পরিচালক (স্থানীয় সরকার বিভাগ) ও প্রশাসক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভা; আকাশ দত্ত, নির্বাহী প্রকৌশলী, জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড; মোহাম্মদ নাহিদ হোসেন, কর্মকর্তা, আশুগঞ্জ–ভৈরব বাজার নদী বন্দর (বিআইডব্লিউটিএ); এম এম রকীব উর রাজা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এবং জাবেদ রহিম বিজন, সভাপতি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব।

এ সময় পানি উন্নয়ন বোর্ড ও বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তারা নদী রক্ষা, খনন ও সীমানা নির্ধারণে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

বুড়িগঙ্গার আদলে দখল ও দূষণমুক্ত করা হবে তিতাস নদী

আপডেট সময় : ০৩:৫৯:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কালের প্রবাহে অস্তিত্ব সংকটে পড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঐতিহ্যবাহী তিতাস নদীকে আবার প্রাণ ফিরিয়ে দিতে উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। নদীর দখল উচ্ছেদ ও দূষণ বন্ধে পানি উন্নয়ন বোর্ড, বিআইডব্লিউটিএ এবং পৌরসভাসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নিয়ে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।

এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহান শহরের শিমরাইলকান্দি মসজিদঘাট থেকে মেড্ডা শ্মশানঘাট পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার এলাকা নৌপথে ঘুরে দেখেন। পরিদর্শনকালে নদীর দুই পাড়ে অবৈধ ভরাট, গড়ে ওঠা স্থাপনা, বাজার ও গৃহস্থালির বর্জ্যে নদী দূষণের চিত্র সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন তিনি।

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের জেলা প্রশাসক বলেন, তিতাস নদী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রাণ হলেও আজ তা বিলুপ্তির মুখে। নির্বিচারে বর্জ্য ফেলা ও নদীর জমি ভরাট করে দখল নেওয়ার ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তিনি জানান, সিএস নকশা অনুযায়ী নদীর সীমানা চিহ্নিত করা হবে এবং প্রাথমিকভাবে দেখা গেছে, নদী পাড়ের প্রায় ৯০ শতাংশ স্থাপনাই অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, রাজধানীর বুড়িগঙ্গা নদী পুনরুদ্ধারের আদলে তিতাস নদীকে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে একটি মেগা প্রকল্প নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।

তিনি জানান, পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে নদীর নাব্যতা ও স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরবে, পাশাপাশি নৌপথে ব্যবসা-বাণিজ্যের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে। দখলদার উচ্ছেদের পর নদীর দুই পাড়ে ওয়াকওয়ে নির্মাণের কথাও ভাবা হচ্ছে। তবে এসব উদ্যোগ সফল করতে জনসচেতনতার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মো. শরীফুল ইসলাম, উপ-পরিচালক (স্থানীয় সরকার বিভাগ) ও প্রশাসক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভা; আকাশ দত্ত, নির্বাহী প্রকৌশলী, জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড; মোহাম্মদ নাহিদ হোসেন, কর্মকর্তা, আশুগঞ্জ–ভৈরব বাজার নদী বন্দর (বিআইডব্লিউটিএ); এম এম রকীব উর রাজা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এবং জাবেদ রহিম বিজন, সভাপতি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব।

এ সময় পানি উন্নয়ন বোর্ড ও বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তারা নদী রক্ষা, খনন ও সীমানা নির্ধারণে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।