মাদক-কিশোর গ্যাং দমনে সামাজিক প্রতিরোধের আহ্বান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এমপি-এসপির কঠোর বার্তা
- আপডেট সময় : ১০:২০:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
- / ৬৫ বার পড়া হয়েছে
ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে মাদক, কিশোর সন্ত্রাস ও অপরাধমুক্ত করতে সরকার ও প্রশাসনের পাশাপাশি দলমত নির্বিশেষে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় বিএনপির অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল।
তিনি বলেন, সমাজ ও পরিবারের শান্তি রক্ষা করতে হলে আগে মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে হবে। সীমান্ত দিয়ে যাতে কোনোভাবেই মাদক প্রবেশ করতে না পারে, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের পৌর আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে সদর মডেল থানার আয়োজনে মাদকবিরোধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল বলেন, তরুণ প্রজন্মকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে আরও সক্রিয় হতে হবে। মাদক নির্মূলে আইনজীবীদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। একই সঙ্গে মাদকের বিরুদ্ধে নতুন আইন ও কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে একটি মডেল জেলা হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেন, সন্তানরা যাতে সন্ধ্যার পর অপ্রয়োজনে বাইরে না থাকে, সে বিষয়ে অভিভাবকদের নজর রাখতে হবে। পাশাপাশি সন্ধ্যার পর অপ্রয়োজনে বাইরে অবস্থানকারী শিক্ষার্থীদের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শাহ মো. আবদুর রউফ বলেন, সমাজ থেকে মাদক, কিশোর গ্যাং ও সন্ত্রাস নির্মূলে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একার প্রচেষ্টা যথেষ্ট নয়। এজন্য সমাজের প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষকে সচেতন হতে হবে এবং সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে জেলা পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এ কাজে রাজনৈতিক দলসহ সর্বস্তরের জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন।
জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম বলেন, মাদকাসক্তদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে আধুনিক রিহ্যাবিলিটেশন ও নিরাময় কেন্দ্র গড়ে তোলা প্রয়োজন। সরকারি সহযোগিতায় এসব কেন্দ্রে মাদকাসক্তদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা গেলে তারা সুস্থ জীবনে ফিরে আসার সুযোগ পাবে।
তিনি আরও বলেন, অতীতে যারা মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদের অনেকে এখনো বিভিন্নভাবে এ অপরাধ চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা অন্য কোনো প্রভাব ব্যবহার করে কেউ যাতে মাদক ব্যবসা চালাতে না পারে, সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
জামায়াতে ইসলামীর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আমির মাওলানা মোবারক হোসাইন বলেন, সব ধর্মীয় গ্রন্থেই মাদক সেবন ও মাদক ব্যবসাকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মাদককে সমাজের অন্যতম ভয়াবহ অপরাধ উল্লেখ করে তিনি মাদকের বিরুদ্ধে সর্বস্তরের মানুষকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে মাদক ও অপরাধ নির্মূলে বিএনপি ও সরকারকে সহযোগিতা করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
সমাবেশে র্যাব-৯-এর কোম্পানি কমান্ডার মো. নুরুন্নবী, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাজেদুল হাসান, এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আনাউল্লাহ, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সিরাজুল ইসলাম, সিনিয়র সহসভাপতি জহিরুল ইসলাম খোকন, সাবেক পৌর মেয়র ও জেলা বিএনপির সদস্য হাফিজুর রহমান মোল্লা কচিসহ বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশে স্বাগত বক্তব্য দেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শাহ মো. আবদুর রউফ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাইনুল ইসলাম চপল।
সমাবেশে মাদক সমস্যার কারণ ও প্রতিকার নিয়ে বক্তব্য দেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মনির হোসেন, ঐক্যবদ্ধ সদর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পরিচালক আরিফ বিল্লাহ আজিজী, ‘মাদকমুক্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া চাই’-এর মাহফুজুর রহমান পুষ্পসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
সংবাদটি শেয়ার করুন






















