ঢাকা ১০:৪৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নবাগত পুলিশ সুপারের সাথে সাংবাদিকদের মতবিনিময় বাঞ্ছারামপুরে সাড়ে ৩ লাখ মানুষের ৩০ টি কমিউনিটি ক্লিনিক চলছে জোড়াতালি দিয়ে।। পরিত্যক্ত ভবনে চলে মাদকসেবন কসবায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে ১২০ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার আখাউড়ায় ৪ মাসপর জামিন মিললো মানসিক ভারসাম্যহীন তিন সন্তানের জননীর। বিজয়নগরে কিশোরীর বিয়ে নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ১০ সরাইল থানার ওসির সঙ্গে রুমিন ফারহানার বাদানুবাদ, পুলিশের জিডি সাংবাদিকদের গাড়ি আটকে ইজারার নামে যুবদল নেতার চাঁদা আদায়ের চেষ্টা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ, ভিডিও ভাইরাল মণ্ডপে শোভিত প্রতিমা, কানে কানে উৎসব পৌঁছে দিচ্ছে ঢাক সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নজরুলের বাড়িতে শোকের মাতম

বাঞ্ছারামপুরে ১৩৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩৮ টিতেই প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য

বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৪:৪৩:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬
  • / ৩৭৮ বার পড়া হয়েছে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ১৩৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৩৮ টি বিদ্যালয়েই প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য।খোদ সদর উপজেলায় মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৫ মাস যাবত প্রধান শিক্ষকবিহীন চলছে বিদ্যালয়ের পাঠদান।

এতোগুলো স্কুলে প্রধান শিক্ষক না থাকার ফলে ভারপ্রাপ্তদের ভারে নুয়ে পড়েছে এ উপজেলার শিক্ষা ব্যবস্থা। দীর্ঘদিন ধরে এই পদগুলো খালি থাকায় সহকারি শিক্ষকরা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এতে এক দিকে যেমন প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে, অন্যদিকে বিদ্যালয়গুলোতে পাঠ দান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায় এ উপজেলায় ১৩৯ টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে যার মধ্যে ৩৮টি বিদ্যালয়ে চলতি দায়িত্বে ‘প্রধান শিক্ষক ‘ আছে সমসংখ্যক সহকারি শিক্ষক।অবসরপ্রাপ্ত ও বদলিজনিত কারণে ২০১৭ সাল থেকে এই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে কোন রকমে চলছ স্কুলগুলো। তখন থেকে চলতি দায়িত্ব প্রদানের পর থেকেই এ উপজেলায় আর কোন ধরনের পদোন্নতি হয়নি।

আজ (৭মে) বৃহস্পতিবার সরেজমিনে বাঞ্ছারামপুর সদর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গেলে অভিভাবকরা অভিযোগ করে জানান, প্রধান শিক্ষকের পদশূন্য থাকায় এবং সহকারী শিক্ষকরা এর দায়িত্ব পালন করায় একদিকে যেমন প্রশাসনিক দুর্বলতা সৃষ্টি হচ্ছে তেমনি সহকারী শিক্ষকের পদও খালী থাকায় পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এতে শিক্ষার মান কমে যাচ্ছে। শিক্ষকরা জানান, ৭৪০ জন শিক্ষার্থী স্কুলটিতে।এক বছরের উপর প্রধান শিক্ষক নেই। মডেল স্কুলে প্রধান শিক্ষক নেই, এটা ভাবা যায়?

পাড়াতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর অভিভাবক নাসিমা আলম বলেন,
নিয়মশৃঙ্খলা ভেঙ্গে পড়েছে প্রধান শিক্ষক না থাকায়।
শিক্ষক, অভিভাবকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে,
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের প্রায় দাপ্তরিক ও সরকারি বিভিন্ন কাজে উপজেলায় যাতায়াত করতে হয় ফলে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের ব্যাঘাত সৃষ্টি করে। এছাড়া অন্য শিক্ষকরা সমমর্যাদার হওয়ায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের নির্দেশনা মানতে দ্বিধা প্রকাশ করেন।

বাঞ্ছারামপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল আজিজ বলেন, ‘আমরা বহুদিন যাবত প্রধান শিক্ষক সহ বিভিন্ন শূন্য আসনের সহকারী শিক্ষকের চাহিদার তালিকা প্রতি বছর জেলায় পাঠাই।ফলাফল পাচ্ছি না।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. সামসুল আলম আজ মুঠোফোনে বলেন, নতুন শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম শেষ হয়েছে।২২৮ জন শিক্ষক জেলায় যোগদান করবেন
। সেখান থেকে বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় প্রধান শিক্ষক সহ সহকারী শিক্ষক পদায়ন করা হবে।একটু ধৈর্য ধরতে হবে।

বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি বাঞ্ছারামপুর উপজেলা শাখার সভাপতি মোঃ সেলিম রেজা বলেন,প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রমের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়াও শিক্ষকরা পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং অনেক শিক্ষককেই পদোন্নতি ছাড়াই অবসর নিতে হচ্ছে যা শিক্ষকতার জীবনে খুবই দুঃখজনক।

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

বাঞ্ছারামপুরে ১৩৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩৮ টিতেই প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য

আপডেট সময় : ০৪:৪৩:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ১৩৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৩৮ টি বিদ্যালয়েই প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য।খোদ সদর উপজেলায় মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৫ মাস যাবত প্রধান শিক্ষকবিহীন চলছে বিদ্যালয়ের পাঠদান।

এতোগুলো স্কুলে প্রধান শিক্ষক না থাকার ফলে ভারপ্রাপ্তদের ভারে নুয়ে পড়েছে এ উপজেলার শিক্ষা ব্যবস্থা। দীর্ঘদিন ধরে এই পদগুলো খালি থাকায় সহকারি শিক্ষকরা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এতে এক দিকে যেমন প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে, অন্যদিকে বিদ্যালয়গুলোতে পাঠ দান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায় এ উপজেলায় ১৩৯ টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে যার মধ্যে ৩৮টি বিদ্যালয়ে চলতি দায়িত্বে ‘প্রধান শিক্ষক ‘ আছে সমসংখ্যক সহকারি শিক্ষক।অবসরপ্রাপ্ত ও বদলিজনিত কারণে ২০১৭ সাল থেকে এই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে কোন রকমে চলছ স্কুলগুলো। তখন থেকে চলতি দায়িত্ব প্রদানের পর থেকেই এ উপজেলায় আর কোন ধরনের পদোন্নতি হয়নি।

আজ (৭মে) বৃহস্পতিবার সরেজমিনে বাঞ্ছারামপুর সদর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গেলে অভিভাবকরা অভিযোগ করে জানান, প্রধান শিক্ষকের পদশূন্য থাকায় এবং সহকারী শিক্ষকরা এর দায়িত্ব পালন করায় একদিকে যেমন প্রশাসনিক দুর্বলতা সৃষ্টি হচ্ছে তেমনি সহকারী শিক্ষকের পদও খালী থাকায় পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এতে শিক্ষার মান কমে যাচ্ছে। শিক্ষকরা জানান, ৭৪০ জন শিক্ষার্থী স্কুলটিতে।এক বছরের উপর প্রধান শিক্ষক নেই। মডেল স্কুলে প্রধান শিক্ষক নেই, এটা ভাবা যায়?

পাড়াতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর অভিভাবক নাসিমা আলম বলেন,
নিয়মশৃঙ্খলা ভেঙ্গে পড়েছে প্রধান শিক্ষক না থাকায়।
শিক্ষক, অভিভাবকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে,
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের প্রায় দাপ্তরিক ও সরকারি বিভিন্ন কাজে উপজেলায় যাতায়াত করতে হয় ফলে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের ব্যাঘাত সৃষ্টি করে। এছাড়া অন্য শিক্ষকরা সমমর্যাদার হওয়ায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের নির্দেশনা মানতে দ্বিধা প্রকাশ করেন।

বাঞ্ছারামপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল আজিজ বলেন, ‘আমরা বহুদিন যাবত প্রধান শিক্ষক সহ বিভিন্ন শূন্য আসনের সহকারী শিক্ষকের চাহিদার তালিকা প্রতি বছর জেলায় পাঠাই।ফলাফল পাচ্ছি না।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. সামসুল আলম আজ মুঠোফোনে বলেন, নতুন শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম শেষ হয়েছে।২২৮ জন শিক্ষক জেলায় যোগদান করবেন
। সেখান থেকে বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় প্রধান শিক্ষক সহ সহকারী শিক্ষক পদায়ন করা হবে।একটু ধৈর্য ধরতে হবে।

বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি বাঞ্ছারামপুর উপজেলা শাখার সভাপতি মোঃ সেলিম রেজা বলেন,প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রমের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়াও শিক্ষকরা পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং অনেক শিক্ষককেই পদোন্নতি ছাড়াই অবসর নিতে হচ্ছে যা শিক্ষকতার জীবনে খুবই দুঃখজনক।