ঢাকা ১১:৪১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
তিতাসের বুকে দুই বছর পর নৌকা বাইচ, অর্ধলক্ষাধিক দর্শকের উচ্ছ্বাস বিজয়নগর মডেল প্রেসক্লাবের কমিটি গঠন সভাপতি মাইনুদ্দিন রুবেল,সাধারণ সম্পাদক এস এম টিপু চৌধুরী পলিথিন বর্জনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জেলা পরিষদ প্রশাসকের সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেড ক্রিসেন্ট নির্বাচনে শাহীন ভাইস চেয়ারম্যান, মিজানুর রহমান সেক্রেটারি বণিকপাড়ার সড়কে জলাবদ্ধতা, দুর্গন্ধযুক্ত পানিতে চরম দুর্ভোগে এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা জেলা পরিষদ প্রশাসককে নোঙর বাংলাদেশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার ফুলেল শুভেচ্ছা আনন্দ মিছিল মৎস্য অবমুক্তকরণ ও বৃক্ষরোপণে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী নদী-প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষায় নোঙর বাংলাদেশের কার্যক্রমকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল এমপির বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শিক্ষার্থীদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ গ্যাস সংকটে বন্ধ সার কারখানা চালুর দাবিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মানববন্দন ও বিক্ষোভ

তিতাসের বুকে দুই বছর পর নৌকা বাইচ, অর্ধলক্ষাধিক দর্শকের উচ্ছ্বাস

আজকের ব্রাহ্মণবাড়িয়া রিপোর্ট:
  • আপডেট সময় : ০৭:৪৭:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ২১ বার পড়া হয়েছে

দীর্ঘ দুই বছর পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস নদীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতাকে ঘিরে তিতাসের দুই তীরে নামে মানুষের ঢল। প্রায় অর্ধলক্ষাধিক দর্শনার্থীর করতালি, মাঝিদের ভাটিয়ালী গান আর বৈঠার ছন্দে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে নদীপাড়।

তিতাস নদীর পৌর এলাকার শিমরাইলকান্দি গাঁওগেরাম পয়েন্ট থেকে মেড্ডা সরকারি শিশু পরিবার পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকায় এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। জেলার সদর, নবীনগরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ১০টি নৌকা এতে অংশ নেয়। প্রতিযোগিতার বিভিন্ন ধাপ শেষে চারটি নৌকা চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেয়।

বিকেল সাড়ে ৩টায় বেলুন উড়িয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নৌকা বাইচের উদ্বোধন করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি, কেন্দ্রীয় বিএনপির অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সভাপতি এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর-বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল।
উদ্বোধনের পর রং-বেরঙের বাহারি পোশাকে সজ্জিত মাঝিরা সুসজ্জিত নৌকা নিয়ে প্রতিযোগিতায় নামেন।

বাদ্যযন্ত্রের তালে মাঝিদের ভাটিয়ালী গান আর পানিতে বৈঠার ছলাত ছলাত শব্দে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। নদীর দুই পাড়ে জড়ো হওয়া দর্শনার্থীরাও মাঝিদের সঙ্গে কণ্ঠ মেলান—‘মারো টান, হেইয়ারে হেইয়াহো’।

দুপুরের পর থেকেই তিতাসের পাড়ে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়তে থাকে। প্রতিযোগিতা শুরু হওয়ার পর নদীর দুই তীর, বিভিন্ন ঘাট, নৌযান ও আশপাশের ভবনের ছাদ দর্শনার্থীতে পূর্ণ হয়ে যায়। নৌকা বাইচকে কেন্দ্র করে দিনভর নদীপাড়ে ছিল উৎসবের আবহ।

প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করে সদর উপজেলার ক্ষমতাপুর গ্রামের শাপলা বয়েজ ক্লাব। তারা পুরস্কার হিসেবে পায় দুই লাখ টাকা। দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে সদর উপজেলার দারমা গ্রামের নৌকা, পুরস্কার হিসেবে পায় দেড় লাখ টাকা। তৃতীয় হয় নবীনগরের পুইল যুব সংঘ, তারা পায় এক লাখ টাকা। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া প্রত্যেক দলকে নগদ ৩০ হাজার টাকা ও ট্রফি দেওয়া হয়।

দর্শনার্থী আল আমিন শাহীন বলেন, নৌকা বাইচকে ঘিরে তিতাসপাড়ের মানুষের মধ্যে আনন্দের জোয়ার বইছে। পুরো ব্রাহ্মণবাড়িয়া উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে। প্রতি বছর এ প্রতিযোগিতা আয়োজনের দাবি জানান তিনি।
জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ বলেন, নৌকা বাইচ এখানকার মানুষের প্রাণের উৎসব। আগামী বছর থেকে আরও জমজমাটভাবে এ প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হবে।

সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও এখানকার সংস্কৃতি নিয়ে নেতিবাচক প্রচারণা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নৌকা বাইচের মতো আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া একটি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সমৃদ্ধ জনপদ। নৌকা বাইচ এ জেলার ঐতিহ্যের অংশ। মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী প্রতিবছর এ আয়োজন করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০২৩ সালে তিতাস নদীতে নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে বিভিন্ন পরিস্থিতির কারণে এ আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। দুই বছর পর আবারও নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নাদিয়া পাঠান পাপন, জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম, পুলিশ সুপার শাহ মো. আব্দুর রউফ, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক শরিফুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রঞ্জন চন্দ্র দে, জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মোবারক হোসেন, জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি জহিরুল হক, সাবেক সভাপতি হাফিজুর রহমান মোল্লাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রোমানা আক্তার এবং চিকিৎসক মো. আব্দুল মতিন।

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

তিতাসের বুকে দুই বছর পর নৌকা বাইচ, অর্ধলক্ষাধিক দর্শকের উচ্ছ্বাস

আপডেট সময় : ০৭:৪৭:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দীর্ঘ দুই বছর পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস নদীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতাকে ঘিরে তিতাসের দুই তীরে নামে মানুষের ঢল। প্রায় অর্ধলক্ষাধিক দর্শনার্থীর করতালি, মাঝিদের ভাটিয়ালী গান আর বৈঠার ছন্দে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে নদীপাড়।

তিতাস নদীর পৌর এলাকার শিমরাইলকান্দি গাঁওগেরাম পয়েন্ট থেকে মেড্ডা সরকারি শিশু পরিবার পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকায় এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। জেলার সদর, নবীনগরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ১০টি নৌকা এতে অংশ নেয়। প্রতিযোগিতার বিভিন্ন ধাপ শেষে চারটি নৌকা চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেয়।

বিকেল সাড়ে ৩টায় বেলুন উড়িয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নৌকা বাইচের উদ্বোধন করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি, কেন্দ্রীয় বিএনপির অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সভাপতি এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর-বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল।
উদ্বোধনের পর রং-বেরঙের বাহারি পোশাকে সজ্জিত মাঝিরা সুসজ্জিত নৌকা নিয়ে প্রতিযোগিতায় নামেন।

বাদ্যযন্ত্রের তালে মাঝিদের ভাটিয়ালী গান আর পানিতে বৈঠার ছলাত ছলাত শব্দে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। নদীর দুই পাড়ে জড়ো হওয়া দর্শনার্থীরাও মাঝিদের সঙ্গে কণ্ঠ মেলান—‘মারো টান, হেইয়ারে হেইয়াহো’।

দুপুরের পর থেকেই তিতাসের পাড়ে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়তে থাকে। প্রতিযোগিতা শুরু হওয়ার পর নদীর দুই তীর, বিভিন্ন ঘাট, নৌযান ও আশপাশের ভবনের ছাদ দর্শনার্থীতে পূর্ণ হয়ে যায়। নৌকা বাইচকে কেন্দ্র করে দিনভর নদীপাড়ে ছিল উৎসবের আবহ।

প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করে সদর উপজেলার ক্ষমতাপুর গ্রামের শাপলা বয়েজ ক্লাব। তারা পুরস্কার হিসেবে পায় দুই লাখ টাকা। দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে সদর উপজেলার দারমা গ্রামের নৌকা, পুরস্কার হিসেবে পায় দেড় লাখ টাকা। তৃতীয় হয় নবীনগরের পুইল যুব সংঘ, তারা পায় এক লাখ টাকা। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া প্রত্যেক দলকে নগদ ৩০ হাজার টাকা ও ট্রফি দেওয়া হয়।

দর্শনার্থী আল আমিন শাহীন বলেন, নৌকা বাইচকে ঘিরে তিতাসপাড়ের মানুষের মধ্যে আনন্দের জোয়ার বইছে। পুরো ব্রাহ্মণবাড়িয়া উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে। প্রতি বছর এ প্রতিযোগিতা আয়োজনের দাবি জানান তিনি।
জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ বলেন, নৌকা বাইচ এখানকার মানুষের প্রাণের উৎসব। আগামী বছর থেকে আরও জমজমাটভাবে এ প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হবে।

সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও এখানকার সংস্কৃতি নিয়ে নেতিবাচক প্রচারণা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নৌকা বাইচের মতো আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া একটি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সমৃদ্ধ জনপদ। নৌকা বাইচ এ জেলার ঐতিহ্যের অংশ। মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী প্রতিবছর এ আয়োজন করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০২৩ সালে তিতাস নদীতে নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে বিভিন্ন পরিস্থিতির কারণে এ আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। দুই বছর পর আবারও নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নাদিয়া পাঠান পাপন, জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম, পুলিশ সুপার শাহ মো. আব্দুর রউফ, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক শরিফুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রঞ্জন চন্দ্র দে, জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মোবারক হোসেন, জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি জহিরুল হক, সাবেক সভাপতি হাফিজুর রহমান মোল্লাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রোমানা আক্তার এবং চিকিৎসক মো. আব্দুল মতিন।