পলিথিন বর্জনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জেলা পরিষদ প্রশাসকের সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ
- আপডেট সময় : ০১:২১:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ৪৭ বার পড়া হয়েছে
পলিথিনের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং পরিবেশ রক্ষায় এর ব্যবহার থেকে মানুষকে বিরত রাখতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। জেলা পরিষদের প্রশাসক আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম সিরাজের উদ্যোগে রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
রোববার সকাল ১১টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের খালপাড়, জগত বাজার, সড়ক বাজার ও আনন্দবাজার এলাকার বিভিন্ন দোকানে গিয়ে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে পলিথিনবিরোধী সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়।
কর্মসূচিতে রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। এ সময় নোঙর বাংলাদেশ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কমিটি, ঢেউ ও ঐক্যবদ্ধ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থেকে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে পলিথিনের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতন করেন।
লিফলেটে পলিথিনকে ‘পরিবেশ ও জীবনের অভিশাপ’ হিসেবে উল্লেখ করে এর ভয়াবহ ক্ষতিকর প্রভাব তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, পলিথিন সহজে পচনশীল নয়।
দীর্ঘদিন মাটিতে থেকে এটি মাটির স্বাভাবিক গুণাগুণ ও উর্বরতা নষ্ট করে। ফলে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়ে।
এ ছাড়া পলিথিন ড্রেন, নালা ও জলপ্রবাহের পথ বন্ধ করে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করে। বর্ষা মৌসুমে এতে নগরজীবনে দুর্ভোগ বাড়ার পাশাপাশি কৃত্রিম বন্যার আশঙ্কাও তৈরি হয়। নদী-খালসহ বিভিন্ন জলাশয়ে পলিথিন জমে জলজ প্রাণীর জীবন হুমকির মুখে পড়ে। একই সঙ্গে এটি পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে বলে লিফলেটে উল্লেখ করা হয়।
লিফলেটে আরও উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ সরকার ২০০২ সাল থেকে পলিথিন শপিং ব্যাগের উৎপাদন, আমদানি, বাজারজাত, বিতরণ ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।
কর্মসূচিতে জেলা পরিষদের প্রশাসক আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম সিরাজ বলেন, “পলিথিন শুধু পরিবেশের ক্ষতি করছে না, এটি আমাদের স্বাভাবিক জীবনব্যবস্থা, জীববৈচিত্র্য ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও বড় হুমকি। তাই শুধু প্রশাসনের উদ্যোগে নয়, পলিথিন বর্জনে সমাজের প্রতিটি মানুষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।”
তিনি বলেন, পলিথিনের বিকল্প হিসেবে পাট, কাপড় ও কাগজের তৈরি পরিবেশবান্ধব ব্যাগ ব্যবহারে সবাইকে উৎসাহিত করতে হবে। পরিবার থেকে শুরু করে বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক পর্যায়ে সচেতনতা তৈরি করা গেলে ধীরে ধীরে পলিথিনের ব্যবহার কমিয়ে একটি পরিবেশবান্ধব সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
লিফলেট বিতরণের সময় স্থানীয় ব্যবসায়ীরা পলিথিন বর্জনের বিষয়ে একমত পোষণ করেন। তারা বলেন, “আমরাও পলিথিন বর্জন করতে চাই। তবে পলিথিনের সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী বিকল্প ব্যাগের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।” এ জন্য সরকারের কার্যকর উদ্যোগের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব বিকল্প পণ্যের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে আয়োজকদের পক্ষ থেকে পলিথিনের পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব ব্যাগ ব্যবহারের আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে পলিথিনমুক্ত, পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও বাসযোগ্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া গড়ে তুলতে প্রশাসন, ব্যবসায়ী, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।
সংবাদটি শেয়ার করুন














