ঢাকা ০১:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাড়ি ফেরার পথে অপহরণের শিকার ডুয়েট শিক্ষার্থী নাহিদ।। মুক্তিপণ আদায়ের পর মুক্ত  ব্রাহ্মণবাড়িয়া পাসপোর্ট অফিসে জেলা পরিষদ প্রশাসকের আকস্মিক পরিদর্শন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নানা অনিয়মের দায়ে অচি মেমোরিয়াল ও পদ্মা মা ও শিশু হাসপাতালকে ৪ লাখ টাকা জরিমানা হাইকোর্টের নির্দেশে বন্ধ হলো বহুতল ভবনের নির্মাণকাজ ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৬৫টি কচ্ছপ উদ্ধার, সালদানদীতে অবমুক্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কাজীপাড়ায় মাদকবিরোধী সমাবেশ সফল করতে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত নদী-খাল-বিলে মাছ রক্ষায় অবৈধ রিংজাল বন্ধে সচেতনতার আহ্বান জেলা পরিষদ প্রশাসক সিরাজুল ইসলামের এফ এ টাওয়ারের অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীকে জেলা পরিষদের আর্থিক অনুদান প্রদান ঢেউ’র আহবায়ক সোহেল সদস্য সচিব আইফাত  তিতাস তীরের কৃষিজমি ও জলাশয় দখলমুক্তে উচ্ছেদ অভিযান

“চুরি করতে যাচ্ছি, অসুবিধা হলে সহযোগিতা করবেন”—এএসআইকে ঘিরে চাঞ্চল্যকর অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত

আজকের ব্রাহ্মণবাড়িয়া রিপোর্ট:
  • আপডেট সময় : ০৬:৪৩:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬
  • / ১৬৭ বার পড়া হয়েছে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় গরু চুরির ঘটনায় সন্দেহভাজন ব্যক্তির সঙ্গে কথোপকথনের অভিযোগ ওঠায় পুলিশের এক সহকারী উপপরিদর্শককে (এএসআই) সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) শাহ মোহাম্মদ আবদুর রউফ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে বাঞ্ছারামপুর সদর ইউনিয়নের দশানি গ্রামের বাসিন্দা মানিক মিয়ার একটি গরু চুরি হয়। পরে স্থানীয়রা ধাওয়া দিয়ে সন্দেহভাজন আলাল মিয়ার বাড়িতে গিয়ে গরুটি উদ্ধার করেন। এ সময় আলাল মিয়া চুরির ঘটনা স্বীকার করেছেন বলে দাবি করেন এলাকাবাসী।

জানা গেছে, আলাল মিয়ার গ্রামের বাড়ি জগন্নাথপুরে হলেও তিনি বর্তমানে পাশের বাঁশগাড়ি গ্রামে বসবাস করছেন। গরুটি উদ্ধারের সময় স্থানীয়রা তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ করেন। এতে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার এএসআই মোহাম্মদ মাসুদের সঙ্গে ইমোতে ভয়েস মেসেজ, চ্যাট ও ফোনালাপের বিভিন্ন আলামত পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়।

স্থানীয়দের কাছে আলাল মিয়া জানান, তিনি পূর্বে মাদক চোরাকারবারির সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং সেই সূত্রেই এএসআই মাসুদের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সর্বশেষ গরু চুরির সময়ও তিনি ওই এএসআইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

ভয়েস রেকর্ডে শোনা যায়, গরু চুরির আগে আলাল মিয়া এএসআই মাসুদকে ফোন করে বলেন, “চুরি করতে যাচ্ছি, অসুবিধা হলে সহযোগিতা করবেন।”

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এএসআই মোহাম্মদ মাসুদ। তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আমি তাকে না চিনেই ইমোতে কথা বলেছি, এর বাইরে কিছু জানি না।”

এ বিষয়ে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইয়াসিন জানান, “দশানি গ্রামের গরু চুরির ঘটনায় আলাল মিয়া নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। আমাদের এক স্টাফের সঙ্গে তার যোগাযোগের বিষয়টি আমরা শুনেছি।”

জেলা পুলিশ সুপার শাহ মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, “একজন এএসআইয়ের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ পাওয়ার পর প্রাথমিকভাবে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে জেলা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।”

তিনি আরও জানান, তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

“চুরি করতে যাচ্ছি, অসুবিধা হলে সহযোগিতা করবেন”—এএসআইকে ঘিরে চাঞ্চল্যকর অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত

আপডেট সময় : ০৬:৪৩:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় গরু চুরির ঘটনায় সন্দেহভাজন ব্যক্তির সঙ্গে কথোপকথনের অভিযোগ ওঠায় পুলিশের এক সহকারী উপপরিদর্শককে (এএসআই) সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) শাহ মোহাম্মদ আবদুর রউফ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে বাঞ্ছারামপুর সদর ইউনিয়নের দশানি গ্রামের বাসিন্দা মানিক মিয়ার একটি গরু চুরি হয়। পরে স্থানীয়রা ধাওয়া দিয়ে সন্দেহভাজন আলাল মিয়ার বাড়িতে গিয়ে গরুটি উদ্ধার করেন। এ সময় আলাল মিয়া চুরির ঘটনা স্বীকার করেছেন বলে দাবি করেন এলাকাবাসী।

জানা গেছে, আলাল মিয়ার গ্রামের বাড়ি জগন্নাথপুরে হলেও তিনি বর্তমানে পাশের বাঁশগাড়ি গ্রামে বসবাস করছেন। গরুটি উদ্ধারের সময় স্থানীয়রা তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ করেন। এতে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার এএসআই মোহাম্মদ মাসুদের সঙ্গে ইমোতে ভয়েস মেসেজ, চ্যাট ও ফোনালাপের বিভিন্ন আলামত পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়।

স্থানীয়দের কাছে আলাল মিয়া জানান, তিনি পূর্বে মাদক চোরাকারবারির সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং সেই সূত্রেই এএসআই মাসুদের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সর্বশেষ গরু চুরির সময়ও তিনি ওই এএসআইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

ভয়েস রেকর্ডে শোনা যায়, গরু চুরির আগে আলাল মিয়া এএসআই মাসুদকে ফোন করে বলেন, “চুরি করতে যাচ্ছি, অসুবিধা হলে সহযোগিতা করবেন।”

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এএসআই মোহাম্মদ মাসুদ। তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আমি তাকে না চিনেই ইমোতে কথা বলেছি, এর বাইরে কিছু জানি না।”

এ বিষয়ে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইয়াসিন জানান, “দশানি গ্রামের গরু চুরির ঘটনায় আলাল মিয়া নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। আমাদের এক স্টাফের সঙ্গে তার যোগাযোগের বিষয়টি আমরা শুনেছি।”

জেলা পুলিশ সুপার শাহ মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, “একজন এএসআইয়ের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ পাওয়ার পর প্রাথমিকভাবে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে জেলা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।”

তিনি আরও জানান, তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।