কান্দিপাড়ায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গুলিবর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড: গুলিবিদ্ধ ৩, নিহত ছাত্রদল নেতা
- আপডেট সময় : ০৯:৩১:১১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর ২০২৫
- / ১৬৬ বার পড়া হয়েছে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কান্দিপাড়া এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পরপর দুটি ঘটনায় গুলিবর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সংঘটিত এসব ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন তিনজন এবং নিহত হয়েছেন ছাত্রদলের সাবেক এক নেতা।
বৃহস্পতিবার রাতে পৌনে ৭টার দিকে কান্দিপাড়ার মাদরাসা রোডের পপুলার প্রেসের সামনে হঠাৎ গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। ভিডিও ফুটেজে জেলা কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাকিল সিকদারকে অস্ত্র হাতে গুলি করতে দেখা যায়।
গুলিবিদ্ধরা হলেন, টুটুল মিয়া (৪৬), শিহাব উদ্দিন ওরফে সোয়েব (২৭), সানজু মিয়া (২২) ।
স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেন। চিকিৎসক জানান, টুটুলের পায়ে ২০–২৫টি রাবার বুলেট, শিহাবের হাত–পায়ে একাধিক গুলির চিহ্ন রয়েছে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁদের ঢাকায় পাঠানো হয়।
আহত টুটুলের অভিযোগ, বিভিন্ন অপকর্মের প্রতিবাদ করায় শাকিল ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে লক্ষ্য করে গুলি করেন।
সন্ধ্যার গুলির জের ধরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে কান্দিপাড়ার ফারুকী বাজার এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এসময় জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেনের লোকজন স্থানীয় রবিন মিয়াকে মারধর করে—এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।
পরে রাত দেড়টার দিকে সাবেক ছাত্রদল নেতা সাদ্দাম হোসেন (৩৫)-কে তাঁর বাড়ি থেকে ডেকে নেয় দেলোয়ার, পলাশ ও বাবুল—এ অভিযোগ তার পরিবারের।
রাত ২টার দিকে কান্দিপাড়ার সংকর শাহবাড়ির নতুন সেতুর ওপর সাদ্দামকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
সাদ্দামের বাবা মোস্তফা কামাল অভিযোগ করেন—
“আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে গুলি করে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে।” তাঁর দাবি, এটিকে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর কৌশল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
অন্যদিকে দেলোয়ার হোসেন দাবি করেন—“ সাদ্দাম সবসময় আমার সঙ্গে থাকত। তাকে আমি ডেকে আনি নাই। পেছন থেকে শাকিলের লোকজন গুলি চালালে আমরা পালিয়ে যাই। তারা সাদ্দামকে হত্যা করেছে।”
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ওসি মো. আজহারুল ইসলাম বলেন—“আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সন্ধ্যায় গুলির ঘটনা ঘটে। এর জেরে গভীর রাতে একজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। এখনো কেউ অভিযোগ দেয়নি।”
নিহত সাদ্দামের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
সংবাদটি শেয়ার করুন


























