ঢাকা ০৬:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাড়ি ফেরার পথে অপহরণের শিকার ডুয়েট শিক্ষার্থী নাহিদ।। মুক্তিপণ আদায়ের পর মুক্ত  ব্রাহ্মণবাড়িয়া পাসপোর্ট অফিসে জেলা পরিষদ প্রশাসকের আকস্মিক পরিদর্শন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নানা অনিয়মের দায়ে অচি মেমোরিয়াল ও পদ্মা মা ও শিশু হাসপাতালকে ৪ লাখ টাকা জরিমানা হাইকোর্টের নির্দেশে বন্ধ হলো বহুতল ভবনের নির্মাণকাজ ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৬৫টি কচ্ছপ উদ্ধার, সালদানদীতে অবমুক্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কাজীপাড়ায় মাদকবিরোধী সমাবেশ সফল করতে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত নদী-খাল-বিলে মাছ রক্ষায় অবৈধ রিংজাল বন্ধে সচেতনতার আহ্বান জেলা পরিষদ প্রশাসক সিরাজুল ইসলামের এফ এ টাওয়ারের অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীকে জেলা পরিষদের আর্থিক অনুদান প্রদান ঢেউ’র আহবায়ক সোহেল সদস্য সচিব আইফাত  তিতাস তীরের কৃষিজমি ও জলাশয় দখলমুক্তে উচ্ছেদ অভিযান
নাসিরনগরের আলোচিত আলম হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে পিবিআই

ছেলের হাতেই খুন হন পিতা

স্টাফ রিপোর্টার:
  • আপডেট সময় : ১২:৫৩:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / ৬১০ বার পড়া হয়েছে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের ফান্দাউক গ্রামের মুন্সীপাড়ায় আলোচিত হাজী আলম মিয়া (৫৮) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে ছিল আলম মিয়ার একমাত্র ছেলে মাহমুদুল হাসান (২১)। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত তিন ফুট লম্বা লোহার পাইপ উদ্ধার করেছে পিবিআই এবং আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে নিজের বাবাকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে সে।

৩ সেপ্টেম্বর সকালে নিজ ঘর থেকে আলম মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয়রা। প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল রাতের কোনো একসময় দুর্বৃত্তরা টিনের চাল কেটে ঘরে প্রবেশ করে তাকে হত্যা করেছে এবং আলমারির আড়াই লক্ষ টাকার স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়েছে। ছেলে মাহমুদুল মামলার এজাহারে অজ্ঞাত ডাকাতদের দায়ী করে এবং সৎমা আমেনা ও তার আগের স্বামীকে সন্দেহভাজন হিসেবে উল্লেখ করে। তবে মামলাটি দায়ের করা হয় তিন দিন পর, যা তদন্তে পুলিশের কাছে সন্দেহজনক বলে প্রতীয়মান হয়।

পিবিআই তদন্তে বেরিয়ে আসে সম্পত্তি বিরোধ ও পারিবারিক দ্বন্দ্বই হত্যার মূল কারণ। মৃত্যুর আগের দিন আলম মিয়া তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে জমি, নগদ অর্থ, স্বর্ণ ও ব্যাংক হিসাব দেওয়ার আশ্বাস দেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন ছেলে মাহমুদুল। বাবার দ্বিতীয় বিয়েতে প্রচুর অর্থ ব্যয় এবং তার প্রতি অবহেলার কারণে ক্ষোভ বাড়তে থাকে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২ সেপ্টেম্বর রাতে সিলেটে যাওয়ার ভান করে সে বাড়ি থেকে বের হয়, কিন্তু খোলা রাখা দরজা দিয়ে ফিরে এসে মাচার ওপর লুকিয়ে থাকে। রাত দেড়টার দিকে ঘুমন্ত বাবার মাথায় লোহার পাইপ দিয়ে আঘাত করে তাকে হত্যা করে এবং পাইপটি পাশের পুকুরে ফেলে দেয়।

১০ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তারের পর আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যার অস্ত্র উদ্ধার করে পিবিআই। সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জহিরুল আলমের আদালতে হাজির করা হলে মাহমুদুল ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।

পিবিআই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার শচীন চাকমার তত্ত্বাবধানে তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) মো. বেলাল উদ্দিন জানান, এটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড এবং সম্পত্তির লোভ ও পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরেই ছেলের হাতে খুন হয়েছেন হাজী আলম মিয়া।

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

নাসিরনগরের আলোচিত আলম হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে পিবিআই

ছেলের হাতেই খুন হন পিতা

আপডেট সময় : ১২:৫৩:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের ফান্দাউক গ্রামের মুন্সীপাড়ায় আলোচিত হাজী আলম মিয়া (৫৮) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে ছিল আলম মিয়ার একমাত্র ছেলে মাহমুদুল হাসান (২১)। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত তিন ফুট লম্বা লোহার পাইপ উদ্ধার করেছে পিবিআই এবং আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে নিজের বাবাকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে সে।

৩ সেপ্টেম্বর সকালে নিজ ঘর থেকে আলম মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয়রা। প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল রাতের কোনো একসময় দুর্বৃত্তরা টিনের চাল কেটে ঘরে প্রবেশ করে তাকে হত্যা করেছে এবং আলমারির আড়াই লক্ষ টাকার স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়েছে। ছেলে মাহমুদুল মামলার এজাহারে অজ্ঞাত ডাকাতদের দায়ী করে এবং সৎমা আমেনা ও তার আগের স্বামীকে সন্দেহভাজন হিসেবে উল্লেখ করে। তবে মামলাটি দায়ের করা হয় তিন দিন পর, যা তদন্তে পুলিশের কাছে সন্দেহজনক বলে প্রতীয়মান হয়।

পিবিআই তদন্তে বেরিয়ে আসে সম্পত্তি বিরোধ ও পারিবারিক দ্বন্দ্বই হত্যার মূল কারণ। মৃত্যুর আগের দিন আলম মিয়া তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে জমি, নগদ অর্থ, স্বর্ণ ও ব্যাংক হিসাব দেওয়ার আশ্বাস দেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন ছেলে মাহমুদুল। বাবার দ্বিতীয় বিয়েতে প্রচুর অর্থ ব্যয় এবং তার প্রতি অবহেলার কারণে ক্ষোভ বাড়তে থাকে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২ সেপ্টেম্বর রাতে সিলেটে যাওয়ার ভান করে সে বাড়ি থেকে বের হয়, কিন্তু খোলা রাখা দরজা দিয়ে ফিরে এসে মাচার ওপর লুকিয়ে থাকে। রাত দেড়টার দিকে ঘুমন্ত বাবার মাথায় লোহার পাইপ দিয়ে আঘাত করে তাকে হত্যা করে এবং পাইপটি পাশের পুকুরে ফেলে দেয়।

১০ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তারের পর আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যার অস্ত্র উদ্ধার করে পিবিআই। সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জহিরুল আলমের আদালতে হাজির করা হলে মাহমুদুল ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।

পিবিআই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার শচীন চাকমার তত্ত্বাবধানে তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) মো. বেলাল উদ্দিন জানান, এটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড এবং সম্পত্তির লোভ ও পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরেই ছেলের হাতে খুন হয়েছেন হাজী আলম মিয়া।