ঢাকা ১২:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ৩০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জাতীয় গ্রিড সমস্যায় আশুগঞ্জ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দুই ইউনিটের উৎপাদন বন্ধ এতিমদের সম্মানে সদর হাসপাতাল কর্মচারী কল্যাণ সমিতির দোয়া ও ইফতার মাহফিল এসিজি-স্বাস্থ্য এর মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ডিবি পুলিশের অভিযানে ১৪ কেজি গাঁজাসহ সিএনজি জব্দ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৬ উদযাপন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিষিদ্ধ ‘হাইড্রোজ’ ব্যবহার, ডিকে বেকারিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলায় সরকারি দপ্তরের প্রধানদের সঙ্গে এমপি শ্যামলের মতবিনিময় লন্ডনের সাউথলে নির্বাচনে লড়বেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নেতা ইব্রাহিম মাদক ও কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান এমপি শ্যামলের রমজান উপলক্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাজার মনিটরিং: ভ্রাম্যমাণ আদালতে ২ প্রতিষ্ঠানকে ১ লক্ষ টাকা জরিমানা
বাল্যবিবাহ

কবুল বলার আগ মুহূর্তে ভ্রাম্যমাণ আদালত বিয়ে বন্ধ করে দেন

প্রতিনিধির নামঃ
  • আপডেট সময় : ০৬:৩৮:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ এপ্রিল ২০২৫
  • / ৪৮৯ বার পড়া হয়েছে

বর এসএসসি পরীক্ষার্থী। কনে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। কিন্তু কবুল বলার আগ মুহূর্তে ভ্রাম্যমাণ আদালত উপস্থিত হয়ে বিয়ে বন্ধ করে দেন। জরিমানা করা হয় বর ও কনের অভিভাবককে। একইসঙ্গে তাদের কাছ থেকে মুচলেকা আদায় করা হয়।

বুধবার (৯ এপ্রিল) বিকেলে দুই পরিবারের উপস্থিতিতে বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিলো। ঘটনাটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার গোকর্ণ ইউনিয়নের নূরপুর গ্রামের। বর ও কনে একই গ্রামের বাসিন্দা। বর এসএসসি পরীক্ষার্থী ও কনে নূরপুর বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদ পাওয়ার পর বুধবার দুপুরে পুলিশসহ ঘটনাস্থলে পৌঁছান এসিল্যান্ড সারোয়ার। বিয়ের আয়োজন প্রায় শেষ হয়ে আসলেও, তার আগেই আইন প্রয়োগ করে বিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়।

কনের অভিভাবক মো. সামছুল হক এবং বরের অভিভাবক মো. শাহেদ মিয়াকে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ এর ৮ ধারা লঙ্ঘনের জন্য চার হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এছাড়া, তাদের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয় যে, কনের ১৮ এবং বরের ২১ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে দেওয়া হবে না।

এ বিষয়ে নূরপুর বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সভাপতি মো. আশরাফ উদ্দিন বলেন, এলাকার মানুষ অল্প বয়সে ছেলে-মেয়েদের বিয়ে দেওয়ার প্রবণতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে প্রশাসন। এসিল্যান্ড খবর পেয়ে বাল্যবিবাহ বন্ধ করেছেন, যা আমাদের জন্য একটি বড় সাফল্য।

এসিল্যান্ড কাজী রবিউস সারোয়ার বলেন, বাল্যবিবাহ একটি সামাজিক অপরাধ এবং এটি আমাদের সমাজের জন্য ক্ষতিকর। আমরা চাই না, কোনো কিশোর বা কিশোরীর ভবিষ্যৎ ভুল সিদ্ধান্তের কারণে নষ্ট হোক। আইন সবার জন্য সমান, এবং আমরা আইন মেনে দায়িত্ব পালন করেছি।

এ ঘটনাটি এলাকার লোকজনের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে সাহায্য করবে এবং বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় প্রশাসন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

বাল্যবিবাহ

কবুল বলার আগ মুহূর্তে ভ্রাম্যমাণ আদালত বিয়ে বন্ধ করে দেন

আপডেট সময় : ০৬:৩৮:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ এপ্রিল ২০২৫

বর এসএসসি পরীক্ষার্থী। কনে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। কিন্তু কবুল বলার আগ মুহূর্তে ভ্রাম্যমাণ আদালত উপস্থিত হয়ে বিয়ে বন্ধ করে দেন। জরিমানা করা হয় বর ও কনের অভিভাবককে। একইসঙ্গে তাদের কাছ থেকে মুচলেকা আদায় করা হয়।

বুধবার (৯ এপ্রিল) বিকেলে দুই পরিবারের উপস্থিতিতে বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিলো। ঘটনাটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার গোকর্ণ ইউনিয়নের নূরপুর গ্রামের। বর ও কনে একই গ্রামের বাসিন্দা। বর এসএসসি পরীক্ষার্থী ও কনে নূরপুর বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদ পাওয়ার পর বুধবার দুপুরে পুলিশসহ ঘটনাস্থলে পৌঁছান এসিল্যান্ড সারোয়ার। বিয়ের আয়োজন প্রায় শেষ হয়ে আসলেও, তার আগেই আইন প্রয়োগ করে বিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়।

কনের অভিভাবক মো. সামছুল হক এবং বরের অভিভাবক মো. শাহেদ মিয়াকে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ এর ৮ ধারা লঙ্ঘনের জন্য চার হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এছাড়া, তাদের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয় যে, কনের ১৮ এবং বরের ২১ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে দেওয়া হবে না।

এ বিষয়ে নূরপুর বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সভাপতি মো. আশরাফ উদ্দিন বলেন, এলাকার মানুষ অল্প বয়সে ছেলে-মেয়েদের বিয়ে দেওয়ার প্রবণতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে প্রশাসন। এসিল্যান্ড খবর পেয়ে বাল্যবিবাহ বন্ধ করেছেন, যা আমাদের জন্য একটি বড় সাফল্য।

এসিল্যান্ড কাজী রবিউস সারোয়ার বলেন, বাল্যবিবাহ একটি সামাজিক অপরাধ এবং এটি আমাদের সমাজের জন্য ক্ষতিকর। আমরা চাই না, কোনো কিশোর বা কিশোরীর ভবিষ্যৎ ভুল সিদ্ধান্তের কারণে নষ্ট হোক। আইন সবার জন্য সমান, এবং আমরা আইন মেনে দায়িত্ব পালন করেছি।

এ ঘটনাটি এলাকার লোকজনের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে সাহায্য করবে এবং বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় প্রশাসন।