ঢাকা ১১:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নানা আয়োজনে আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী দিবস পালিত সরাইলে ডিএনসির অভিযানে ২৮ কেজি গাঁজাসহ তিন কারবারি গ্রেপ্তার, দুইজন নারী যথাযোগ্য মর্যাদায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া মুক্ত দিবস পালিত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রকাশ্যে গুলির ঘটনায় অভিযুক্ত শাকিলসহ দুজন ত্রিপুরা সীমান্ত থেকে আটক আওয়ামী লীগের আমলে শেখ হাসিনা আমাদের আসন অফার করেছিল, টাকাও অফার করেছিল : নুরুল হক নুর নাটাই দক্ষিণ ইউনিয়নে বিএনপির সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত জেলার আইনশৃংখলা পরিস্থিতি অবশ্যই ভালো রাখতে হবে, এট এনি কস্ট- নবাগত জেলা প্রশাসক সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় ৮ নং ওয়ার্ড বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে তিনদিনব্যাপী কোরআন খতম বাঞ্ছারামপুরে সাবেক ইউপি সদস্য মুসা মিয়ার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পেটিসে তেলাপোকা: শাহী বেকারিকে ১ লাখ টাকা জরিমানা
বাল্যবিবাহ

কবুল বলার আগ মুহূর্তে ভ্রাম্যমাণ আদালত বিয়ে বন্ধ করে দেন

প্রতিনিধির নামঃ
  • আপডেট সময় : ০৬:৩৮:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ এপ্রিল ২০২৫
  • / ৩৮৭ বার পড়া হয়েছে

বর এসএসসি পরীক্ষার্থী। কনে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। কিন্তু কবুল বলার আগ মুহূর্তে ভ্রাম্যমাণ আদালত উপস্থিত হয়ে বিয়ে বন্ধ করে দেন। জরিমানা করা হয় বর ও কনের অভিভাবককে। একইসঙ্গে তাদের কাছ থেকে মুচলেকা আদায় করা হয়।

বুধবার (৯ এপ্রিল) বিকেলে দুই পরিবারের উপস্থিতিতে বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিলো। ঘটনাটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার গোকর্ণ ইউনিয়নের নূরপুর গ্রামের। বর ও কনে একই গ্রামের বাসিন্দা। বর এসএসসি পরীক্ষার্থী ও কনে নূরপুর বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদ পাওয়ার পর বুধবার দুপুরে পুলিশসহ ঘটনাস্থলে পৌঁছান এসিল্যান্ড সারোয়ার। বিয়ের আয়োজন প্রায় শেষ হয়ে আসলেও, তার আগেই আইন প্রয়োগ করে বিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়।

কনের অভিভাবক মো. সামছুল হক এবং বরের অভিভাবক মো. শাহেদ মিয়াকে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ এর ৮ ধারা লঙ্ঘনের জন্য চার হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এছাড়া, তাদের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয় যে, কনের ১৮ এবং বরের ২১ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে দেওয়া হবে না।

এ বিষয়ে নূরপুর বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সভাপতি মো. আশরাফ উদ্দিন বলেন, এলাকার মানুষ অল্প বয়সে ছেলে-মেয়েদের বিয়ে দেওয়ার প্রবণতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে প্রশাসন। এসিল্যান্ড খবর পেয়ে বাল্যবিবাহ বন্ধ করেছেন, যা আমাদের জন্য একটি বড় সাফল্য।

এসিল্যান্ড কাজী রবিউস সারোয়ার বলেন, বাল্যবিবাহ একটি সামাজিক অপরাধ এবং এটি আমাদের সমাজের জন্য ক্ষতিকর। আমরা চাই না, কোনো কিশোর বা কিশোরীর ভবিষ্যৎ ভুল সিদ্ধান্তের কারণে নষ্ট হোক। আইন সবার জন্য সমান, এবং আমরা আইন মেনে দায়িত্ব পালন করেছি।

এ ঘটনাটি এলাকার লোকজনের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে সাহায্য করবে এবং বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় প্রশাসন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

বাল্যবিবাহ

কবুল বলার আগ মুহূর্তে ভ্রাম্যমাণ আদালত বিয়ে বন্ধ করে দেন

আপডেট সময় : ০৬:৩৮:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ এপ্রিল ২০২৫

বর এসএসসি পরীক্ষার্থী। কনে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। কিন্তু কবুল বলার আগ মুহূর্তে ভ্রাম্যমাণ আদালত উপস্থিত হয়ে বিয়ে বন্ধ করে দেন। জরিমানা করা হয় বর ও কনের অভিভাবককে। একইসঙ্গে তাদের কাছ থেকে মুচলেকা আদায় করা হয়।

বুধবার (৯ এপ্রিল) বিকেলে দুই পরিবারের উপস্থিতিতে বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিলো। ঘটনাটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার গোকর্ণ ইউনিয়নের নূরপুর গ্রামের। বর ও কনে একই গ্রামের বাসিন্দা। বর এসএসসি পরীক্ষার্থী ও কনে নূরপুর বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদ পাওয়ার পর বুধবার দুপুরে পুলিশসহ ঘটনাস্থলে পৌঁছান এসিল্যান্ড সারোয়ার। বিয়ের আয়োজন প্রায় শেষ হয়ে আসলেও, তার আগেই আইন প্রয়োগ করে বিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়।

কনের অভিভাবক মো. সামছুল হক এবং বরের অভিভাবক মো. শাহেদ মিয়াকে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ এর ৮ ধারা লঙ্ঘনের জন্য চার হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এছাড়া, তাদের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয় যে, কনের ১৮ এবং বরের ২১ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে দেওয়া হবে না।

এ বিষয়ে নূরপুর বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সভাপতি মো. আশরাফ উদ্দিন বলেন, এলাকার মানুষ অল্প বয়সে ছেলে-মেয়েদের বিয়ে দেওয়ার প্রবণতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে প্রশাসন। এসিল্যান্ড খবর পেয়ে বাল্যবিবাহ বন্ধ করেছেন, যা আমাদের জন্য একটি বড় সাফল্য।

এসিল্যান্ড কাজী রবিউস সারোয়ার বলেন, বাল্যবিবাহ একটি সামাজিক অপরাধ এবং এটি আমাদের সমাজের জন্য ক্ষতিকর। আমরা চাই না, কোনো কিশোর বা কিশোরীর ভবিষ্যৎ ভুল সিদ্ধান্তের কারণে নষ্ট হোক। আইন সবার জন্য সমান, এবং আমরা আইন মেনে দায়িত্ব পালন করেছি।

এ ঘটনাটি এলাকার লোকজনের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে সাহায্য করবে এবং বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় প্রশাসন।