ঢাকা ০৮:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নবাগত পুলিশ সুপারের সাথে সাংবাদিকদের মতবিনিময় বাঞ্ছারামপুরে সাড়ে ৩ লাখ মানুষের ৩০ টি কমিউনিটি ক্লিনিক চলছে জোড়াতালি দিয়ে।। পরিত্যক্ত ভবনে চলে মাদকসেবন কসবায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে ১২০ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার আখাউড়ায় ৪ মাসপর জামিন মিললো মানসিক ভারসাম্যহীন তিন সন্তানের জননীর। বিজয়নগরে কিশোরীর বিয়ে নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ১০ সরাইল থানার ওসির সঙ্গে রুমিন ফারহানার বাদানুবাদ, পুলিশের জিডি সাংবাদিকদের গাড়ি আটকে ইজারার নামে যুবদল নেতার চাঁদা আদায়ের চেষ্টা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ, ভিডিও ভাইরাল মণ্ডপে শোভিত প্রতিমা, কানে কানে উৎসব পৌঁছে দিচ্ছে ঢাক সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নজরুলের বাড়িতে শোকের মাতম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শিশু গৃহপরিচারিকা নির্যাতন: চিকিৎসক দম্পতি গ্রেপ্তার, আদালতে প্রেরণ

আজকের ব্রাহ্মণবাড়িয়া রিপোর্ট:
  • আপডেট সময় : ০৭:৫৩:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
  • / ১৩২ বার পড়া হয়েছে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শিশু গৃহপরিচারিকা আয়েশা আক্তার (১০)কে নির্যাতনের অভিযোগে এক চিকিৎসক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরে আদালতে পাঠানো হয়।

এর আগে বুধবার (২৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় আয়েশাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আয়েশা সরাইল উপজেলার পাকশিমুল গ্রামের রাকিব মিয়ার মেয়ে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় ৯ মাস আগে নানার মাধ্যমে আয়েশাকে শহরের উত্তর মৌড়াইল এলাকায় চিকিৎসক কে. এম. আব্দুল্লাহ আল নোমান ও কিমিয়া সাদাত তোফার বাসায় গৃহপরিচারিকার কাজের জন্য পাঠানো হয়। তবে গত তিন মাস ধরে পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। পরিবারের অভিযোগ, এ সময়ে আয়েশার সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তা করতে দেওয়া হয়নি।

সম্প্রতি চিকিৎসক দম্পতি আয়েশার পরিবারকে জানায়, সে চুরি করে পালিয়ে গেছে। এরপর আয়েশার কোনো খোঁজ না পেয়ে তার পরিবার ২৬ এপ্রিল ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে।

পুলিশ জানায়, ওই জিডির সূত্র ধরে বুধবার সকালে চিকিৎসক দম্পতির বাসার পাশের একটি বাড়ি থেকে আয়েশাকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। শিশুটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

আয়েশার বাবা রাকিব মিয়ার অভিযোগ, তার মেয়েকে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। বিষয়টি আড়াল করতে এখন চুরির অভিযোগ তোলা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। এ ঘটনায় তিনি সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।

অন্যদিকে, নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে চিকিৎসক কে. এম. আব্দুল্লাহ আল নোমান দাবি করেন, তার স্ত্রী গর্ভবতী থাকায় সন্তানদের দেখাশোনার জন্য আয়েশাকে রাখা হয়েছিল। তিনি জানান, গত ২২ এপ্রিল আয়েশা তাদের বাসা থেকে দুই ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ৭০ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগও করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শিশু গৃহপরিচারিকা নির্যাতন: চিকিৎসক দম্পতি গ্রেপ্তার, আদালতে প্রেরণ

আপডেট সময় : ০৭:৫৩:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শিশু গৃহপরিচারিকা আয়েশা আক্তার (১০)কে নির্যাতনের অভিযোগে এক চিকিৎসক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরে আদালতে পাঠানো হয়।

এর আগে বুধবার (২৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় আয়েশাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আয়েশা সরাইল উপজেলার পাকশিমুল গ্রামের রাকিব মিয়ার মেয়ে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় ৯ মাস আগে নানার মাধ্যমে আয়েশাকে শহরের উত্তর মৌড়াইল এলাকায় চিকিৎসক কে. এম. আব্দুল্লাহ আল নোমান ও কিমিয়া সাদাত তোফার বাসায় গৃহপরিচারিকার কাজের জন্য পাঠানো হয়। তবে গত তিন মাস ধরে পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। পরিবারের অভিযোগ, এ সময়ে আয়েশার সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তা করতে দেওয়া হয়নি।

সম্প্রতি চিকিৎসক দম্পতি আয়েশার পরিবারকে জানায়, সে চুরি করে পালিয়ে গেছে। এরপর আয়েশার কোনো খোঁজ না পেয়ে তার পরিবার ২৬ এপ্রিল ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে।

পুলিশ জানায়, ওই জিডির সূত্র ধরে বুধবার সকালে চিকিৎসক দম্পতির বাসার পাশের একটি বাড়ি থেকে আয়েশাকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। শিশুটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

আয়েশার বাবা রাকিব মিয়ার অভিযোগ, তার মেয়েকে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। বিষয়টি আড়াল করতে এখন চুরির অভিযোগ তোলা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। এ ঘটনায় তিনি সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।

অন্যদিকে, নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে চিকিৎসক কে. এম. আব্দুল্লাহ আল নোমান দাবি করেন, তার স্ত্রী গর্ভবতী থাকায় সন্তানদের দেখাশোনার জন্য আয়েশাকে রাখা হয়েছিল। তিনি জানান, গত ২২ এপ্রিল আয়েশা তাদের বাসা থেকে দুই ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ৭০ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগও করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।