ঢাকা ০৩:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দুই বছর পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১২ সেপ্টেম্বর নৌকাবাইচ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ ছেলে বৌকে তালাক দেয়ায় যুবদল নেতার ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন একটি পরিবার অতিরিক্ত আইজিপি হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কৃতিসন্তান মো. সায়েদুর রহমান ব্রাহ্মণবাড়িয়া সমবায় ব্যাংকের বিশেষ সাধারণ সভা, নতুন চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম চৌধুরী লিটন দুই পদে এক কর্মকর্তা, মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবায় ব্যাঘাতের অভিযোগ নোঙর বাংলাদেশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার নব অভিযাত্রা শুরু অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে অ্যাসিড নিক্ষেপকারী স্বামী আটক অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর গোপনাঙ্গে এসিড নিক্ষেপের অভিযোগ, স্বামী পলাতক বিরল রোগে আক্রান্ত জিদনী, টাকার অভাবে হচ্ছে না চিকিৎসা ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবের আজীবন সদস্য হলেন সমাজসেবক খায়রুল হাসান

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ ছেলে বৌকে তালাক দেয়ায় যুবদল নেতার ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন একটি পরিবার

আজকের ব্রাহ্মণবাড়িয়া রিপোর্ট:
  • আপডেট সময় : ০৫:৪৫:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
  • / ৮ বার পড়া হয়েছে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে ছেলের বৌয়ের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের জেরে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। চাঁদা না দেওয়ায় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের কর্তা মো. কামাল পারভেজ। নিরাপত্তাহীনতায় বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বলে দাবি করেছেন তিনি।

এ ঘটনায় পরিবারের নিরাপত্তা ও বাড়িতে ফেরার ব্যবস্থা করার দাবিতে সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করেন ব্যবসায়ী কামাল পারভেজ। তিনি সরাইল উপজেলার পাকশিমুল ইউনিয়নের বড়ইচড়া গ্রামের মৃত বজলুর রহমানের ছেলে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে কামাল পারভেজ বলেন, তিনি প্রায় ২৮ বছর ধরে সরাইল উপজেলার অরুয়াইল বাজারে ব্যবসা করছেন। তার বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া ছেলে রিফাত পারভেজ শাওন পরিবারের অজান্তে পাকশিমুল ইউনিয়নের বড়ইচড়া গ্রামের কিবরু মিয়ার মেয়ে নিসা আক্তারকে বিয়ে করেন। পরবর্তীতে দাম্পত্য জীবনে বনিবনা না হওয়ায় চলতি বছরের ২ জুন আইনানুগভাবে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়।

কামাল পারভেজের অভিযোগ, বিবাহবিচ্ছেদের পর থেকেই কিবরু মিয়া বিভিন্নভাবে তাদের পরিবারকে চাপ দিতে থাকেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৪ আগস্ট পাকশিমুল ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও উপজেলার ভূইশ্বর গ্রামের জুনাইদ মিয়া তার লোকজন নিয়ে অরুয়াইল বাজারে তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুর করেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, এ সময় তার ছেলে রিফাতের তালাকের বিষয়টি উল্লেখ করে তার কাছে ৫০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। এর মধ্যে ৩০ লাখ টাকা নিসা আক্তারের জন্য ‘বিয়ের ক্ষতিপূরণ’ এবং ২০ লাখ টাকা জুনাইদ মিয়ার জন্য দাবি করা হয়। টাকা না দিলে পরিবারের সদস্যদের চরম মূল্য দিতে হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।

কামাল পারভেজ বলেন, বিষয়টি অরুয়াইল বাজারের ব্যবসায়ীদের জানানো হলে জুনাইদ মিয়া আরও ক্ষিপ্ত হন। পরে গত ১৭ আগস্ট রাতে কিবরু মিয়াসহ কয়েকজন তার অরুয়াইল বাজারের বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করেন। এ সময় আবারও ৫০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। একই সঙ্গে বাড়িতে লুটপাট চালিয়ে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, ওই ঘটনার পর থেকেই নিরাপত্তাহীনতায় পরিবারের সদস্যরা বাড়ির বাইরে অবস্থান করছেন। বাড়িতে ফিরতে পারছেন না তারা।

কামাল পারভেজ জানান, বাড়িতে হামলার ঘটনায় গত ১৮ আগস্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জুনাইদ মিয়াসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান তিনি।

তবে কামাল পারভেজের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত যুবদল নেতা জুনাইদ মিয়া। তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।
জুনাইদ মিয়ার দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে অরুয়াইল বাজারে ব্যবসা করছেন এবং কামাল পারভেজও তার পরিচিত ও সুসম্পর্ক রয়েছে। তার ভাষ্য, কামাল পারভেজের ছেলে রিফাত পারভেজ শাওন স্কুলে আসা-যাওয়ার পথে কিবরু মিয়ার নাবালিকা মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। পরে বিয়ের কথা বলে মেয়েটিকে নিয়ে গেলে পরিবারের পক্ষ থেকে খোঁজাখুঁজি শুরু হয়।

তিনি বলেন, মেয়ের অবস্থান জানার পর কিবরু মিয়া কামাল পারভেজের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেন। কিন্তু সমাধান না হওয়ায় গত ১৪ আগস্ট কিবরু মিয়া সরাইল থানায় একটি মামলা করেন। ওই মামলায় তাকে (জুনাইদ মিয়া) সাক্ষী করা হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে কামাল পারভেজ তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে মিথ্যা মামলা করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে কামাল পারভেজের স্ত্রী শিরিন সুলতানা, ভাই ফারুক আহমেদ ও স্ত্রীর বড় ভাই আব্দুল কুদ্দুস উপস্থিত ছিলেন।

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ ছেলে বৌকে তালাক দেয়ায় যুবদল নেতার ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন একটি পরিবার

আপডেট সময় : ০৫:৪৫:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে ছেলের বৌয়ের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের জেরে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। চাঁদা না দেওয়ায় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের কর্তা মো. কামাল পারভেজ। নিরাপত্তাহীনতায় বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বলে দাবি করেছেন তিনি।

এ ঘটনায় পরিবারের নিরাপত্তা ও বাড়িতে ফেরার ব্যবস্থা করার দাবিতে সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করেন ব্যবসায়ী কামাল পারভেজ। তিনি সরাইল উপজেলার পাকশিমুল ইউনিয়নের বড়ইচড়া গ্রামের মৃত বজলুর রহমানের ছেলে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে কামাল পারভেজ বলেন, তিনি প্রায় ২৮ বছর ধরে সরাইল উপজেলার অরুয়াইল বাজারে ব্যবসা করছেন। তার বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া ছেলে রিফাত পারভেজ শাওন পরিবারের অজান্তে পাকশিমুল ইউনিয়নের বড়ইচড়া গ্রামের কিবরু মিয়ার মেয়ে নিসা আক্তারকে বিয়ে করেন। পরবর্তীতে দাম্পত্য জীবনে বনিবনা না হওয়ায় চলতি বছরের ২ জুন আইনানুগভাবে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়।

কামাল পারভেজের অভিযোগ, বিবাহবিচ্ছেদের পর থেকেই কিবরু মিয়া বিভিন্নভাবে তাদের পরিবারকে চাপ দিতে থাকেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৪ আগস্ট পাকশিমুল ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও উপজেলার ভূইশ্বর গ্রামের জুনাইদ মিয়া তার লোকজন নিয়ে অরুয়াইল বাজারে তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুর করেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, এ সময় তার ছেলে রিফাতের তালাকের বিষয়টি উল্লেখ করে তার কাছে ৫০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। এর মধ্যে ৩০ লাখ টাকা নিসা আক্তারের জন্য ‘বিয়ের ক্ষতিপূরণ’ এবং ২০ লাখ টাকা জুনাইদ মিয়ার জন্য দাবি করা হয়। টাকা না দিলে পরিবারের সদস্যদের চরম মূল্য দিতে হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।

কামাল পারভেজ বলেন, বিষয়টি অরুয়াইল বাজারের ব্যবসায়ীদের জানানো হলে জুনাইদ মিয়া আরও ক্ষিপ্ত হন। পরে গত ১৭ আগস্ট রাতে কিবরু মিয়াসহ কয়েকজন তার অরুয়াইল বাজারের বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করেন। এ সময় আবারও ৫০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। একই সঙ্গে বাড়িতে লুটপাট চালিয়ে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, ওই ঘটনার পর থেকেই নিরাপত্তাহীনতায় পরিবারের সদস্যরা বাড়ির বাইরে অবস্থান করছেন। বাড়িতে ফিরতে পারছেন না তারা।

কামাল পারভেজ জানান, বাড়িতে হামলার ঘটনায় গত ১৮ আগস্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জুনাইদ মিয়াসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান তিনি।

তবে কামাল পারভেজের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত যুবদল নেতা জুনাইদ মিয়া। তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।
জুনাইদ মিয়ার দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে অরুয়াইল বাজারে ব্যবসা করছেন এবং কামাল পারভেজও তার পরিচিত ও সুসম্পর্ক রয়েছে। তার ভাষ্য, কামাল পারভেজের ছেলে রিফাত পারভেজ শাওন স্কুলে আসা-যাওয়ার পথে কিবরু মিয়ার নাবালিকা মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। পরে বিয়ের কথা বলে মেয়েটিকে নিয়ে গেলে পরিবারের পক্ষ থেকে খোঁজাখুঁজি শুরু হয়।

তিনি বলেন, মেয়ের অবস্থান জানার পর কিবরু মিয়া কামাল পারভেজের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেন। কিন্তু সমাধান না হওয়ায় গত ১৪ আগস্ট কিবরু মিয়া সরাইল থানায় একটি মামলা করেন। ওই মামলায় তাকে (জুনাইদ মিয়া) সাক্ষী করা হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে কামাল পারভেজ তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে মিথ্যা মামলা করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে কামাল পারভেজের স্ত্রী শিরিন সুলতানা, ভাই ফারুক আহমেদ ও স্ত্রীর বড় ভাই আব্দুল কুদ্দুস উপস্থিত ছিলেন।