ট্রেনে কুড়িয়ে পাওয়া স্বর্ণ-টাকা ফিরিয়ে দিয়ে সততার দৃষ্টান্ত, জেলা পরিষদের সম্মাননায় স্টুয়ার্ড মোশারফ
- আপডেট সময় : ০৫:৩১:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬
- / ৮৯ বার পড়া হয়েছে
ট্রেনে যাত্রীর ফেলে যাওয়া দেড় ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন ও নগদ টাকা প্রকৃত মালিকের হাতে ফিরিয়ে দিয়ে সততার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী স্টুয়ার্ড গার্ড এস এম মোশারফ হোসেনকে সংবর্ধনা ও সম্মাননা দিয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদ।
রবিবার (২ আগস্ট) দুপুরে জেলা পরিষদ কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ সিরাজুল ইসলাম সিরাজ মোশারফ হোসেনকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান এবং সম্মাননা হিসেবে আর্থিক সহায়তার একটি চেক প্রদান করেন।
জানা যায়, মোশারফ হোসেনের সততার ঘটনাটি স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিষয়টি জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ সিরাজুল ইসলাম সিরাজের নজরে আসে। পরে তিনি মোশারফ হোসেনের পরিচয় ও ঠিকানা সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারেন, মোশারফ হোসেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার রামরাইল ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর গ্রামের মৃত এম এম মজনু হোসেনের ছেলে এবং বর্তমানে পৌর শহরের কাউতলীতে বসবাস করছেন। পরে তিনি তাঁকে জেলা পরিষদ কার্যালয়ে আমন্ত্রণ জানান এবং তাঁর সততার স্বীকৃতি হিসেবে সংবর্ধনা ও সম্মাননা প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলী আজম, সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান খান শাহীন, কেন্দ্রীয় যুবদলের সদ্য বিদায়ী কুমিল্লা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকসহ জেলা পরিষদের কর্মকর্তা ও বিএনপির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ঘটনাটি ঘটে গত ১৫ জুলাই। সেদিন বিকেলে ৭০৩ নম্বর গোধূলি এক্সপ্রেসের ‘ঘ’ কোচে দায়িত্ব পালনকালে নরসিংদী স্টেশনে যাত্রী নামার পর একটি পলিথিনের ভেতরে থাকা জর্দার কৌটা উদ্ধার করেন মোশারফ হোসেন। কৌটার ভেতরে পাওয়া যায় দেড় ভরি ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন ও নগদ ২ হাজার টাকা।
কিছুক্ষণ পর যাত্রীরা ফোন করে তাদের মূল্যবান জিনিস হারানোর কথা জানালে মোশারফ হোসেন তাদের আশ্বস্ত করেন। পরে ৭৪২ নম্বর তূর্ণা এক্সপ্রেসে ভৈরব বাজার স্টেশনে রাত প্রায় ১টা ৫০ মিনিটে প্রকৃত মালিকের পরিচয় নিশ্চিত করে স্বর্ণের চেইন ও নগদ টাকা বুঝিয়ে দেন।
এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসিত হন তিনি।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আলহাজ সিরাজুল ইসলাম সিরাজ বলেন, “বর্তমান সময়ে সৎ মানুষ পাওয়া খুবই কঠিন। মোশারফ হোসেনের এই সততা শুধু তাঁর নিজের নয়, পুরো ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জন্য গর্বের বিষয়। তাঁর মতো মানুষেরাই সমাজে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। এছাড়া বিষয়টি গণমাধ্যমে তুলে ধরায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিউজকেও ধন্যবাদ জানাই।”
স্টুয়ার্ড গার্ড এস এম মোশারফ হোসেন বলেন, “আমি শুধু দায়িত্ববোধ থেকেই কাজটি করেছি। কোনো স্বীকৃতির প্রত্যাশা ছিল না। জেলা পরিষদের এই সম্মাননা আমাকে আরও সৎ ও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করার অনুপ্রেরণা দেবে। পাশাপাশি বিষয়টি তুলে ধরায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিউজের প্রতিও আমি কৃতজ্ঞ।”
সংবাদটি শেয়ার করুন
















