ঢাকা ১০:৪৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নবাগত পুলিশ সুপারের সাথে সাংবাদিকদের মতবিনিময় বাঞ্ছারামপুরে সাড়ে ৩ লাখ মানুষের ৩০ টি কমিউনিটি ক্লিনিক চলছে জোড়াতালি দিয়ে।। পরিত্যক্ত ভবনে চলে মাদকসেবন কসবায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে ১২০ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার আখাউড়ায় ৪ মাসপর জামিন মিললো মানসিক ভারসাম্যহীন তিন সন্তানের জননীর। বিজয়নগরে কিশোরীর বিয়ে নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ১০ সরাইল থানার ওসির সঙ্গে রুমিন ফারহানার বাদানুবাদ, পুলিশের জিডি সাংবাদিকদের গাড়ি আটকে ইজারার নামে যুবদল নেতার চাঁদা আদায়ের চেষ্টা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ, ভিডিও ভাইরাল মণ্ডপে শোভিত প্রতিমা, কানে কানে উৎসব পৌঁছে দিচ্ছে ঢাক সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নজরুলের বাড়িতে শোকের মাতম

সরাইলে টানা তিন দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর শান্তির আভাস, জেলা পরিষদ প্রশাসক সিরাজের মধ্যস্থতায় সমঝোতা

আজকের ব্রাহ্মণবাড়িয়া রিপোর্ট:
  • আপডেট সময় : ০৪:৪৮:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
  • / ২২৩ বার পড়া হয়েছে
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার কালীকচ্ছ ইউনিয়নের সূর্যকান্দি ও ধর্মতীর্থ গ্রামের মধ্যে টানা তিন দিন ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির পর অবশেষে শান্তির আভাস দেখা দিয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম সিরাজের মধ্যস্থতায় উভয় পক্ষ সংঘর্ষ বন্ধে প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছেছে। এর ফলে দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই আঞ্চলিক সড়কে আবারও যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।
জানা গেছে, গত রোববার সন্ধ্যায় পাওনা টাকাকে কেন্দ্র করে সূর্যকান্দি গ্রামের মোশাররফ হোসেন ও ধর্মতীর্থ গ্রামের হাদিম মিয়ার মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে রাত সাড়ে ৭টার দিকে দুই গ্রামের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে ধর্মতীর্থ গ্রামের শামছুল মিয়ার ছেলে হাদিম মিয়া (৫৫) নিহত হন এবং উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন।
পরদিন সোমবার নিহতের দাফন শেষে আবারও দুই গ্রামের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় কালীকচ্ছ বাজারের কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ফাঁকা গুলি ছুড়ে।
মঙ্গলবার সকালেও তৃতীয় দিনের মতো দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নিলে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় অন্তত ৩০ জন আহত হন। সংঘর্ষের কারণে সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই আঞ্চলিক সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে সাধারণ যাত্রীদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরাইল-আশুগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম, সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুরুল কাদের ভূঁইয়াসহ বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। সংঘর্ষের আশঙ্কায় কালীকচ্ছ বাজারের অধিকাংশ দোকানপাটও বন্ধ হয়ে যায়।
এ অবস্থায় মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে উভয় পক্ষের মুরুব্বি ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন জেলা পরিষদ প্রশাসক আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম সিরাজ। দীর্ঘ আলোচনার পর উভয় পক্ষ থেকে পাঁচজন করে মোট ১০ জন প্রতিনিধি সংঘর্ষ বন্ধে দায়িত্ব নেন এবং ভবিষ্যতে আর কোনো ধরনের সহিংসতায় জড়াবেন না বলে প্রতিশ্রুতি দেন।
বৈঠক শেষে জেলা পরিষদ প্রশাসক নিহত হাদিম মিয়ার বাড়িতে গিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান। তিনি হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে গ্রামবাসীর সহযোগিতা পেলে দীর্ঘদিনের বিরোধ স্থায়ীভাবে মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান।
স্থানীয়দের আশা, প্রশাসকের এই উদ্যোগ ও উভয় পক্ষের সমঝোতার ফলে এলাকায় শান্তি ও স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসবে এবং নতুন করে সংঘর্ষের আশঙ্কা কমে আসবে।

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

সরাইলে টানা তিন দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর শান্তির আভাস, জেলা পরিষদ প্রশাসক সিরাজের মধ্যস্থতায় সমঝোতা

আপডেট সময় : ০৪:৪৮:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার কালীকচ্ছ ইউনিয়নের সূর্যকান্দি ও ধর্মতীর্থ গ্রামের মধ্যে টানা তিন দিন ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির পর অবশেষে শান্তির আভাস দেখা দিয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম সিরাজের মধ্যস্থতায় উভয় পক্ষ সংঘর্ষ বন্ধে প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছেছে। এর ফলে দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই আঞ্চলিক সড়কে আবারও যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।
জানা গেছে, গত রোববার সন্ধ্যায় পাওনা টাকাকে কেন্দ্র করে সূর্যকান্দি গ্রামের মোশাররফ হোসেন ও ধর্মতীর্থ গ্রামের হাদিম মিয়ার মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে রাত সাড়ে ৭টার দিকে দুই গ্রামের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে ধর্মতীর্থ গ্রামের শামছুল মিয়ার ছেলে হাদিম মিয়া (৫৫) নিহত হন এবং উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন।
পরদিন সোমবার নিহতের দাফন শেষে আবারও দুই গ্রামের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় কালীকচ্ছ বাজারের কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ফাঁকা গুলি ছুড়ে।
মঙ্গলবার সকালেও তৃতীয় দিনের মতো দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নিলে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় অন্তত ৩০ জন আহত হন। সংঘর্ষের কারণে সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই আঞ্চলিক সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে সাধারণ যাত্রীদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরাইল-আশুগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম, সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুরুল কাদের ভূঁইয়াসহ বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। সংঘর্ষের আশঙ্কায় কালীকচ্ছ বাজারের অধিকাংশ দোকানপাটও বন্ধ হয়ে যায়।
এ অবস্থায় মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে উভয় পক্ষের মুরুব্বি ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন জেলা পরিষদ প্রশাসক আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম সিরাজ। দীর্ঘ আলোচনার পর উভয় পক্ষ থেকে পাঁচজন করে মোট ১০ জন প্রতিনিধি সংঘর্ষ বন্ধে দায়িত্ব নেন এবং ভবিষ্যতে আর কোনো ধরনের সহিংসতায় জড়াবেন না বলে প্রতিশ্রুতি দেন।
বৈঠক শেষে জেলা পরিষদ প্রশাসক নিহত হাদিম মিয়ার বাড়িতে গিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান। তিনি হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে গ্রামবাসীর সহযোগিতা পেলে দীর্ঘদিনের বিরোধ স্থায়ীভাবে মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান।
স্থানীয়দের আশা, প্রশাসকের এই উদ্যোগ ও উভয় পক্ষের সমঝোতার ফলে এলাকায় শান্তি ও স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসবে এবং নতুন করে সংঘর্ষের আশঙ্কা কমে আসবে।