ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সুবর্ণজয়ন্তীর লোগো উন্মোচন অনুষ্ঠানে ‘উপজেলাগুলোতে কোনটি মূল প্রেসক্লাব’—বিভ্রান্তি দূর করে সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ করার আহ্বান এমপি শ্যামলের
- আপডেট সময় : ০৮:১৩:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬
- / ৮৩ বার পড়া হয়েছে
‘জেলার উপজেলা গুলোতে কোনটি মূল প্রেসক্লাব’—এ নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাংবাদিকদের একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় ঐক্যবদ্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল। জেলার নয়টি উপজেলায় থাকা বিভিন্ন প্রেসক্লাবের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের নেতৃত্বে জেলার সাংবাদিকদের আরও সমন্বিতভাবে পরিচালনার বিষয়টি বিবেচনার আহ্বান জানান। শনিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সুবর্ণজয়ন্তীর লোগো উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।
গৌরব ও ঐতিহ্যের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সুবর্ণজয়ন্তী উৎসবের লোগো উন্মোচন করা হয়েছে। আগামী জানুয়ারি মাসে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রেসক্লাবের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে শনিবার রাত ৮টায় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে লোগোটি উন্মোচন করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল বলেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের ৫০ বছর উদযাপন নয়, আমরা এটিকে আগামী দিনে পুরো ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উৎসব হিসেবে দেখতে চাই।’
তিনি বলেন, সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা হচ্ছে। এ আয়োজনকে তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দিতে হবে। পাশাপাশি ঢাকায় বসবাসরত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাংবাদিকদেরও এ উৎসবের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা এবং তাদের বিভিন্ন দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
সুবর্ণজয়ন্তীকে কেন্দ্র করে প্রয়োজনীয় বাজেট প্রণয়নের পরামর্শ দিয়ে এমপি শ্যামল বলেন, এতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ একটি জাঁকজমকপূর্ণ ও স্মরণীয় আয়োজন উপভোগ করতে পারবেন। প্রেসক্লাবের অন্যতম ইতিবাচক দিক হলো সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করা। কিছু ছোটখাটো সমস্যা থাকলেও সামগ্রিকভাবে প্রেসক্লাব সুন্দরভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
জেলার নয়টি উপজেলায় থাকা বিভিন্ন প্রেসক্লাবের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, কোনটি মূল প্রেসক্লাব—এ নিয়ে অনেক সময় বিভ্রান্তি তৈরি হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের নেতৃত্বে জেলার সাংবাদিকদের আরও সমন্বিতভাবে পরিচালনা ও ঐক্যবদ্ধ করা যায় কি না, তা বিবেচনা করা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বাহারুল ইসলাম মোল্লা বলেন, আগামী জানুয়ারি মাসে প্রেসক্লাবের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন করা হবে। জাতীয় প্রেসক্লাবের পর দেশের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী প্রেসক্লাবগুলোর মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব অন্যতম। বিভিন্ন সময়ে দেশের খ্যাতিমান সাংবাদিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এ প্রেসক্লাবের প্রশংসা করেছেন। সুবর্ণজয়ন্তীকে স্মরণীয় করে রাখতে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
শুভেচ্ছা বক্তব্যে সিনিয়র সাংবাদিক আশিকুল ইসলাম, সাবেক সভাপতি দীপক চৌধুরী বাপ্পী, মাছরাঙা টেলিভিশনের প্রতিনিধি আশিক মান্নান হিমেল, প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক শাহাদাত হোসেন, প্রেসক্লাবের সহসভাপতি ইব্রাহিম খান সাদাত ও সাংবাদিক আল আমীন শাহীন বলেন, ৫০ বছরের পথচলা প্রেসক্লাবের জন্য একটি মাহেন্দ্রক্ষণ। সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে উৎসবমুখর ও বর্ণাঢ্য আয়োজনের মাধ্যমে অতীতের সাংবাদিক ও গুণীজনদের স্মরণ করার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছে প্রেসক্লাবের ইতিহাস তুলে ধরতে হবে।
সিনিয়র সাংবাদিক আবদুর নূর বলেন, গৌরবের ৫০ বছর উদযাপনের মধ্য দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সুবর্ণজয়ন্তীর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হলো। লোগো উন্মোচনের মধ্য দিয়ে এর সূচনা হয়েছে। সবার সার্বিক সহযোগিতায় এ আয়োজন ঐতিহাসিক হয়ে উঠবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সিনিয়র সাংবাদিক ও কবি জয়দুল হোসেন বলেন, সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে লোগো উন্মোচনের পাশাপাশি স্মরণিকা প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাংবাদিকতার ইতিহাস প্রায় ২০০ বছরের। অথচ জেলার নিজস্ব পূর্ণাঙ্গ গেজেটিয়ার বা নির্ভরযোগ্য ইতিহাস এখনও নেই। ব্রিটিশ আমলে বিভিন্ন জেলার গেজেটিয়ার প্রকাশিত হলেও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ক্ষেত্রে তা হয়নি। জেলার উন্নয়ন, ঐতিহ্য, ইতিহাস ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সংরক্ষণের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ গেজেটিয়ার ও নির্ভরযোগ্য ইতিহাস প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সাংবাদিক পীযূষ কান্তি আচার্য বলেন, প্রায় ৩৫ বছর ধরে তিনি প্রেসক্লাবের সঙ্গে যুক্ত। একসময় পুকুরপাড়ে টিনের চালার দুই কক্ষের ছোট পরিসর থেকে প্রেসক্লাবের যাত্রা শুরু হয়েছিল। সেই প্রতিষ্ঠান আজ ৫০ বছরে এসে দাঁড়িয়েছে। অতীতের ঐতিহ্য ধরে রেখে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সাংবাদিকদের জন্য আরও সুযোগ-সুবিধা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
শেখ শহিদুল ইসলাম বলেন, দুই কক্ষের ছোট পরিসর থেকে যাত্রা শুরু করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব আজ একটি প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। নতুন প্রজন্মের অনেক সাংবাদিক এ পেশায় আসছেন। তাদের পেশাগত উন্নয়ন ও কল্যাণে প্রেসক্লাবকে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
সিনিয়র সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম বলেন, ৫০ বছর ধরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব সাংবাদিকদের ঐক্য ও পেশাগত অস্তিত্বের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। নানা মত ও পথের সাংবাদিকরা এখানে একসঙ্গে কাজ করেছেন। মেধাবী, সাহসী ও সাহিত্য-সংস্কৃতিমনস্ক সাংবাদিকদের মূল্যায়নের মধ্য দিয়ে প্রেসক্লাবের ঐতিহ্য গড়ে উঠেছে।
সুবর্ণজয়ন্তীর আয়োজনকে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণের উৎসবে পরিণত করার আহ্বান জানান তিনি।
সাবেক সভাপতি আরজু বলেন, প্রেসক্লাবের শুরুর দিনগুলো থেকেই তিনি এর সঙ্গে সম্পৃক্ত। দুই কক্ষের ছোট ঘর থেকে আজকের অবস্থানে আসা প্রতিষ্ঠানটির ৫০ বছরের অগ্রযাত্রা নিঃসন্দেহে গৌরবের। প্রতিষ্ঠাতা গফুর স্যারের অবদান স্মরণ করে তিনি সাংবাদিকদের পেশাগত মানোন্নয়ন ও কল্যাণে প্রেসক্লাবকে আরও শক্তিশালী ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম বলেন, বিগত সময়ে প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ প্রতিষ্ঠানটিকে একটি নান্দনিক ও সুসংগঠিত প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছেন। বর্তমান নেতৃত্বে ৫০ বছরের বর্ণাঢ্য আয়োজন আরও জাঁকজমকপূর্ণ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি বলেন, একসময় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাংবাদিকতা পেশায় শিক্ষক সমাজের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি ছিল। সময়ের সঙ্গে সেই অংশগ্রহণ কমেছে। বর্তমানে অনেক মেধাবী, প্রতিভাবান ও তরুণ সাংবাদিকতা পেশায় আসতে আগ্রহী। প্রেসক্লাবের ঐতিহ্য ও মান ধরে রাখতে যোগ্য ও আগ্রহী তরুণদের এ পেশায় সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ইতিহাস নিয়ে গেজেটিয়ার প্রকাশের প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে জেলা পরিষদ প্রশাসক বলেন, আগামী প্রজন্মের কাছে জেলার ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। এ কাজে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির কাছ থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের আজীবন সদস্যপদ গ্রহণ করেন ওয়াসিকুর রহমান মোস্তাক মোল্লা, দেওয়ান দিদারুল আলম ও খাইরুল হাসান।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি জাবেদ রহিম বীজনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি, জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি জহিরুল হক খোকন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া আইন কলেজের অধ্যক্ষ অ্যাডভোকেট মো. হাবিবুল্লাহ, সিভিল সার্জন ডা. মো. নোমান মিয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল হান্নান খন্দকার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রঞ্জন চন্দ্র দে এবং প্রেসক্লাবের সাংবাদিকসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা।
লোগো উন্মোচনের মধ্য দিয়ে আগামী জানুয়ারিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের ৫০ বছরের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতিও শুরু হলো।
সংবাদটি শেয়ার করুন

















