ঢাকা ০১:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মাদক-চাঁদাবাজ মুক্ত রাজশাহী গড়ছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সন্তান পুলিশ কমিশনার ফয়েজুল কবির নবাগত পুলিশ সুপারের সাথে সাংবাদিকদের মতবিনিময় বাঞ্ছারামপুরে সাড়ে ৩ লাখ মানুষের ৩০ টি কমিউনিটি ক্লিনিক চলছে জোড়াতালি দিয়ে।। পরিত্যক্ত ভবনে চলে মাদকসেবন কসবায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে ১২০ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার আখাউড়ায় ৪ মাসপর জামিন মিললো মানসিক ভারসাম্যহীন তিন সন্তানের জননীর। বিজয়নগরে কিশোরীর বিয়ে নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ১০ সরাইল থানার ওসির সঙ্গে রুমিন ফারহানার বাদানুবাদ, পুলিশের জিডি সাংবাদিকদের গাড়ি আটকে ইজারার নামে যুবদল নেতার চাঁদা আদায়ের চেষ্টা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ, ভিডিও ভাইরাল মণ্ডপে শোভিত প্রতিমা, কানে কানে উৎসব পৌঁছে দিচ্ছে ঢাক

ঐতিহ্যের ধারায় পহেলা বৈশাখ, নব স্বপ্নে নতুন বছরের অঙ্গীকার

মুক্তমত ও সম্পাদকীয়
  • আপডেট সময় : ০৪:১১:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬
  • / ২০৯ বার পড়া হয়েছে

পহেলা বৈশাখ—বাংলা সনের প্রথম দিন, বাঙালির চিরন্তন উৎসবের নাম। এটি কেবল একটি নতুন বছরের সূচনা নয়; বরং হাজার বছরের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও জাতিসত্তার এক অনন্য প্রতীক। সময়ের পরিক্রমায় এই দিনটি পরিণত হয়েছে বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনা, ঐক্য ও নতুন প্রত্যয়ের মহোৎসবে।

বাংলা নববর্ষ আমাদের মনে করিয়ে দেয় শেকড়ের কথা, মাটির কথা, মানুষের কথা। নগর জীবনের কোলাহল হোক বা গ্রামের সহজ সরল জীবন—সবখানেই পহেলা বৈশাখ নিয়ে আসে নতুন আশার বার্তা। পুরনো হিসাব-নিকাশ ভুলে, দুঃখ-বেদনা পেছনে ফেলে মানুষ এগিয়ে যেতে চায় নতুন সম্ভাবনার পথে। এই দিনটি যেন জীবনের নতুন করে শুরু করার এক প্রতীকী আহ্বান।

বাংলা নববর্ষের সঙ্গে প্রকৃতি ও কৃষিজীবনের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। নতুন ফসল, নতুন ঋতু, নতুন আলো—সবকিছু মিলিয়ে এটি এক জীবনমুখী উৎসব। ভোরের প্রথম সূর্যের আলোয় নতুন বছরকে বরণ করার যে চিরায়ত প্রথা, তা আমাদের সংস্কৃতির স্বকীয়তাকে আরও উজ্জ্বল করে তোলে। এখানে সময়ের শুরু হয় প্রকৃতির ছন্দে, মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে তাল মিলিয়ে।

ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যায়, এই নববর্ষের সূত্রপাত মোগল আমলে। সম্রাট আকবরের শাসনামলে রাজস্ব ব্যবস্থাকে সহজ করতে যে ‘ফসলি সন’-এর প্রবর্তন করা হয়েছিল, তা-ই সময়ের বিবর্তনে আজকের বাংলা সনে রূপ নিয়েছে। অর্থনৈতিক প্রয়োজনে শুরু হলেও এটি আজ বাঙালির সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে যখন নানা সংস্কৃতির প্রভাব আমাদের জীবনে প্রবেশ করছে, তখন পহেলা বৈশাখ আমাদের শিকড়ের সঙ্গে নতুন করে সংযোগ স্থাপন করে। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়—আমরা কে, আমাদের ইতিহাস কী, এবং আমাদের সাংস্কৃতিক শক্তির ভিত্তি কোথায়।

তবে উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি আমাদের দায়িত্বও রয়েছে। এই দিনটি যেন কেবল বাহ্যিক আয়োজনেই সীমাবদ্ধ না থাকে; বরং আমরা যেন অন্তরে ধারণ করি সততা, ন্যায়, মানবিকতা ও সাম্যের মূল্যবোধ। নতুন বছরের শুরু হোক দুর্নীতি, বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রত্যয়ে।

পহেলা বৈশাখ আমাদের শেখায়—নতুন দিন মানেই নতুন সম্ভাবনা। তাই আসুন, অতীতের শিক্ষা থেকে শক্তি নিয়ে, বর্তমানকে আত্মবিশ্বাসে ধারণ করে, ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যাই নতুন স্বপ্ন ও অঙ্গীকার নিয়ে।
শুভ নববর্ষ।

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

ঐতিহ্যের ধারায় পহেলা বৈশাখ, নব স্বপ্নে নতুন বছরের অঙ্গীকার

আপডেট সময় : ০৪:১১:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

পহেলা বৈশাখ—বাংলা সনের প্রথম দিন, বাঙালির চিরন্তন উৎসবের নাম। এটি কেবল একটি নতুন বছরের সূচনা নয়; বরং হাজার বছরের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও জাতিসত্তার এক অনন্য প্রতীক। সময়ের পরিক্রমায় এই দিনটি পরিণত হয়েছে বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনা, ঐক্য ও নতুন প্রত্যয়ের মহোৎসবে।

বাংলা নববর্ষ আমাদের মনে করিয়ে দেয় শেকড়ের কথা, মাটির কথা, মানুষের কথা। নগর জীবনের কোলাহল হোক বা গ্রামের সহজ সরল জীবন—সবখানেই পহেলা বৈশাখ নিয়ে আসে নতুন আশার বার্তা। পুরনো হিসাব-নিকাশ ভুলে, দুঃখ-বেদনা পেছনে ফেলে মানুষ এগিয়ে যেতে চায় নতুন সম্ভাবনার পথে। এই দিনটি যেন জীবনের নতুন করে শুরু করার এক প্রতীকী আহ্বান।

বাংলা নববর্ষের সঙ্গে প্রকৃতি ও কৃষিজীবনের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। নতুন ফসল, নতুন ঋতু, নতুন আলো—সবকিছু মিলিয়ে এটি এক জীবনমুখী উৎসব। ভোরের প্রথম সূর্যের আলোয় নতুন বছরকে বরণ করার যে চিরায়ত প্রথা, তা আমাদের সংস্কৃতির স্বকীয়তাকে আরও উজ্জ্বল করে তোলে। এখানে সময়ের শুরু হয় প্রকৃতির ছন্দে, মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে তাল মিলিয়ে।

ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যায়, এই নববর্ষের সূত্রপাত মোগল আমলে। সম্রাট আকবরের শাসনামলে রাজস্ব ব্যবস্থাকে সহজ করতে যে ‘ফসলি সন’-এর প্রবর্তন করা হয়েছিল, তা-ই সময়ের বিবর্তনে আজকের বাংলা সনে রূপ নিয়েছে। অর্থনৈতিক প্রয়োজনে শুরু হলেও এটি আজ বাঙালির সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে যখন নানা সংস্কৃতির প্রভাব আমাদের জীবনে প্রবেশ করছে, তখন পহেলা বৈশাখ আমাদের শিকড়ের সঙ্গে নতুন করে সংযোগ স্থাপন করে। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়—আমরা কে, আমাদের ইতিহাস কী, এবং আমাদের সাংস্কৃতিক শক্তির ভিত্তি কোথায়।

তবে উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি আমাদের দায়িত্বও রয়েছে। এই দিনটি যেন কেবল বাহ্যিক আয়োজনেই সীমাবদ্ধ না থাকে; বরং আমরা যেন অন্তরে ধারণ করি সততা, ন্যায়, মানবিকতা ও সাম্যের মূল্যবোধ। নতুন বছরের শুরু হোক দুর্নীতি, বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রত্যয়ে।

পহেলা বৈশাখ আমাদের শেখায়—নতুন দিন মানেই নতুন সম্ভাবনা। তাই আসুন, অতীতের শিক্ষা থেকে শক্তি নিয়ে, বর্তমানকে আত্মবিশ্বাসে ধারণ করে, ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যাই নতুন স্বপ্ন ও অঙ্গীকার নিয়ে।
শুভ নববর্ষ।