ঢাকা ১২:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাড়ি ফেরার পথে অপহরণের শিকার ডুয়েট শিক্ষার্থী নাহিদ।। মুক্তিপণ আদায়ের পর মুক্ত  ব্রাহ্মণবাড়িয়া পাসপোর্ট অফিসে জেলা পরিষদ প্রশাসকের আকস্মিক পরিদর্শন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নানা অনিয়মের দায়ে অচি মেমোরিয়াল ও পদ্মা মা ও শিশু হাসপাতালকে ৪ লাখ টাকা জরিমানা হাইকোর্টের নির্দেশে বন্ধ হলো বহুতল ভবনের নির্মাণকাজ ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৬৫টি কচ্ছপ উদ্ধার, সালদানদীতে অবমুক্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কাজীপাড়ায় মাদকবিরোধী সমাবেশ সফল করতে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত নদী-খাল-বিলে মাছ রক্ষায় অবৈধ রিংজাল বন্ধে সচেতনতার আহ্বান জেলা পরিষদ প্রশাসক সিরাজুল ইসলামের এফ এ টাওয়ারের অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীকে জেলা পরিষদের আর্থিক অনুদান প্রদান ঢেউ’র আহবায়ক সোহেল সদস্য সচিব আইফাত  তিতাস তীরের কৃষিজমি ও জলাশয় দখলমুক্তে উচ্ছেদ অভিযান
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কৃতি সন্তান

ক্ষণজন্মা রফিকুল বারী চৌধুরী: বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের এক অনন্য নক্ষত্র

প্রতিনিধির নামঃ
  • আপডেট সময় : ০৭:৩৪:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ মে ২০২৫
  • / ৭৮২ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন জগতে অবিস্মরণীয় নাম রফিকুল বারী চৌধুরী। তিনি ছিলেন দেশের প্রথম চিফ ক্যামেরাম্যান এবং চলচ্চিত্রের একজন দক্ষ চিত্রগ্রাহক ও পরিচালক।
টেলিভিশন কেন্দ্রীক ক্যামেরাম্যান প্রশিক্ষণের তিনি ছিলেন পুরোধা ব্যক্তিত্ব। তারও আগে এফডিসি প্রতিষ্ঠার আগে ১৯৫৪ সালে তিনি লাহোরে সহকারী চিত্রগ্রাহক হিসেবে কাজ শুরু করেন। ঢাকায় এফডিসি প্রতিষ্ঠিত হলে তিনি সেখানে ক্যামেরা বিভাগে যোগ দেন। ১৯৬৪ সালে এস,এম,শফি পরিচালিত “ইয়ে ভি এক কাহানী” ছবিতে চলচ্চিত্র গ্রাহক হিসেবে কাজ করেন রফিকুল বারী চৌধুরী। প্রথম ছবিতেই তাঁর চিত্রগ্রহণের ধরন (ফর্ম, ফ্রেমিং এন্ড লাইটিং) ভুয়সী প্রশংসা অর্জন করে। অমায়িক, সজ্জন এই মানুষটি ছিলেন নিজেই একটি প্রতিষ্ঠান।

আজ ৮ মে তার মৃত্যুবার্ষিকীতে আমরা তার অসামান্য অবদান স্মরণ করছি। শ্রদ্ধাঞ্জলি এই গুনী মানুষটির প্রতি।

তাঁর জন্মস্থান ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর চৌধুরী বাড়ি।

রফিকুল বারী চৌধুরী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কৃতি সন্তান হিসেবে চলচ্চিত্র জগতে প্রবেশ করেন। তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) প্রথম চিফ ক্যামেরাম্যান হিসেবে নিয়োগ পান এবং দেশের টেলিভিশন শিল্পকে নতুন মাত্রা দেন। পরবর্তীতে তিনি চলচ্চিত্রে আত্মপ্রকাশ করেন এবং তার প্রতিভার মাধ্যমে দেশীয় চলচ্চিত্রকে সমৃদ্ধ করেন।
তিনি ছিলেন ক্যামেরার জাদুকর। তার শৈল্পিক দক্ষতার প্রমাণ পাওয়া যায় বিভিন্ন জনপ্রিয় চলচ্চিত্রে: গোলাপী এখন ট্রেনে (১৯৭৮), দুই পয়সার আলতা (১৯৮২), হীরা মাটি (১৯৮৮), জয়যাত্রা (২০০৪) এইসব চলচ্চিত্রে তার অনবদ্য চিত্রগ্রহণ দর্শকদের মুগ্ধ করেছে এবং শ্রেষ্ঠ চিত্রগ্রাহক হিসেবে তিনি চারবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। এ ছাড়া পরিচালক হিসেবেও তার ছবি ঋদ্ধ দর্শকদের প্রশংসা পেয়েছে। এর মধ্যে “তানসেন”, “রজকিনী চণ্ডিদাস”, “ভুল যখন ভাঙলো” ‘পেনশন’ উল্লেখযোগ্য।

চিত্রগ্রাহক হিসেবে অসংখ্য জনপ্রিয় চলচ্চিত্রে কাজ করার পাশাপাশি তিনি “বাংলা মা-এর দামাল ছেলে” (১৯৯৪) নামে একটি শিশুতোষ চলচ্চিত্রও পরিচালনা করেন, যা বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করে। তার সৃজনশীলতা, নিষ্ঠা ও পরিশ্রম দেশীয় চলচ্চিত্র শিল্পের পথিকৃত হয়ে থাকবে।

২০০৫ সালের ৮ মে তিনি আমাদের ছেড়ে চলে যান। কিন্তু তার রেখে যাওয়া অসামান্য কাজ তাকে চিরস্মরণীয় করে রেখেছে। তার নামে স্মৃতিচিহ্ন বা পুরস্কার প্রবর্তনের মাধ্যমে তার অবদানকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার সুযোগ রয়েছে।
পরিশেষে নির্দ্বিধায় বলা যেতে পারে রফিকুল বারী চৌধুরী ছিলেন বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতের এক বিস্ময়কর ব্যক্তিত্ব। তার কর্ম ও অবদান আজও অনুপ্রেরণা জাগায়। চলচ্চিত্রপ্রেমীরা এবং নতুন প্রজন্মের নির্মাতারা তার কাজ থেকে শিক্ষা নিতে পারেন।
আজকের দিনে আমরা তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই এবং তার সৃষ্টিশীলতা ও পরিশ্রমের মূল্যায়ন করি।

মো. আবু নাছের রতন

সম্পাদক, দৈনিক আজকের ব্রাহ্মণবাড়িয়া
সদস্য, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সংবাদপত্র পরিষদ।

 

 

 

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কৃতি সন্তান

ক্ষণজন্মা রফিকুল বারী চৌধুরী: বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের এক অনন্য নক্ষত্র

আপডেট সময় : ০৭:৩৪:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ মে ২০২৫

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন জগতে অবিস্মরণীয় নাম রফিকুল বারী চৌধুরী। তিনি ছিলেন দেশের প্রথম চিফ ক্যামেরাম্যান এবং চলচ্চিত্রের একজন দক্ষ চিত্রগ্রাহক ও পরিচালক।
টেলিভিশন কেন্দ্রীক ক্যামেরাম্যান প্রশিক্ষণের তিনি ছিলেন পুরোধা ব্যক্তিত্ব। তারও আগে এফডিসি প্রতিষ্ঠার আগে ১৯৫৪ সালে তিনি লাহোরে সহকারী চিত্রগ্রাহক হিসেবে কাজ শুরু করেন। ঢাকায় এফডিসি প্রতিষ্ঠিত হলে তিনি সেখানে ক্যামেরা বিভাগে যোগ দেন। ১৯৬৪ সালে এস,এম,শফি পরিচালিত “ইয়ে ভি এক কাহানী” ছবিতে চলচ্চিত্র গ্রাহক হিসেবে কাজ করেন রফিকুল বারী চৌধুরী। প্রথম ছবিতেই তাঁর চিত্রগ্রহণের ধরন (ফর্ম, ফ্রেমিং এন্ড লাইটিং) ভুয়সী প্রশংসা অর্জন করে। অমায়িক, সজ্জন এই মানুষটি ছিলেন নিজেই একটি প্রতিষ্ঠান।

আজ ৮ মে তার মৃত্যুবার্ষিকীতে আমরা তার অসামান্য অবদান স্মরণ করছি। শ্রদ্ধাঞ্জলি এই গুনী মানুষটির প্রতি।

তাঁর জন্মস্থান ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর চৌধুরী বাড়ি।

রফিকুল বারী চৌধুরী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কৃতি সন্তান হিসেবে চলচ্চিত্র জগতে প্রবেশ করেন। তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) প্রথম চিফ ক্যামেরাম্যান হিসেবে নিয়োগ পান এবং দেশের টেলিভিশন শিল্পকে নতুন মাত্রা দেন। পরবর্তীতে তিনি চলচ্চিত্রে আত্মপ্রকাশ করেন এবং তার প্রতিভার মাধ্যমে দেশীয় চলচ্চিত্রকে সমৃদ্ধ করেন।
তিনি ছিলেন ক্যামেরার জাদুকর। তার শৈল্পিক দক্ষতার প্রমাণ পাওয়া যায় বিভিন্ন জনপ্রিয় চলচ্চিত্রে: গোলাপী এখন ট্রেনে (১৯৭৮), দুই পয়সার আলতা (১৯৮২), হীরা মাটি (১৯৮৮), জয়যাত্রা (২০০৪) এইসব চলচ্চিত্রে তার অনবদ্য চিত্রগ্রহণ দর্শকদের মুগ্ধ করেছে এবং শ্রেষ্ঠ চিত্রগ্রাহক হিসেবে তিনি চারবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। এ ছাড়া পরিচালক হিসেবেও তার ছবি ঋদ্ধ দর্শকদের প্রশংসা পেয়েছে। এর মধ্যে “তানসেন”, “রজকিনী চণ্ডিদাস”, “ভুল যখন ভাঙলো” ‘পেনশন’ উল্লেখযোগ্য।

চিত্রগ্রাহক হিসেবে অসংখ্য জনপ্রিয় চলচ্চিত্রে কাজ করার পাশাপাশি তিনি “বাংলা মা-এর দামাল ছেলে” (১৯৯৪) নামে একটি শিশুতোষ চলচ্চিত্রও পরিচালনা করেন, যা বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করে। তার সৃজনশীলতা, নিষ্ঠা ও পরিশ্রম দেশীয় চলচ্চিত্র শিল্পের পথিকৃত হয়ে থাকবে।

২০০৫ সালের ৮ মে তিনি আমাদের ছেড়ে চলে যান। কিন্তু তার রেখে যাওয়া অসামান্য কাজ তাকে চিরস্মরণীয় করে রেখেছে। তার নামে স্মৃতিচিহ্ন বা পুরস্কার প্রবর্তনের মাধ্যমে তার অবদানকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার সুযোগ রয়েছে।
পরিশেষে নির্দ্বিধায় বলা যেতে পারে রফিকুল বারী চৌধুরী ছিলেন বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতের এক বিস্ময়কর ব্যক্তিত্ব। তার কর্ম ও অবদান আজও অনুপ্রেরণা জাগায়। চলচ্চিত্রপ্রেমীরা এবং নতুন প্রজন্মের নির্মাতারা তার কাজ থেকে শিক্ষা নিতে পারেন।
আজকের দিনে আমরা তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই এবং তার সৃষ্টিশীলতা ও পরিশ্রমের মূল্যায়ন করি।

মো. আবু নাছের রতন

সম্পাদক, দৈনিক আজকের ব্রাহ্মণবাড়িয়া
সদস্য, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সংবাদপত্র পরিষদ।