ঢাকা ০২:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাড়ি ফেরার পথে অপহরণের শিকার ডুয়েট শিক্ষার্থী নাহিদ।। মুক্তিপণ আদায়ের পর মুক্ত  ব্রাহ্মণবাড়িয়া পাসপোর্ট অফিসে জেলা পরিষদ প্রশাসকের আকস্মিক পরিদর্শন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নানা অনিয়মের দায়ে অচি মেমোরিয়াল ও পদ্মা মা ও শিশু হাসপাতালকে ৪ লাখ টাকা জরিমানা হাইকোর্টের নির্দেশে বন্ধ হলো বহুতল ভবনের নির্মাণকাজ ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৬৫টি কচ্ছপ উদ্ধার, সালদানদীতে অবমুক্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কাজীপাড়ায় মাদকবিরোধী সমাবেশ সফল করতে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত নদী-খাল-বিলে মাছ রক্ষায় অবৈধ রিংজাল বন্ধে সচেতনতার আহ্বান জেলা পরিষদ প্রশাসক সিরাজুল ইসলামের এফ এ টাওয়ারের অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীকে জেলা পরিষদের আর্থিক অনুদান প্রদান ঢেউ’র আহবায়ক সোহেল সদস্য সচিব আইফাত  তিতাস তীরের কৃষিজমি ও জলাশয় দখলমুক্তে উচ্ছেদ অভিযান
আখাউড়ায় পরিচ্ছন্নতা কর্মী মর্জিনা হত্যা:

পিবিআইয়ের তদন্তে বেরিয়ে এলো নৃশংস পরিকল্পনার সত্যতা জড়িত ৩ জন গ্রেফতার

আজকের ব্রাহ্মণবাড়িয়া রিপোর্ট:
  • আপডেট সময় : ০২:০১:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৫
  • / ২৮৪ বার পড়া হয়েছে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কর্মী ও পিঠা বিক্রেতা মর্জিনা বেগম (৪৫) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত সংস্থা—পিবিআই। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পিবিআই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ইউনিট।

আখাউড়া থানার মামলা নং–২৩, তারিখ ২৬ নভেম্বর–এর এজাহারে নিহতের মেয়ে রহিমা আক্তার জানান, ২৫ নভেম্বর ভোররাত ৩টার দিকে অজ্ঞাত একটি নম্বর থেকে ফোন আসে। ফোনের পরপরই মর্জিনা ঘর থেকে বের হয়ে যান। পরদিন বিকেল ৫টার দিকে আখাউড়া পৌরসভার পুরোনো টিনশেড ভবনের পাশ থেকে গলায় আঘাতের দাগ ও শরীরে চিহ্নসহ তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রথম দেখাতেই ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড বলে নিশ্চিত হন পরিবার।

মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনায় পিবিআই প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মোস্তফা কামালের নির্দেশনায় এবং পিবিআই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শচীন চাকমার তত্ত্বাবধানে তদন্ত শুরু করেন এসআই (নিঃ) মো. আল-আমিন। সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল বিশ্লেষণ ও প্রযুক্তিনির্ভর তদন্তে বেরিয়ে আসে ঘটনার প্রকৃত চিত্র।

পিবিআই জানায়, আখাউড়া কাঁচাবাজারের দারোয়ান শহিদুল ইসলাম (৪৩) নিজের নম্বর ০১৯৪৯-২৬১১৫০ থেকে ‘মালের গাড়ি এসেছে’ বলে মর্জিনাকে রাত ৩টার দিকে ডেকে নিয়ে যায়। সিসিটিভিতে রাত ৩টা ১৮ মিনিটে মর্জিনাকে শহিদুলের সঙ্গে বাজার পার হয়ে ঘটনাস্থলের দিকে যেতে দেখা যায়।

তদন্তে উঠে আসে—ঘটনাস্থলে শহিদুল প্রথমে মর্জিনাকে ধর্ষণ করে। এরপর তার দুই সহযোগী হোসেন শফিক (৪০) ও মো. রুমান মিয়া মর্জিনাকে ধর্ষণের চেষ্টা করলে তিনি বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনজন মিলে তাঁর হাত-পা বেঁধে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে লাশ ফেলে রেখে পালিয়ে যায় তারা।

২৬ নভেম্বর দুপুরে বিশেষ অভিযান চালিয়ে কাঁচাবাজার এলাকা থেকেই শহিদুল ইসলামকে গ্রেফতার করে পিবিআই। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও দুই সহযোগীকেও গ্রেফতার করা হয়।

পিবিআই জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কৌশল, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি গতিবিধি, মোবাইল ডেটা ও প্রযুক্তিগত সব তথ্য মিলিয়ে ঘটনার সত্যতা পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া গেছে। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে, শিগগিরই আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আখাউড়ায় পরিচ্ছন্নতা কর্মী মর্জিনা হত্যা:

পিবিআইয়ের তদন্তে বেরিয়ে এলো নৃশংস পরিকল্পনার সত্যতা জড়িত ৩ জন গ্রেফতার

আপডেট সময় : ০২:০১:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৫

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কর্মী ও পিঠা বিক্রেতা মর্জিনা বেগম (৪৫) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত সংস্থা—পিবিআই। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পিবিআই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ইউনিট।

আখাউড়া থানার মামলা নং–২৩, তারিখ ২৬ নভেম্বর–এর এজাহারে নিহতের মেয়ে রহিমা আক্তার জানান, ২৫ নভেম্বর ভোররাত ৩টার দিকে অজ্ঞাত একটি নম্বর থেকে ফোন আসে। ফোনের পরপরই মর্জিনা ঘর থেকে বের হয়ে যান। পরদিন বিকেল ৫টার দিকে আখাউড়া পৌরসভার পুরোনো টিনশেড ভবনের পাশ থেকে গলায় আঘাতের দাগ ও শরীরে চিহ্নসহ তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রথম দেখাতেই ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড বলে নিশ্চিত হন পরিবার।

মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনায় পিবিআই প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মোস্তফা কামালের নির্দেশনায় এবং পিবিআই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শচীন চাকমার তত্ত্বাবধানে তদন্ত শুরু করেন এসআই (নিঃ) মো. আল-আমিন। সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল বিশ্লেষণ ও প্রযুক্তিনির্ভর তদন্তে বেরিয়ে আসে ঘটনার প্রকৃত চিত্র।

পিবিআই জানায়, আখাউড়া কাঁচাবাজারের দারোয়ান শহিদুল ইসলাম (৪৩) নিজের নম্বর ০১৯৪৯-২৬১১৫০ থেকে ‘মালের গাড়ি এসেছে’ বলে মর্জিনাকে রাত ৩টার দিকে ডেকে নিয়ে যায়। সিসিটিভিতে রাত ৩টা ১৮ মিনিটে মর্জিনাকে শহিদুলের সঙ্গে বাজার পার হয়ে ঘটনাস্থলের দিকে যেতে দেখা যায়।

তদন্তে উঠে আসে—ঘটনাস্থলে শহিদুল প্রথমে মর্জিনাকে ধর্ষণ করে। এরপর তার দুই সহযোগী হোসেন শফিক (৪০) ও মো. রুমান মিয়া মর্জিনাকে ধর্ষণের চেষ্টা করলে তিনি বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনজন মিলে তাঁর হাত-পা বেঁধে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে লাশ ফেলে রেখে পালিয়ে যায় তারা।

২৬ নভেম্বর দুপুরে বিশেষ অভিযান চালিয়ে কাঁচাবাজার এলাকা থেকেই শহিদুল ইসলামকে গ্রেফতার করে পিবিআই। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও দুই সহযোগীকেও গ্রেফতার করা হয়।

পিবিআই জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কৌশল, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি গতিবিধি, মোবাইল ডেটা ও প্রযুক্তিগত সব তথ্য মিলিয়ে ঘটনার সত্যতা পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া গেছে। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে, শিগগিরই আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।