ঢাকা ০৮:১৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সাত মাসের অপেক্ষার অবসান, ফিরলেন না মানুষটি, ফিরল শুধু নিথর দেহ জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ ইউএনও নির্বাচিত হলেন আশুগঞ্জের রাফে মোহাম্মদ ছড়া  আখাউড়ায় সাংবাদিকদের সাথে মেয়র প্রার্থী মিশনের মতবিনিময় জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকীতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিএনপির দোয়া মাহফিল ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ ঈদের দিনেও মানবতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো বাতিঘর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ফের নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে আলোচনা জেলা পরিষদর প্রশাসক  আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম সিরাজ এর ঈদ শুভেচ্ছা শাহ্ মোঃ ইব্রাহিম মিয়ার পক্ষ থেকে ঈদ মোবারক লন্ডনে কবীর আহমেদ ভূঁইয়ার জন্মদিন পালন, দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে নেতাকর্মীদের মিলনমেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সেপটিক ট্যাংকে নেমে চার শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু

বাঞ্ছারামপুরের “ত্যানা শাহ” উপাখ্যান 

প্রতিনিধির নামঃ
  • আপডেট সময় : ০৬:৩৯:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৫
  • / ৩২৩ বার পড়া হয়েছে
সালমা আহমেদ, বাঞ্ছারামপুর ( ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি : নাম তার মঙ্গল মিয়া। করতেন কৃষি কাজ।তার নিজের ৪ শতক জায়গায় ছিলো একটি আম গাছ।যা এখনো আছে। সেই আম গাছের আম ছিলো অতি সুমিষ্ঠ।আম বড় ও মিষ্টি বিধায় এলাকার কিছু মানুষসহ প্রাইমারি স্কুলের দুষ্ট শিক্ষার্থীরা সড়কের ধারের এই আম গাছের আমের প্রতি দারুন আকর্ষণ থেকে ঢিল ছুড়তো।কেউ কেউ চুরি করে খেয়ে ফেলতো।
তাই দেখে বৃদ্ধ মঙ্গল মিয়া শিশুদের ভয় দেখাতে আম গাছের ঢালায় কিছু লাল কাপড়ের টুকরো বেঁধে দেন ভয় দেখানোর জন্য। লাল কাপড়ে যদি তারা ভয় পায়।লাল কাপড়কে স্থানীয় ভাষায় বলা হয় ‘ত্যানা’।মঙ্গল মিয়ার বুদ্ধি কাজে দিলো।লাল ত্যানায় বা কাপড়ের টুকরো দেখে ভয়ে সে আম গাছে কেউ আর ঢিল ছুঁড়ে না,চুরিও হয় না।তার এই কেরামতি চারপাশে ছড়িয়ে যায়। ২০২২ সালে তিনি মারা যান।তথ্য গুলো জানান তারই ভাতিজা মির্জা মাহবুব।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ছলিমাবাদ সদর ইউনিয়নে আজ (সোমবার) সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গো-বেচারা টাইপের মঙ্গল মিয়া ২ বছর আগে মারা যাবার পর শুরু হয় কিছু মাজার ব্যবসায়ীর কর্মকাণ্ড। যা সৈয়দ ওয়ালিওল্লাহ’র বিখ্যাত  লাল সালুর উপন্যাসের কথাই মনে করিয়ে দেয়।
ঐ আাম গাছটির কাছে তাকে কবরস্থ করার পর সারা গাছে লাল-নীল সহ বিভিন্ন ত্যানা টানিয়ে দেয়া হয়।গত বছর তার কতিপয় অতি উৎসাহী কিছু ভক্ত ও প্রবাসী ২ ছেলের সহায়তায় কবরটিকে পাকা করে মাজারে রুপ দেয়ার পর মঙ্গল মিয়া হয়ে যান ‘ত্যানা শাহ’।তার প্রথম ওরশ ঘটা করে পালন করেছে ভক্তরা।অথচ,এলাকার বহুলোক সহ তার নিকট আত্মীয় সুমন মেম্বার জানান,তিনি মাজার পুজারী ছিলেন না।তিনি কোনো আধ্যাত্বিক শক্তি বহন করতেন না।তার কোনো মুরিদ আশেকান ছিল না।
আম গাছের আম রক্ষার জন্য লাল কাপড় দিয়েছেন মাত্র। কিন্তু এটি নিয়ে এখন মাতামাতি চলছে।
প্রবাসী ছেলেদের সাথে চেষ্টার পরেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।
তার ভাতিজা মাহবুব জানান,আমার চাচা মঙ্গল মিয়া সাদাসিধে জীবন যাপন করতেন।তাকে একটা মহল তার মাজার বানিয়ে, সে মাজারে লাল ত্যানা লাগিয়ে বানিয়ে দিলো ত্যানা শাহ্।এটি ঠিক নয়।ওরশ বন্ধ করার জন্য তিনি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

বাঞ্ছারামপুরের “ত্যানা শাহ” উপাখ্যান 

আপডেট সময় : ০৬:৩৯:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৫
সালমা আহমেদ, বাঞ্ছারামপুর ( ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি : নাম তার মঙ্গল মিয়া। করতেন কৃষি কাজ।তার নিজের ৪ শতক জায়গায় ছিলো একটি আম গাছ।যা এখনো আছে। সেই আম গাছের আম ছিলো অতি সুমিষ্ঠ।আম বড় ও মিষ্টি বিধায় এলাকার কিছু মানুষসহ প্রাইমারি স্কুলের দুষ্ট শিক্ষার্থীরা সড়কের ধারের এই আম গাছের আমের প্রতি দারুন আকর্ষণ থেকে ঢিল ছুড়তো।কেউ কেউ চুরি করে খেয়ে ফেলতো।
তাই দেখে বৃদ্ধ মঙ্গল মিয়া শিশুদের ভয় দেখাতে আম গাছের ঢালায় কিছু লাল কাপড়ের টুকরো বেঁধে দেন ভয় দেখানোর জন্য। লাল কাপড়ে যদি তারা ভয় পায়।লাল কাপড়কে স্থানীয় ভাষায় বলা হয় ‘ত্যানা’।মঙ্গল মিয়ার বুদ্ধি কাজে দিলো।লাল ত্যানায় বা কাপড়ের টুকরো দেখে ভয়ে সে আম গাছে কেউ আর ঢিল ছুঁড়ে না,চুরিও হয় না।তার এই কেরামতি চারপাশে ছড়িয়ে যায়। ২০২২ সালে তিনি মারা যান।তথ্য গুলো জানান তারই ভাতিজা মির্জা মাহবুব।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ছলিমাবাদ সদর ইউনিয়নে আজ (সোমবার) সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গো-বেচারা টাইপের মঙ্গল মিয়া ২ বছর আগে মারা যাবার পর শুরু হয় কিছু মাজার ব্যবসায়ীর কর্মকাণ্ড। যা সৈয়দ ওয়ালিওল্লাহ’র বিখ্যাত  লাল সালুর উপন্যাসের কথাই মনে করিয়ে দেয়।
ঐ আাম গাছটির কাছে তাকে কবরস্থ করার পর সারা গাছে লাল-নীল সহ বিভিন্ন ত্যানা টানিয়ে দেয়া হয়।গত বছর তার কতিপয় অতি উৎসাহী কিছু ভক্ত ও প্রবাসী ২ ছেলের সহায়তায় কবরটিকে পাকা করে মাজারে রুপ দেয়ার পর মঙ্গল মিয়া হয়ে যান ‘ত্যানা শাহ’।তার প্রথম ওরশ ঘটা করে পালন করেছে ভক্তরা।অথচ,এলাকার বহুলোক সহ তার নিকট আত্মীয় সুমন মেম্বার জানান,তিনি মাজার পুজারী ছিলেন না।তিনি কোনো আধ্যাত্বিক শক্তি বহন করতেন না।তার কোনো মুরিদ আশেকান ছিল না।
আম গাছের আম রক্ষার জন্য লাল কাপড় দিয়েছেন মাত্র। কিন্তু এটি নিয়ে এখন মাতামাতি চলছে।
প্রবাসী ছেলেদের সাথে চেষ্টার পরেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।
তার ভাতিজা মাহবুব জানান,আমার চাচা মঙ্গল মিয়া সাদাসিধে জীবন যাপন করতেন।তাকে একটা মহল তার মাজার বানিয়ে, সে মাজারে লাল ত্যানা লাগিয়ে বানিয়ে দিলো ত্যানা শাহ্।এটি ঠিক নয়।ওরশ বন্ধ করার জন্য তিনি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।