ঢাকা ০৯:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জেলা বিএনপির ১৪ ইউনিটের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভা বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদ প্রশাসক সিরাজুল ইসলামের সৌজন্য সাক্ষাৎ তিতাসের বুকে দুই বছর পর নৌকা বাইচ, অর্ধলক্ষাধিক দর্শকের উচ্ছ্বাস বিজয়নগর মডেল প্রেসক্লাবের কমিটি গঠন সভাপতি মাইনুদ্দিন রুবেল,সাধারণ সম্পাদক এস এম টিপু চৌধুরী পলিথিন বর্জনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জেলা পরিষদ প্রশাসকের সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেড ক্রিসেন্ট নির্বাচনে শাহীন ভাইস চেয়ারম্যান, মিজানুর রহমান সেক্রেটারি বণিকপাড়ার সড়কে জলাবদ্ধতা, দুর্গন্ধযুক্ত পানিতে চরম দুর্ভোগে এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা জেলা পরিষদ প্রশাসককে নোঙর বাংলাদেশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার ফুলেল শুভেচ্ছা আনন্দ মিছিল মৎস্য অবমুক্তকরণ ও বৃক্ষরোপণে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী নদী-প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষায় নোঙর বাংলাদেশের কার্যক্রমকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল এমপির

৩৬ বছর পর ফেসবুকের মাধ্যমে হারানো মা-কে ফিরে পেলেন সাংবাদিক আশিক 

ফয়সল আহমেদ খান, বিশেষ প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ১২:৩০:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • / ৪১৫ বার পড়া হয়েছে
হারিয়ে যাওয়া প্রিয়জনের অপেক্ষার যন্ত্রণা যে কতটা কষ্টকর, তা জানেন কেবল সেই মানুষগুলো, যারা বছরের পর বছর প্রিয় মুখের দেখা পান না। এমনই এক গল্প আশিকুর রহমান জামালের। যিনি ৩৬ বছর আগে হারিয়ে যাওয়া তার মাকে খুঁজে পেয়েছেন ফেসবুকের মাধ্যম। 
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার আইয়ুবপুর গ্রামের মোঃ আক্কাস মিয়ার স্ত্রী ঝরনা বেগম নিখোঁজ হন ১৯৮৮ সালে। মাত্র তিন বছরের ছোট্ট ছেলে আশিকুর রহমান জামালকে রেখে অজানা এক ভবিষ্যতের দিকে চলে যান তিনি। আত্মীয়-স্বজনরা অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি।
পরবর্তী সময়ে জানা যায়, চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তাকে পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু কারা এই ঘটনার পেছনে ছিল, তা জানা যায়নি। সেই ছোট্ট ছেলেটি আজ ৪০ বছর বয়সী একজন সাংবাদিক, যিনি দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে তার মাকে খুঁজছেন। পাকিস্তান থেকে কেউ বাংলাদেশে এলে তিনি যোগাযোগ করতেন, আশা করতেন কোনো সূত্র পাওয়া যাবে। কিন্তু বছরের পর বছর কেটে গেছে, কোনো খোঁজ মেলেনি।
আলো আসলো ফেসবুক থেকে
অবশেষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের ‘দেশ ফেরা’ গ্রুপে পোস্ট দেখেন আশিকুর রহমান জামালের এক খালাতো বোন। পোস্টে এক নারীর আকুতি— তিনি বাংলাদেশে ফিরতে চান, তার সন্তান ও পরিবারের কাছে যেতে চান। ভিডিওটি আশিককে দেখানো হলে তিনি নিশ্চিত হন, এটাই তার মা। এরপর যোগাযোগ শুরু হয় এবং একপর্যায়ে মোবাইল ফোনে (গতকাল ২১ ফেব্রুয়ারি) মায়ের  সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এশিয়ান টিভির( ব্রাহ্মণবাড়িয়া দক্ষিণ)  স্থানীয় প্রতিনিধি  আশিক ও তার পরিবার।
৩৬ বছরের অপেক্ষার পর পুনর্মিলন
৩৬ বছর পর মাকে খুঁজে পেয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি আশিক। তার ভাষায়—
“মাকে খুঁজে পেয়ে মনে হচ্ছে আমি নতুন একটা পৃথিবী ফিরে পেয়েছি। জন্মের পর থেকেই আমি এতিমের মতো বড় হয়েছি। আজ সেই শূন্যতা পূরণ হলো।”
তবে দীর্ঘদিন বিদেশে থাকার ফলে ঝরনা বেগম বাংলা ভুলে গেছেন, তিনি এখন হিন্দি ও উর্দুতে কথা বলেন। অন্যদিকে আশিক বাংলা ও ইংরেজিতে স্বচ্ছন্দ, তবে হিন্দি-উর্দু তেমন বোঝেন না। ফলে ভাষার ব্যবধান সাময়িকভাবে বাধা সৃষ্টি করলেও আবেগের বাঁধ ভাঙতে পারেনি। আশিকের ছেলে হিমেল ও অন্যরা অনুবাদের মাধ্যমে মা-ছেলের কথোপকথন সহজ করে তুলেছেন।
দেশে ফিরতে চান ঝরনা বেগম
ঝরনা বেগম বা বর্তমানে জরিনা বেগম নামেই পরিচিত এই নারী এখন বাংলাদেশে ফিরতে চান। তার স্বজনরা এ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছেন।
আশিক বলেন, আমার হারানো মা’কে স্বশরীরে দেখার জন্য ব্যকুল হয়ে আছি।কখন মা’কে বুকে জড়িয়ে ধরতে পারবো।

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

৩৬ বছর পর ফেসবুকের মাধ্যমে হারানো মা-কে ফিরে পেলেন সাংবাদিক আশিক 

আপডেট সময় : ১২:৩০:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
হারিয়ে যাওয়া প্রিয়জনের অপেক্ষার যন্ত্রণা যে কতটা কষ্টকর, তা জানেন কেবল সেই মানুষগুলো, যারা বছরের পর বছর প্রিয় মুখের দেখা পান না। এমনই এক গল্প আশিকুর রহমান জামালের। যিনি ৩৬ বছর আগে হারিয়ে যাওয়া তার মাকে খুঁজে পেয়েছেন ফেসবুকের মাধ্যম। 
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার আইয়ুবপুর গ্রামের মোঃ আক্কাস মিয়ার স্ত্রী ঝরনা বেগম নিখোঁজ হন ১৯৮৮ সালে। মাত্র তিন বছরের ছোট্ট ছেলে আশিকুর রহমান জামালকে রেখে অজানা এক ভবিষ্যতের দিকে চলে যান তিনি। আত্মীয়-স্বজনরা অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি।
পরবর্তী সময়ে জানা যায়, চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তাকে পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু কারা এই ঘটনার পেছনে ছিল, তা জানা যায়নি। সেই ছোট্ট ছেলেটি আজ ৪০ বছর বয়সী একজন সাংবাদিক, যিনি দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে তার মাকে খুঁজছেন। পাকিস্তান থেকে কেউ বাংলাদেশে এলে তিনি যোগাযোগ করতেন, আশা করতেন কোনো সূত্র পাওয়া যাবে। কিন্তু বছরের পর বছর কেটে গেছে, কোনো খোঁজ মেলেনি।
আলো আসলো ফেসবুক থেকে
অবশেষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের ‘দেশ ফেরা’ গ্রুপে পোস্ট দেখেন আশিকুর রহমান জামালের এক খালাতো বোন। পোস্টে এক নারীর আকুতি— তিনি বাংলাদেশে ফিরতে চান, তার সন্তান ও পরিবারের কাছে যেতে চান। ভিডিওটি আশিককে দেখানো হলে তিনি নিশ্চিত হন, এটাই তার মা। এরপর যোগাযোগ শুরু হয় এবং একপর্যায়ে মোবাইল ফোনে (গতকাল ২১ ফেব্রুয়ারি) মায়ের  সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এশিয়ান টিভির( ব্রাহ্মণবাড়িয়া দক্ষিণ)  স্থানীয় প্রতিনিধি  আশিক ও তার পরিবার।
৩৬ বছরের অপেক্ষার পর পুনর্মিলন
৩৬ বছর পর মাকে খুঁজে পেয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি আশিক। তার ভাষায়—
“মাকে খুঁজে পেয়ে মনে হচ্ছে আমি নতুন একটা পৃথিবী ফিরে পেয়েছি। জন্মের পর থেকেই আমি এতিমের মতো বড় হয়েছি। আজ সেই শূন্যতা পূরণ হলো।”
তবে দীর্ঘদিন বিদেশে থাকার ফলে ঝরনা বেগম বাংলা ভুলে গেছেন, তিনি এখন হিন্দি ও উর্দুতে কথা বলেন। অন্যদিকে আশিক বাংলা ও ইংরেজিতে স্বচ্ছন্দ, তবে হিন্দি-উর্দু তেমন বোঝেন না। ফলে ভাষার ব্যবধান সাময়িকভাবে বাধা সৃষ্টি করলেও আবেগের বাঁধ ভাঙতে পারেনি। আশিকের ছেলে হিমেল ও অন্যরা অনুবাদের মাধ্যমে মা-ছেলের কথোপকথন সহজ করে তুলেছেন।
দেশে ফিরতে চান ঝরনা বেগম
ঝরনা বেগম বা বর্তমানে জরিনা বেগম নামেই পরিচিত এই নারী এখন বাংলাদেশে ফিরতে চান। তার স্বজনরা এ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছেন।
আশিক বলেন, আমার হারানো মা’কে স্বশরীরে দেখার জন্য ব্যকুল হয়ে আছি।কখন মা’কে বুকে জড়িয়ে ধরতে পারবো।