ঢাকা ১১:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সাত মাসের অপেক্ষার অবসান, ফিরলেন না মানুষটি, ফিরল শুধু নিথর দেহ জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ ইউএনও নির্বাচিত হলেন আশুগঞ্জের রাফে মোহাম্মদ ছড়া  আখাউড়ায় সাংবাদিকদের সাথে মেয়র প্রার্থী মিশনের মতবিনিময় জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকীতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিএনপির দোয়া মাহফিল ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ ঈদের দিনেও মানবতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো বাতিঘর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ফের নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে আলোচনা জেলা পরিষদর প্রশাসক  আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম সিরাজ এর ঈদ শুভেচ্ছা শাহ্ মোঃ ইব্রাহিম মিয়ার পক্ষ থেকে ঈদ মোবারক লন্ডনে কবীর আহমেদ ভূঁইয়ার জন্মদিন পালন, দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে নেতাকর্মীদের মিলনমেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সেপটিক ট্যাংকে নেমে চার শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু

৩৬ বছর পর ফেসবুকের মাধ্যমে হারানো মা-কে ফিরে পেলেন সাংবাদিক আশিক 

ফয়সল আহমেদ খান, বিশেষ প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ১২:৩০:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • / ৩৭৭ বার পড়া হয়েছে
হারিয়ে যাওয়া প্রিয়জনের অপেক্ষার যন্ত্রণা যে কতটা কষ্টকর, তা জানেন কেবল সেই মানুষগুলো, যারা বছরের পর বছর প্রিয় মুখের দেখা পান না। এমনই এক গল্প আশিকুর রহমান জামালের। যিনি ৩৬ বছর আগে হারিয়ে যাওয়া তার মাকে খুঁজে পেয়েছেন ফেসবুকের মাধ্যম। 
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার আইয়ুবপুর গ্রামের মোঃ আক্কাস মিয়ার স্ত্রী ঝরনা বেগম নিখোঁজ হন ১৯৮৮ সালে। মাত্র তিন বছরের ছোট্ট ছেলে আশিকুর রহমান জামালকে রেখে অজানা এক ভবিষ্যতের দিকে চলে যান তিনি। আত্মীয়-স্বজনরা অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি।
পরবর্তী সময়ে জানা যায়, চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তাকে পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু কারা এই ঘটনার পেছনে ছিল, তা জানা যায়নি। সেই ছোট্ট ছেলেটি আজ ৪০ বছর বয়সী একজন সাংবাদিক, যিনি দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে তার মাকে খুঁজছেন। পাকিস্তান থেকে কেউ বাংলাদেশে এলে তিনি যোগাযোগ করতেন, আশা করতেন কোনো সূত্র পাওয়া যাবে। কিন্তু বছরের পর বছর কেটে গেছে, কোনো খোঁজ মেলেনি।
আলো আসলো ফেসবুক থেকে
অবশেষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের ‘দেশ ফেরা’ গ্রুপে পোস্ট দেখেন আশিকুর রহমান জামালের এক খালাতো বোন। পোস্টে এক নারীর আকুতি— তিনি বাংলাদেশে ফিরতে চান, তার সন্তান ও পরিবারের কাছে যেতে চান। ভিডিওটি আশিককে দেখানো হলে তিনি নিশ্চিত হন, এটাই তার মা। এরপর যোগাযোগ শুরু হয় এবং একপর্যায়ে মোবাইল ফোনে (গতকাল ২১ ফেব্রুয়ারি) মায়ের  সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এশিয়ান টিভির( ব্রাহ্মণবাড়িয়া দক্ষিণ)  স্থানীয় প্রতিনিধি  আশিক ও তার পরিবার।
৩৬ বছরের অপেক্ষার পর পুনর্মিলন
৩৬ বছর পর মাকে খুঁজে পেয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি আশিক। তার ভাষায়—
“মাকে খুঁজে পেয়ে মনে হচ্ছে আমি নতুন একটা পৃথিবী ফিরে পেয়েছি। জন্মের পর থেকেই আমি এতিমের মতো বড় হয়েছি। আজ সেই শূন্যতা পূরণ হলো।”
তবে দীর্ঘদিন বিদেশে থাকার ফলে ঝরনা বেগম বাংলা ভুলে গেছেন, তিনি এখন হিন্দি ও উর্দুতে কথা বলেন। অন্যদিকে আশিক বাংলা ও ইংরেজিতে স্বচ্ছন্দ, তবে হিন্দি-উর্দু তেমন বোঝেন না। ফলে ভাষার ব্যবধান সাময়িকভাবে বাধা সৃষ্টি করলেও আবেগের বাঁধ ভাঙতে পারেনি। আশিকের ছেলে হিমেল ও অন্যরা অনুবাদের মাধ্যমে মা-ছেলের কথোপকথন সহজ করে তুলেছেন।
দেশে ফিরতে চান ঝরনা বেগম
ঝরনা বেগম বা বর্তমানে জরিনা বেগম নামেই পরিচিত এই নারী এখন বাংলাদেশে ফিরতে চান। তার স্বজনরা এ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছেন।
আশিক বলেন, আমার হারানো মা’কে স্বশরীরে দেখার জন্য ব্যকুল হয়ে আছি।কখন মা’কে বুকে জড়িয়ে ধরতে পারবো।

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

৩৬ বছর পর ফেসবুকের মাধ্যমে হারানো মা-কে ফিরে পেলেন সাংবাদিক আশিক 

আপডেট সময় : ১২:৩০:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
হারিয়ে যাওয়া প্রিয়জনের অপেক্ষার যন্ত্রণা যে কতটা কষ্টকর, তা জানেন কেবল সেই মানুষগুলো, যারা বছরের পর বছর প্রিয় মুখের দেখা পান না। এমনই এক গল্প আশিকুর রহমান জামালের। যিনি ৩৬ বছর আগে হারিয়ে যাওয়া তার মাকে খুঁজে পেয়েছেন ফেসবুকের মাধ্যম। 
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার আইয়ুবপুর গ্রামের মোঃ আক্কাস মিয়ার স্ত্রী ঝরনা বেগম নিখোঁজ হন ১৯৮৮ সালে। মাত্র তিন বছরের ছোট্ট ছেলে আশিকুর রহমান জামালকে রেখে অজানা এক ভবিষ্যতের দিকে চলে যান তিনি। আত্মীয়-স্বজনরা অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি।
পরবর্তী সময়ে জানা যায়, চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তাকে পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু কারা এই ঘটনার পেছনে ছিল, তা জানা যায়নি। সেই ছোট্ট ছেলেটি আজ ৪০ বছর বয়সী একজন সাংবাদিক, যিনি দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে তার মাকে খুঁজছেন। পাকিস্তান থেকে কেউ বাংলাদেশে এলে তিনি যোগাযোগ করতেন, আশা করতেন কোনো সূত্র পাওয়া যাবে। কিন্তু বছরের পর বছর কেটে গেছে, কোনো খোঁজ মেলেনি।
আলো আসলো ফেসবুক থেকে
অবশেষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের ‘দেশ ফেরা’ গ্রুপে পোস্ট দেখেন আশিকুর রহমান জামালের এক খালাতো বোন। পোস্টে এক নারীর আকুতি— তিনি বাংলাদেশে ফিরতে চান, তার সন্তান ও পরিবারের কাছে যেতে চান। ভিডিওটি আশিককে দেখানো হলে তিনি নিশ্চিত হন, এটাই তার মা। এরপর যোগাযোগ শুরু হয় এবং একপর্যায়ে মোবাইল ফোনে (গতকাল ২১ ফেব্রুয়ারি) মায়ের  সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এশিয়ান টিভির( ব্রাহ্মণবাড়িয়া দক্ষিণ)  স্থানীয় প্রতিনিধি  আশিক ও তার পরিবার।
৩৬ বছরের অপেক্ষার পর পুনর্মিলন
৩৬ বছর পর মাকে খুঁজে পেয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি আশিক। তার ভাষায়—
“মাকে খুঁজে পেয়ে মনে হচ্ছে আমি নতুন একটা পৃথিবী ফিরে পেয়েছি। জন্মের পর থেকেই আমি এতিমের মতো বড় হয়েছি। আজ সেই শূন্যতা পূরণ হলো।”
তবে দীর্ঘদিন বিদেশে থাকার ফলে ঝরনা বেগম বাংলা ভুলে গেছেন, তিনি এখন হিন্দি ও উর্দুতে কথা বলেন। অন্যদিকে আশিক বাংলা ও ইংরেজিতে স্বচ্ছন্দ, তবে হিন্দি-উর্দু তেমন বোঝেন না। ফলে ভাষার ব্যবধান সাময়িকভাবে বাধা সৃষ্টি করলেও আবেগের বাঁধ ভাঙতে পারেনি। আশিকের ছেলে হিমেল ও অন্যরা অনুবাদের মাধ্যমে মা-ছেলের কথোপকথন সহজ করে তুলেছেন।
দেশে ফিরতে চান ঝরনা বেগম
ঝরনা বেগম বা বর্তমানে জরিনা বেগম নামেই পরিচিত এই নারী এখন বাংলাদেশে ফিরতে চান। তার স্বজনরা এ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছেন।
আশিক বলেন, আমার হারানো মা’কে স্বশরীরে দেখার জন্য ব্যকুল হয়ে আছি।কখন মা’কে বুকে জড়িয়ে ধরতে পারবো।