ঢাকা ০৮:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
অসহায় পাপনের জীবনে আশার আলো হয়ে পাশে দাঁড়ালেন জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জেলা বিএনপির ১৪ ইউনিটের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভা বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদ প্রশাসক সিরাজুল ইসলামের সৌজন্য সাক্ষাৎ তিতাসের বুকে দুই বছর পর নৌকা বাইচ, অর্ধলক্ষাধিক দর্শকের উচ্ছ্বাস বিজয়নগর মডেল প্রেসক্লাবের কমিটি গঠন সভাপতি মাইনুদ্দিন রুবেল,সাধারণ সম্পাদক এস এম টিপু চৌধুরী পলিথিন বর্জনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জেলা পরিষদ প্রশাসকের সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেড ক্রিসেন্ট নির্বাচনে শাহীন ভাইস চেয়ারম্যান, মিজানুর রহমান সেক্রেটারি বণিকপাড়ার সড়কে জলাবদ্ধতা, দুর্গন্ধযুক্ত পানিতে চরম দুর্ভোগে এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা জেলা পরিষদ প্রশাসককে নোঙর বাংলাদেশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার ফুলেল শুভেচ্ছা আনন্দ মিছিল মৎস্য অবমুক্তকরণ ও বৃক্ষরোপণে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী
বাঞ্ছারামপুরে এলজিইডি ও পল্লী বিদ্যুৎ এর মধ্যে সমাধান নিয়ে চলছে রশি টানাটানি

বাঞ্ছারামপুরে সড়কের টুঁটি চেপে ধরেছে বিদ্যুৎ এর খুঁটি

ফয়সল আহমেদ খান:
  • আপডেট সময় : ০৫:৩১:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • / ৩৮৭ বার পড়া হয়েছে
ফয়সল আহমেদ খান:
অটোরিকশা চালক মাসুদ মিয়া তার যাত্রীবোঝাই গাড়ি নিয়ে যাচ্ছিলেন সদর ইউনিয়নের আলীপুর-মনাইখালী সড়ক থেকে সদর পৌরসভার বাজারে।রাতের বেলায় সড়কের মাঝঝানে বৈদ্যুতিক খুটি আছে তিনি তা লক্ষ্য করেননি।যা হবার তা-ই হলো।গাড়ি মোটরসাইকেল কে সাইট দিতে যেয়ে সেই খুঁটিতে আছড়ে পড়লো।যাত্রীদের তেমন ক্ষতি না হলেও গাড়িটির সম্মুখভাগ ভেঙ্গে যায়।
এই হলো বাঞ্ছারামপুর পৌরসভার শেষপ্রান্ত ও সদর ইউনিয়নের শুরুর রাস্তার অবস্থা।
সড়কের কিনারার এক থেকে পাঁচ ফুট ভেতরে খুঁটি। যানবাহন চলাচলের পথ আঁকড়ে আছে এসব খুঁটি, যেন সড়কের ‘দম’ আটকে রাখা হয়েছে। এতে বিঘ্ন ঘটছে যান চলাচলে। নিয়মিত ঘটছে দুর্ঘটনা।
এ নিয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মধ্যে চলছে রশি টানাটানি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ১৩ টি ইউনিয়ন এলাকায় এ ধরনের অন্তত ১৫ থেকে ২০টি খু্ঁটি রয়েছে।
সোনারামপুর,বালুচর,দরিয়াদৌলত,চরশিবপুর, ফরদাবাদ,রাধানগর, সড়কে এমন খুঁটি বেশি চোখে পড়ে। শুধু সোনারামপুরেই সড়কের মাঝখানে  রয়েছে ৩টি পল্লী বিদ্যুৎ এর বসানো ৩টি খুঁটি।
 একটি খুঁটি সড়কের কিনারা থেকে অন্তত পাঁচ ফুট ভেতরে রয়েছে।
স্থানীয় লোকজন জানায়, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি এসব খুঁটি দিয়ে বিদ্যুতের লাইন টেনেছে। এসব খুঁটি বসানোর সময় সড়ক ঘেঁষে বসানো হয়। কিন্তু কিছু সড়ক প্রশস্ত করার পর খু্ঁটিগুলো আগের জায়গায়ই থেকে যায়। এ কারণে সড়ক প্রশস্ত করা হলেও সেটি কাজে আসছে না, বরং খুঁটিগুলো সড়কের ভেতরে চলে আসায় যান চলাচল আরো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।বছরের পর বছর ধরে চলছে এ অবস্থা।
সদর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বলেন,যানজট নিরসনে এখানকার সড়ক প্রশস্ত করা হলেও পল্লী বিদ্যুতের খুঁটির কারণে পুরো সড়ক কাজে লাগছে না।আমি উপজেলার মাসিক সভায় বিষয়টি বার বার বলেছি,কিন্তু কে শুনে কার কথা!!”
বাঞ্ছারামপুর এলজিইডি’র উপজেলা  প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের এসব খুঁটির কারণে ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। আমরা তাদের বলার পরও এসব খুঁটি সরাচ্ছে না। কেউ ব্যক্তি উদ্যোগে এসব সরানোর কথা বললে পল্লী বিদ্যুৎ তাদের নির্ধারিত হারে যে টাকা দাবি করে, সেটি অবাস্তব চাওয়া।আমরা সড়কে কাজ করার সময় চিঠি দিয়ে পল্লী বিদ্যুৎ কে জানালেও,তারা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
যেহেতু তারা সড়কের মাঝে খুঁটি বসিয়েছে, সেহেতু তাদেরই দায়িত্ব এসব সরিয়ে নেওয়া।’
এ বিষয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো.রেজায়েত আলী  বলেন, ‘খুঁটি সরাতে নিয়ম মানতে হয়। নিয়ম হলো কেউ খুঁটি সরাতে আবেদন করলে এটির একটি এস্টিমেট দেওয়া হবে। সে অনুযায়ী বিল পরিশোধ হলে আমরা সেটি সরিয়ে নেব। এলজিইডি রাস্তা  করার সময় খুঁটি পড়লে আমাদের কাছে আবেদন করে। নিয়মানুসারে টাকা না দিলে খুটি সরানো সম্ভব নয়।’
উভয় পক্ষের রশি টানাটানি’র সমস্যা নিয়ে কথা হয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌস আরা সাথে।তিনি বলেন, আমি এলজিইডি ও পল্লী বিদ্যুৎ উভয় কর্তৃপক্ষ কে ডাকবো।লম্বা সময় ধরে এমন সমস্যা ধরে এমনটা চলতে পারে না,শীঘ্রই সমাধান  হবে”।।

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

বাঞ্ছারামপুরে এলজিইডি ও পল্লী বিদ্যুৎ এর মধ্যে সমাধান নিয়ে চলছে রশি টানাটানি

বাঞ্ছারামপুরে সড়কের টুঁটি চেপে ধরেছে বিদ্যুৎ এর খুঁটি

আপডেট সময় : ০৫:৩১:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
ফয়সল আহমেদ খান:
অটোরিকশা চালক মাসুদ মিয়া তার যাত্রীবোঝাই গাড়ি নিয়ে যাচ্ছিলেন সদর ইউনিয়নের আলীপুর-মনাইখালী সড়ক থেকে সদর পৌরসভার বাজারে।রাতের বেলায় সড়কের মাঝঝানে বৈদ্যুতিক খুটি আছে তিনি তা লক্ষ্য করেননি।যা হবার তা-ই হলো।গাড়ি মোটরসাইকেল কে সাইট দিতে যেয়ে সেই খুঁটিতে আছড়ে পড়লো।যাত্রীদের তেমন ক্ষতি না হলেও গাড়িটির সম্মুখভাগ ভেঙ্গে যায়।
এই হলো বাঞ্ছারামপুর পৌরসভার শেষপ্রান্ত ও সদর ইউনিয়নের শুরুর রাস্তার অবস্থা।
সড়কের কিনারার এক থেকে পাঁচ ফুট ভেতরে খুঁটি। যানবাহন চলাচলের পথ আঁকড়ে আছে এসব খুঁটি, যেন সড়কের ‘দম’ আটকে রাখা হয়েছে। এতে বিঘ্ন ঘটছে যান চলাচলে। নিয়মিত ঘটছে দুর্ঘটনা।
এ নিয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মধ্যে চলছে রশি টানাটানি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ১৩ টি ইউনিয়ন এলাকায় এ ধরনের অন্তত ১৫ থেকে ২০টি খু্ঁটি রয়েছে।
সোনারামপুর,বালুচর,দরিয়াদৌলত,চরশিবপুর, ফরদাবাদ,রাধানগর, সড়কে এমন খুঁটি বেশি চোখে পড়ে। শুধু সোনারামপুরেই সড়কের মাঝখানে  রয়েছে ৩টি পল্লী বিদ্যুৎ এর বসানো ৩টি খুঁটি।
 একটি খুঁটি সড়কের কিনারা থেকে অন্তত পাঁচ ফুট ভেতরে রয়েছে।
স্থানীয় লোকজন জানায়, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি এসব খুঁটি দিয়ে বিদ্যুতের লাইন টেনেছে। এসব খুঁটি বসানোর সময় সড়ক ঘেঁষে বসানো হয়। কিন্তু কিছু সড়ক প্রশস্ত করার পর খু্ঁটিগুলো আগের জায়গায়ই থেকে যায়। এ কারণে সড়ক প্রশস্ত করা হলেও সেটি কাজে আসছে না, বরং খুঁটিগুলো সড়কের ভেতরে চলে আসায় যান চলাচল আরো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।বছরের পর বছর ধরে চলছে এ অবস্থা।
সদর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বলেন,যানজট নিরসনে এখানকার সড়ক প্রশস্ত করা হলেও পল্লী বিদ্যুতের খুঁটির কারণে পুরো সড়ক কাজে লাগছে না।আমি উপজেলার মাসিক সভায় বিষয়টি বার বার বলেছি,কিন্তু কে শুনে কার কথা!!”
বাঞ্ছারামপুর এলজিইডি’র উপজেলা  প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের এসব খুঁটির কারণে ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। আমরা তাদের বলার পরও এসব খুঁটি সরাচ্ছে না। কেউ ব্যক্তি উদ্যোগে এসব সরানোর কথা বললে পল্লী বিদ্যুৎ তাদের নির্ধারিত হারে যে টাকা দাবি করে, সেটি অবাস্তব চাওয়া।আমরা সড়কে কাজ করার সময় চিঠি দিয়ে পল্লী বিদ্যুৎ কে জানালেও,তারা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
যেহেতু তারা সড়কের মাঝে খুঁটি বসিয়েছে, সেহেতু তাদেরই দায়িত্ব এসব সরিয়ে নেওয়া।’
এ বিষয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো.রেজায়েত আলী  বলেন, ‘খুঁটি সরাতে নিয়ম মানতে হয়। নিয়ম হলো কেউ খুঁটি সরাতে আবেদন করলে এটির একটি এস্টিমেট দেওয়া হবে। সে অনুযায়ী বিল পরিশোধ হলে আমরা সেটি সরিয়ে নেব। এলজিইডি রাস্তা  করার সময় খুঁটি পড়লে আমাদের কাছে আবেদন করে। নিয়মানুসারে টাকা না দিলে খুটি সরানো সম্ভব নয়।’
উভয় পক্ষের রশি টানাটানি’র সমস্যা নিয়ে কথা হয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌস আরা সাথে।তিনি বলেন, আমি এলজিইডি ও পল্লী বিদ্যুৎ উভয় কর্তৃপক্ষ কে ডাকবো।লম্বা সময় ধরে এমন সমস্যা ধরে এমনটা চলতে পারে না,শীঘ্রই সমাধান  হবে”।।