ঢাকা ০৮:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
অসহায় পাপনের জীবনে আশার আলো হয়ে পাশে দাঁড়ালেন জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জেলা বিএনপির ১৪ ইউনিটের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভা বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদ প্রশাসক সিরাজুল ইসলামের সৌজন্য সাক্ষাৎ তিতাসের বুকে দুই বছর পর নৌকা বাইচ, অর্ধলক্ষাধিক দর্শকের উচ্ছ্বাস বিজয়নগর মডেল প্রেসক্লাবের কমিটি গঠন সভাপতি মাইনুদ্দিন রুবেল,সাধারণ সম্পাদক এস এম টিপু চৌধুরী পলিথিন বর্জনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জেলা পরিষদ প্রশাসকের সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেড ক্রিসেন্ট নির্বাচনে শাহীন ভাইস চেয়ারম্যান, মিজানুর রহমান সেক্রেটারি বণিকপাড়ার সড়কে জলাবদ্ধতা, দুর্গন্ধযুক্ত পানিতে চরম দুর্ভোগে এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা জেলা পরিষদ প্রশাসককে নোঙর বাংলাদেশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার ফুলেল শুভেচ্ছা আনন্দ মিছিল মৎস্য অবমুক্তকরণ ও বৃক্ষরোপণে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

বাঞ্ছারামপুরে নতুন ভোটার তালিকা নিবন্ধনে ইউপি সচীবদের জন্মনিবন্ধন বানিজ্য!! 

সালমা আহমেদ, বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৪:৫৫:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • / ৪১১ বার পড়া হয়েছে
#বাঞ্ছারামপুরে নতুন ভোটার তালিকাকে টার্গেট করে জন্মনিবন্ধনে বেপয়োরা ইউপি সচীবরা।
#৫০ টাকার ফি স্থানভেদে ৫০০ টাকা!!
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে ৫০ টাকার জন্ম নিবন্ধন সনদে জনপ্রতি ২ থেকে ৫’শ  টাকা আদায় করছেন ইউনিয়ন পরিষদের সচিবরা।
উপজেলায় ১৩ টি ইউনিয়নের সচীব চলমান নতুন ভোটার তালিকা নিবন্ধনকে টার্গেট করে এমন বেপোয়ারা হয়ে উঠেছেন বলে ভুক্তভোগীরা মনে করছেন।
তারউপর,দীর্ঘদিন যাবত (গত আগষ্টের পর হতে) বিভিন্ন মামলা ও আওয়ামী লীগ ঘরানার চেয়ারম্যানরা প্রায় সবাই এলাকা ছাড়া।ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম চলছে অনেকটা জুড়াতালি দিয়ে।
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের
দায়িত্ব পালন করছেন প্যানেল চেয়ারম্যান দিয়ে। ইউনিয়ন পরিষদের সচীবরা ‘মেম্বার কাম প্যানেল চেয়ারম্যানদের” তেমন পাত্তা দিতে চান না বলে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন চেয়ারম্যান জানান।
এই সুযোগে ইউপি সচীবদের এখন পোয়াবারো অবস্থা। যে যেভাবে পারছেন,ধরাকে সারাজ্ঞান করে “উপরি” কামাই করছেন বলে অভিযোগ আসছে।
বিশেষ করে জন্মনিবন্ধন ও সংশোধনের ক্ষেত্রে অভিযোগের শেষ নেই।
কেউ প্রতিবাদ করলে তার আবেদনে ভুল করে আবার সংশোধনী দেখিয়ে তিনি কয়েক দফায় টাকা আদায় করেন। সচিবের এ বাণিজ্য নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, দেশে শিশুর জন্ম থেকে ৪৫ দিন পর্যন্ত সরকারি নিয়মানুয়ী জন্ম নিবন্ধনের কোনো ফি নেওয়া হয় না। তবে শিশুর ৫ বছর পর্যন্ত ২৫ টাকা ও ৫ বছরের উপরে সব বয়সিদের ৫০ টাকা ফি নেওয়ার নিয়ম করে দিয়েছে সরকার। তবে সরকারের এই নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে উপজেলার বেশকিছু সচীব ইউনিয়ন পরিষদের সরকারিভাবে নির্ধারিত টাকার জায়গায় নিজেই নতুন নিয়ম করেছেন। সেই নিয়মে প্রতি জন্ম সনদে ২০০ থেকে ৫০০ টাকা ও জন্ম নিবন্ধনে নাম ভুল হলে সংশোধন বাবদ আরো ২০০ টাকা পর্যন্ত ফি আদায় করছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ও ভুক্তভোগীরা।
জন্ম নিবন্ধন নিতে আসা কয়েকজন ভুক্তভোগীর সঙ্গে আলাপকালে তারা  বলেন, জন্ম নিবন্ধন আনতে গেলে নানা কাগজপত্রের ভুল ধরেন এবং তাদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা দাবি করেন।
আইয়ুবপুর, সোনারামপুর, পাহাড়িয়াকান্দি, তেজখালি,ছলিমাবাদ,দরিয়াদৌলত সহ ১৩ টি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় “জন্মনিবন্ধন বানিজ্য ” এর  অভিযোগের শেষ নেই।
পৌর এলাকার গোলাম কিবরিয়া  সুমন, পাহাড়িয়াকান্দির আসিফ,দরিকান্দির তারা মিয়া সহ বহু
ভুক্তভোগী জানান, দুটি জন্ম নিবন্ধনে সচিব ৩০০ টাকা দাবি করেন। টাকা দিয়ে সরকারি ফি কত জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। উল্টো বলেন, আমার থেকেও অনেক পরিষদে বেশি টাকা নেয়- আমি তো কমই নেই।
সুমন বলেন, আমার কাছ থেকে ২হাজার টাকা জন্মনিবন্ধন বাবদ নেয়া হয়েছে ১ বছর আগে।এখনো তা পাইনি।
আইয়ুব ইউনিয়নের সচীব দবির উদ্দিন আজ (শুক্রবার)  সকালে মুঠোফোনে বলেন, বেশী টাকা নেয়ার জন্য জেলা প্রশাসক বলেছেন।
দরিকান্দির সচীব মোজাম্মেল হক বলেন, আমি সাংবাদিকদের সাথে কথা বলিনা”।তেজখালীর সচীব নিয়ামুল কবীর বলেন, চা-নাস্তার জন্য কিছু বেশী নিতে হয়!”
বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলম বলেন, এমন অভিযোগ আসাতে আমি ইউএনও স্যারকে অভিহিত করেছি।ভোটার তালিকায় যুক্ত হতে জন্মনিবন্ধনের দরকার হয়।সেখানে টাকা নেয়ার সুযোগ নেই।আমরা সমন্বিত পদক্ষেপ নিব”।
বাঞ্ছারামপুর  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌস আরা আজ (শুক্রবার)  বলেন, সরকারি নির্ধারিত(৫০ টাকা) ফি’র বাইরে কোনো বাড়তি টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই। সচীবরা তো সরকারি বেতন পান,তাহলে বাড়তি টাকা কেনো নিবে?
বিষয়টি আমি দেখছি ও বাড়তি টাকা নেয়ার বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নিবো”।

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

বাঞ্ছারামপুরে নতুন ভোটার তালিকা নিবন্ধনে ইউপি সচীবদের জন্মনিবন্ধন বানিজ্য!! 

আপডেট সময় : ০৪:৫৫:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
#বাঞ্ছারামপুরে নতুন ভোটার তালিকাকে টার্গেট করে জন্মনিবন্ধনে বেপয়োরা ইউপি সচীবরা।
#৫০ টাকার ফি স্থানভেদে ৫০০ টাকা!!
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে ৫০ টাকার জন্ম নিবন্ধন সনদে জনপ্রতি ২ থেকে ৫’শ  টাকা আদায় করছেন ইউনিয়ন পরিষদের সচিবরা।
উপজেলায় ১৩ টি ইউনিয়নের সচীব চলমান নতুন ভোটার তালিকা নিবন্ধনকে টার্গেট করে এমন বেপোয়ারা হয়ে উঠেছেন বলে ভুক্তভোগীরা মনে করছেন।
তারউপর,দীর্ঘদিন যাবত (গত আগষ্টের পর হতে) বিভিন্ন মামলা ও আওয়ামী লীগ ঘরানার চেয়ারম্যানরা প্রায় সবাই এলাকা ছাড়া।ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম চলছে অনেকটা জুড়াতালি দিয়ে।
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের
দায়িত্ব পালন করছেন প্যানেল চেয়ারম্যান দিয়ে। ইউনিয়ন পরিষদের সচীবরা ‘মেম্বার কাম প্যানেল চেয়ারম্যানদের” তেমন পাত্তা দিতে চান না বলে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন চেয়ারম্যান জানান।
এই সুযোগে ইউপি সচীবদের এখন পোয়াবারো অবস্থা। যে যেভাবে পারছেন,ধরাকে সারাজ্ঞান করে “উপরি” কামাই করছেন বলে অভিযোগ আসছে।
বিশেষ করে জন্মনিবন্ধন ও সংশোধনের ক্ষেত্রে অভিযোগের শেষ নেই।
কেউ প্রতিবাদ করলে তার আবেদনে ভুল করে আবার সংশোধনী দেখিয়ে তিনি কয়েক দফায় টাকা আদায় করেন। সচিবের এ বাণিজ্য নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, দেশে শিশুর জন্ম থেকে ৪৫ দিন পর্যন্ত সরকারি নিয়মানুয়ী জন্ম নিবন্ধনের কোনো ফি নেওয়া হয় না। তবে শিশুর ৫ বছর পর্যন্ত ২৫ টাকা ও ৫ বছরের উপরে সব বয়সিদের ৫০ টাকা ফি নেওয়ার নিয়ম করে দিয়েছে সরকার। তবে সরকারের এই নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে উপজেলার বেশকিছু সচীব ইউনিয়ন পরিষদের সরকারিভাবে নির্ধারিত টাকার জায়গায় নিজেই নতুন নিয়ম করেছেন। সেই নিয়মে প্রতি জন্ম সনদে ২০০ থেকে ৫০০ টাকা ও জন্ম নিবন্ধনে নাম ভুল হলে সংশোধন বাবদ আরো ২০০ টাকা পর্যন্ত ফি আদায় করছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ও ভুক্তভোগীরা।
জন্ম নিবন্ধন নিতে আসা কয়েকজন ভুক্তভোগীর সঙ্গে আলাপকালে তারা  বলেন, জন্ম নিবন্ধন আনতে গেলে নানা কাগজপত্রের ভুল ধরেন এবং তাদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা দাবি করেন।
আইয়ুবপুর, সোনারামপুর, পাহাড়িয়াকান্দি, তেজখালি,ছলিমাবাদ,দরিয়াদৌলত সহ ১৩ টি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় “জন্মনিবন্ধন বানিজ্য ” এর  অভিযোগের শেষ নেই।
পৌর এলাকার গোলাম কিবরিয়া  সুমন, পাহাড়িয়াকান্দির আসিফ,দরিকান্দির তারা মিয়া সহ বহু
ভুক্তভোগী জানান, দুটি জন্ম নিবন্ধনে সচিব ৩০০ টাকা দাবি করেন। টাকা দিয়ে সরকারি ফি কত জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। উল্টো বলেন, আমার থেকেও অনেক পরিষদে বেশি টাকা নেয়- আমি তো কমই নেই।
সুমন বলেন, আমার কাছ থেকে ২হাজার টাকা জন্মনিবন্ধন বাবদ নেয়া হয়েছে ১ বছর আগে।এখনো তা পাইনি।
আইয়ুব ইউনিয়নের সচীব দবির উদ্দিন আজ (শুক্রবার)  সকালে মুঠোফোনে বলেন, বেশী টাকা নেয়ার জন্য জেলা প্রশাসক বলেছেন।
দরিকান্দির সচীব মোজাম্মেল হক বলেন, আমি সাংবাদিকদের সাথে কথা বলিনা”।তেজখালীর সচীব নিয়ামুল কবীর বলেন, চা-নাস্তার জন্য কিছু বেশী নিতে হয়!”
বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলম বলেন, এমন অভিযোগ আসাতে আমি ইউএনও স্যারকে অভিহিত করেছি।ভোটার তালিকায় যুক্ত হতে জন্মনিবন্ধনের দরকার হয়।সেখানে টাকা নেয়ার সুযোগ নেই।আমরা সমন্বিত পদক্ষেপ নিব”।
বাঞ্ছারামপুর  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌস আরা আজ (শুক্রবার)  বলেন, সরকারি নির্ধারিত(৫০ টাকা) ফি’র বাইরে কোনো বাড়তি টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই। সচীবরা তো সরকারি বেতন পান,তাহলে বাড়তি টাকা কেনো নিবে?
বিষয়টি আমি দেখছি ও বাড়তি টাকা নেয়ার বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নিবো”।