সংবাদ শিরোনাম ::
জিলানীর কুল চাষে বাজিমাৎ।
সারাদেশে ছড়িয়ে গেছে কুলের সুনাম, বাজারজাত শুরু।
সালমা আহমেদ , বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
- আপডেট সময় : ০৬:৩৪:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৫
- / ৪২৩ বার পড়া হয়েছে
filter: 0; fileterIntensity: 0.0; filterMask: 0; hdrForward: 0; brp_mask:0; brp_del_th:null; brp_del_sen:null; delta:null; module: photo;hw-remosaic: false;touch: (-1.0, -1.0);sceneMode: 2;cct_value: 0;AI_Scene: (-1, -1);aec_lux: 0.0;aec_lux_index: 0;HdrStatus: auto;albedo: ;confidence: ;motionLevel: -1;weatherinfo: null;temperature: 36;
অবশেষে দীর্ঘ অপেক্ষার পর,আজ ( বৃহস্পতিবার) থেকে শুরু হলো জিলানীর বিখ্যাত কুল বানিজ্যিকভাবে বিক্রি।আর সেটি উদ্ভোধন করেন বাঞ্ছারামপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো.নজরুল ইসলাম।
প্রবাস জীবন শেষে দেশে ফিরে সফলতা অর্জনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার আইয়ূবপুর গ্রামের আব্দুল কাদের জিলানী। মাত্র ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করে চার বিঘা জমিতে গড়ে তোলা কুল বাগান আজ তাকে বছরে প্রায় দশ লাখ টাকার আয় দিচ্ছে। তার এই উদ্যোগ স্থানীয় অর্থনীতিতে যেমন নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি করেছে, তেমনি অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করেছে।
উদ্যোগের সূচনা ২০২১ সালের শেষ দিকে আব্দুল কাদের জিলানী ও তার পার্টনার মো. নাসির উদ্দিন তাদের পিতার জমি কাজে লাগিয়ে বলসুন্দরী ও কাশ্মিরি আপেল জাতের কুল চাষ শুরু করেন। জমিটি মরহুম তরিকুল আসলাম মাস্টারের ছিল। প্রথম বছর জমিতে পানি জমে যাওয়ার চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লেও পরিশ্রম ও সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে তারা সেটি কাটিয়ে উঠেন।
কুলের মুকুল আসে সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে অক্টোবরের মাঝামাঝি।জানুয়ারির শেষভাগ বা ফেব্রুয়ারির শুরুতে ফল খাওয়ার উপযোগী হয়। ফরমালিনমুক্ত কুল প্রতি কেজি ১০০ টাকায় বিক্রি হয়, যা পাইকাররা সরাসরি বাগান থেকে নিয়ে যায়।রাজধানী ঢাকা,নারায়নগঞ্জ,নরসিংদী সহ পার্শ্ববর্তী হোমনা,নবীনগর, আড়াইহাজার, রায়পুরা,মুরাদনগরে জিলানীর এই সুমিষ্ট কুল চলে যায় পাইকার হয়ে গ্রাহকদের কাছে।
আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে বাঞ্ছারামপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো.নজরুল ইসলাম,কৃষি কর্মকর্তা মো.নাসিরুদ্দিন সহ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের কর্মকর্তা, স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিরা জিলানীর কুল বাগান পরিদর্শন করতে আসেন।এতো বড় বাগান ও পরিপুষ্ট কুল দেখে সবাই অভিভূত হয়ে পড়েন।
বাঞ্ছারামপুর উপজেলা এসি ল্যান্ড নজরুল ইসলাম তাৎক্ষণিক এক সুধী সমাবেশে বক্তব্য রাখতে যেয়ে বলেন,
বরই কুল শুধু সুস্বাদু নয়, পুষ্টিগুণেও অনন্য। এতে ভিটামিন সি, ভিটামিন এ, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, আয়রন ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, ত্বক উজ্জ্বল করে, হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে এবং হার্টের জন্য উপকারী।
বরই কেবল তাজা খাওয়ার জন্যই নয়, এটি দিয়ে বিভিন্ন খাবারও তৈরি করা যায়। বরইয়ের আচার, ঝাল-মিষ্টি চাটনি, শুকনো বরই, জ্যাম-জেলি এবং স্বাস্থ্যকর পানীয় তৈরি করা হয়ে থাকে। দেশের মাটিতে সঠিক পরিচর্যা করলে যে কোনো ফলের ভালো ফলন সম্ভব।
কুল বাগানের মালিক আবদুল কাদির জিলানী বলেন,
তার এই উদ্যোগ দেখে অনেকেই কুল বাগান করতে আগ্রহী হয়েছেন। তিনি বলেন, “আমার ইচ্ছা, সবাই যেন বাগান করতে উদ্বুদ্ধ হয়। কৃষি খাতের উন্নয়নে আমাদের সবাইকে কাজ করতে হবে ।আমার কাছ থেকে বিভিন্ন জাতের বড়ুই এর কলম নিয়ে অন্ততঃ ৫০ জন চাষী বড়ুই এর চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন।”
কুল বাগান দেখতে আসা মো. সামি বলেন,
প্রবাস থেকে ফিরে নিজের দেশে সফল উদ্যোক্তা হওয়ার এই গল্প প্রমাণ করে, ইচ্ছা আর পরিশ্রম থাকলে যে কেউ নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে। আব্দুল কাদের জিলানীর মতো উদ্যোগ যদি আরও ছড়িয়ে পড়ে, তবে এটি কৃষি খাতের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।
এবিষয়ে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো.নাসির উদ্দিন বলেন,জিলানীর কুল এখন পুরো এলাকায় একটা ব্রান্ড। তার বাগানের কুল মানেই হলো মিষ্টি, সুস্বাদু ও ফরমালিনমুক্ত। আমি সবসময়ই তার সাথে যোগাযোগ রেখে বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছি। তার কুল এলাকার চাহিদা মিটিয়ে পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন উপজেলায় চাহিদা মিটিয়ে সুনাম অর্জন করেছে।”
সংবাদটি শেয়ার করুন

































