ঢাকা ১০:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সাত মাসের অপেক্ষার অবসান, ফিরলেন না মানুষটি, ফিরল শুধু নিথর দেহ জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ ইউএনও নির্বাচিত হলেন আশুগঞ্জের রাফে মোহাম্মদ ছড়া  আখাউড়ায় সাংবাদিকদের সাথে মেয়র প্রার্থী মিশনের মতবিনিময় জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকীতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিএনপির দোয়া মাহফিল ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ ঈদের দিনেও মানবতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো বাতিঘর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ফের নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে আলোচনা জেলা পরিষদর প্রশাসক  আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম সিরাজ এর ঈদ শুভেচ্ছা শাহ্ মোঃ ইব্রাহিম মিয়ার পক্ষ থেকে ঈদ মোবারক লন্ডনে কবীর আহমেদ ভূঁইয়ার জন্মদিন পালন, দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে নেতাকর্মীদের মিলনমেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সেপটিক ট্যাংকে নেমে চার শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু

বাঞ্ছারামপুরে লাইসেন্স ছাড়াই চলছে ফার্মেসী ।। ওষুধ প্রশাসনের নেই নজরদারি 

সালমা আহমেদ, বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি: 
  • আপডেট সময় : ০৫:৪০:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৫
  • / ৩১১ বার পড়া হয়েছে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার  বাঞ্ছারামপুর উপজেলার সদরসহ ১৩ টি ইউনিয়নের বাজার, জনপদে গড়ে উঠেছে শত শত ওষুধের দোকান। রাস্তার পাশে কিংবা অলিগলির মোড়ে গড়ে ওঠা এসব দোকানের অধিকাংশেরই নেই ড্রাগ লাইসেন্স ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন। এমনকি ওষুধের ব্যবসার আড়ালে অনেক ফার্মেসিতে নেশার নিষিদ্ধ ট্যাবলেট, সিরাপ বিক্রিরও অভিযোগ রয়েছে। অনেক ফার্মেসিতে  পর্দার আড়ালে ছোট কক্ষে বসে রোগীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করছেন দোকানদার নিজেই। নিরীহ দরিদ্র ও অজ্ঞ মানুষদের বিশ্বাস ও আস্থাকে পুঁজি করে তাদের সাথে দীর্ঘদিন যাবৎ প্রতারণা  করে আসছে এসব অর্থলোভী দোকানদারেরা। সরেজমিনে দেখা গেছে,সদরে প্রায় অনেকেরই ড্রাগ লাইসেন্স থাকলেও,ইউনিয়ন বা গ্রাম পর্যায়ে সেই চিত্র ভিন্ন।সেখানে বিক্রি হচ্ছে নিম্ন মানের বা মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ।

বাঞ্ছারামপুর একটি নদীবেষ্টিত হাওর উপজেলা। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সংখ্যা অধিক।ফলে বহু  মানুষ অসুস্থ হলেই আর্থিক সঙ্গতির অভাবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে প্রথমেই তারা ছুটে যান স্থানীয় এসব ওষুধের দোকান ও হাতুড়ে ডাক্তারদের কাছে।  ওই সমস্ত ওষুধের দোকানিরা রোগীদের সমস্যা শুনে আন্দাজের ওপর ভিত্তি করে দিয়ে থাকে ওষুধ। এতে প্রায়ই রোগীরা সুস্থ হওয়ার পরিবর্তে আরো বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েন।

বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ছলিমাবাদ,উজানচর, ফরদাবাদ,মানিকপুর, তেজখালি,সোনারামপুর, দরিয়াদৌলত,মরিচাকান্দির বিভিন্ন এলাকার ওষুধের দোকান ঘুরে দেখা গেছে, দোকান মালিকরা নিজেরাই ডাক্তার সেজে আন্দাজের উপর ভর করে রোগীদের কাছে ওষুধ বিক্রি করছে। ওষুধের মূল্য সম্পর্কে সাধারণ মানুষের সঠিক ধারণা না থাকায় তারা নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে ওষুধ বিক্রি করছে।

গ্রামের লোকজনের সরলতার সুযোগে কিছু মুনাফালোভী অসাধু ব্যবসায়ী মেয়াদোত্তীর্ণ ও সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ওষুধ দেদারছে বিক্রি করছে। ফলে এসব ওষুধ সেবন করে রোগ মুক্তির বদলে রোগী আরো অসুস্থ হয়ে পড়ছে। অপর দিকে, ডাক্তারের ব্যবস্থাপত্র ছাড়াই ঘুমের ওষুধ কিংবা নিষিদ্ধ নেশার ট্যাবলেট ও সিরাপ বিক্রি হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, ওষুধ প্রশাসনকে ম্যানেজ করে বহু অবৈধ  ফার্মেসী মালিকরা প্রকাশ্যে নিম্নমানের ওষুধ প্রেসক্রিপশন ছাড়াই বিক্রি করছেন।

এবিষয়ে বাঞ্ছারামপুর ফার্মেসী মালিক সমিতির সভাপতি মোবারক হোসেন ও সাধারণত সম্পাদক মো.মাসুম মিয়া আজ (রবিবার) বলেন,সদর পৌর এলাকায় প্রায় সব ফার্মেসীরই ড্রাগ লাইসেন্স থাকলেও প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে সেটি না-ও থাকতে পারে।ইউনিয়ন পর্যায়ের ফার্মেসীগুলো আমাদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ না করার কারনে উপজেলায় কতগুলো বৈধ ফার্মেসী রয়েছে,তা বলা মুশকিল।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ মো.নোমান মিয়া জানান,লাইসেন্স ও নিম্নমানের ওষুধের বিষয়টি দেখবে ওষুদ প্রশাসন।এটি আমাদের এখতিয়ারে নেই।

জেলা ওষুধ প্রশাসনের উপপরিচালক ফরা ইয়াসমিন  আজ (রবিবার) মুঠোফোনে বলেন, যারা লাইসেন্স বিহীন ফার্মেসী চালাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় কতোটি বৈধ লাইসেন্সধারী ফার্মেসী আছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি “দেখছি” বলে ফোন কেটে দেন এবং বার বার চেষ্টার পরও তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি।

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

বাঞ্ছারামপুরে লাইসেন্স ছাড়াই চলছে ফার্মেসী ।। ওষুধ প্রশাসনের নেই নজরদারি 

আপডেট সময় : ০৫:৪০:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৫

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার  বাঞ্ছারামপুর উপজেলার সদরসহ ১৩ টি ইউনিয়নের বাজার, জনপদে গড়ে উঠেছে শত শত ওষুধের দোকান। রাস্তার পাশে কিংবা অলিগলির মোড়ে গড়ে ওঠা এসব দোকানের অধিকাংশেরই নেই ড্রাগ লাইসেন্স ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন। এমনকি ওষুধের ব্যবসার আড়ালে অনেক ফার্মেসিতে নেশার নিষিদ্ধ ট্যাবলেট, সিরাপ বিক্রিরও অভিযোগ রয়েছে। অনেক ফার্মেসিতে  পর্দার আড়ালে ছোট কক্ষে বসে রোগীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করছেন দোকানদার নিজেই। নিরীহ দরিদ্র ও অজ্ঞ মানুষদের বিশ্বাস ও আস্থাকে পুঁজি করে তাদের সাথে দীর্ঘদিন যাবৎ প্রতারণা  করে আসছে এসব অর্থলোভী দোকানদারেরা। সরেজমিনে দেখা গেছে,সদরে প্রায় অনেকেরই ড্রাগ লাইসেন্স থাকলেও,ইউনিয়ন বা গ্রাম পর্যায়ে সেই চিত্র ভিন্ন।সেখানে বিক্রি হচ্ছে নিম্ন মানের বা মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ।

বাঞ্ছারামপুর একটি নদীবেষ্টিত হাওর উপজেলা। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সংখ্যা অধিক।ফলে বহু  মানুষ অসুস্থ হলেই আর্থিক সঙ্গতির অভাবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে প্রথমেই তারা ছুটে যান স্থানীয় এসব ওষুধের দোকান ও হাতুড়ে ডাক্তারদের কাছে।  ওই সমস্ত ওষুধের দোকানিরা রোগীদের সমস্যা শুনে আন্দাজের ওপর ভিত্তি করে দিয়ে থাকে ওষুধ। এতে প্রায়ই রোগীরা সুস্থ হওয়ার পরিবর্তে আরো বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েন।

বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ছলিমাবাদ,উজানচর, ফরদাবাদ,মানিকপুর, তেজখালি,সোনারামপুর, দরিয়াদৌলত,মরিচাকান্দির বিভিন্ন এলাকার ওষুধের দোকান ঘুরে দেখা গেছে, দোকান মালিকরা নিজেরাই ডাক্তার সেজে আন্দাজের উপর ভর করে রোগীদের কাছে ওষুধ বিক্রি করছে। ওষুধের মূল্য সম্পর্কে সাধারণ মানুষের সঠিক ধারণা না থাকায় তারা নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে ওষুধ বিক্রি করছে।

গ্রামের লোকজনের সরলতার সুযোগে কিছু মুনাফালোভী অসাধু ব্যবসায়ী মেয়াদোত্তীর্ণ ও সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ওষুধ দেদারছে বিক্রি করছে। ফলে এসব ওষুধ সেবন করে রোগ মুক্তির বদলে রোগী আরো অসুস্থ হয়ে পড়ছে। অপর দিকে, ডাক্তারের ব্যবস্থাপত্র ছাড়াই ঘুমের ওষুধ কিংবা নিষিদ্ধ নেশার ট্যাবলেট ও সিরাপ বিক্রি হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, ওষুধ প্রশাসনকে ম্যানেজ করে বহু অবৈধ  ফার্মেসী মালিকরা প্রকাশ্যে নিম্নমানের ওষুধ প্রেসক্রিপশন ছাড়াই বিক্রি করছেন।

এবিষয়ে বাঞ্ছারামপুর ফার্মেসী মালিক সমিতির সভাপতি মোবারক হোসেন ও সাধারণত সম্পাদক মো.মাসুম মিয়া আজ (রবিবার) বলেন,সদর পৌর এলাকায় প্রায় সব ফার্মেসীরই ড্রাগ লাইসেন্স থাকলেও প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে সেটি না-ও থাকতে পারে।ইউনিয়ন পর্যায়ের ফার্মেসীগুলো আমাদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ না করার কারনে উপজেলায় কতগুলো বৈধ ফার্মেসী রয়েছে,তা বলা মুশকিল।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ মো.নোমান মিয়া জানান,লাইসেন্স ও নিম্নমানের ওষুধের বিষয়টি দেখবে ওষুদ প্রশাসন।এটি আমাদের এখতিয়ারে নেই।

জেলা ওষুধ প্রশাসনের উপপরিচালক ফরা ইয়াসমিন  আজ (রবিবার) মুঠোফোনে বলেন, যারা লাইসেন্স বিহীন ফার্মেসী চালাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় কতোটি বৈধ লাইসেন্সধারী ফার্মেসী আছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি “দেখছি” বলে ফোন কেটে দেন এবং বার বার চেষ্টার পরও তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি।