ঢাকা ০২:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জেলা বিএনপির ১৪ ইউনিটের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভা বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদ প্রশাসক সিরাজুল ইসলামের সৌজন্য সাক্ষাৎ তিতাসের বুকে দুই বছর পর নৌকা বাইচ, অর্ধলক্ষাধিক দর্শকের উচ্ছ্বাস বিজয়নগর মডেল প্রেসক্লাবের কমিটি গঠন সভাপতি মাইনুদ্দিন রুবেল,সাধারণ সম্পাদক এস এম টিপু চৌধুরী পলিথিন বর্জনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জেলা পরিষদ প্রশাসকের সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেড ক্রিসেন্ট নির্বাচনে শাহীন ভাইস চেয়ারম্যান, মিজানুর রহমান সেক্রেটারি বণিকপাড়ার সড়কে জলাবদ্ধতা, দুর্গন্ধযুক্ত পানিতে চরম দুর্ভোগে এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা জেলা পরিষদ প্রশাসককে নোঙর বাংলাদেশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার ফুলেল শুভেচ্ছা আনন্দ মিছিল মৎস্য অবমুক্তকরণ ও বৃক্ষরোপণে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী নদী-প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষায় নোঙর বাংলাদেশের কার্যক্রমকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল এমপির

মৃত্যুর ১৭ ঘণ্টা আগে তানভীনের স্ট্যাটাস, ‘ঈমানের সর্বনিম্ন স্তরে আছি’

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১০:১২:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৫
  • / ৫৯২ বার পড়া হয়েছে

জাহিদুজ্জামান তানভীন। ছবি : সংগৃহীত

জাহিদুজ্জামান তানভীন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল সেটা টের পায়নি তার পরিবার। মৃত্যুর পর তার বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে কথা বলে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে শেয়ার করা স্ট্যাটাস পর্যালোচনা করে বিষয়টি জানতে পারেন তারা। 

মৃত্যুর ১৭ ঘণ্টা আগে তানভীন তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে শেয়ার করেছিলেন, ‘আমরা ঈমানের সর্বনিম্ন স্তরে আছি।’ বাড়ি থেকে বের হওয়ার কিছুক্ষণ পরই পুলিশের সাঁজোয়া যান থেকে ছোড়া গুলিতে নিথর হয়ে যায় তানভীনের দেহ।

তানভীনের গলা ও সারা শরীরে গুলি লাগে।

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার ভিটি বিশারা গ্রামের প্রকৌশলী মো. শামসুজ্জামানের একমাত্র ছেলে তানভীন। গাজীপুরের ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক শেষ করে বন্ধুদের নিয়ে ‘অ্যান্টস’ নামের ড্রোনকেন্দ্রিক একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন তিনি। মাস্টার্স করার জন্য দেশের বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল তানভীন।

 

রাজধানীর উত্তরার আজিমপুর কাঁচাবাজারের কাছে জামতলায় ভাড়া বাসায় থাকতেন শামসুজ্জামানের পরিবার। একমাত্র প্রকৌশলী মেয়ে আমেরিকায় থাকেন বলে ছেলে তানভীন ও স্ত্রী বিলকিস জামানকে নিয়ে সেখানে বসবাস করতেন।

তানভীরের পরিবার জানায়, ১৮ জুলাই বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় মাকে সালাম দিয়ে এটিএম বুথ থেকে টাকা তোলার জন্য আজিমপুর এলাকায় যায় তানভীর। সেখানে যাওয়ার পরই গুলিবিদ্ধ হয় সে।

 

দুপুর ১২টার দিকে তানভীনের মোবাইল ফোন থেকে তার মায়ের কাছে ফোন করে জানানো হয় তানভীরের গুলিবিদ্ধ হওয়ার কথা। পরে উত্তার কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালের একটি কক্ষে তানভীনের লাশ দেখতে পান পরিবারের লোকজন। লাশ আনতে বেশ বেগও পেতে হয় তাদের।

 

তানভীন ছিলেন বেশ মেধাবী। তিন বন্ধু মিলে গড়ে তেলা ‘অ্যান্টস’ নামের প্রতিষ্ঠানের ‘চিফ টেকনিক্যাল অফিসার’ ছিলেন তিনি।

 

২০১৮ ও ২০১৯ সালে বুয়েট নেভাল ডিপার্টমেন্টের আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেস্ট শিপ ডিজাইন প্রতিযোগিতা এবং ২০২০ ও ২০২১ সালে আননেমড এরিয়াল প্রতিযোগিতায় জয়লাভ করে তানভীন ও তার দল।

 

এ ছাড়াও ‘ন্যাশনাল অ্যারোনটিক্স অ্যান্ড স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এনএএসএ-নাসা) আয়োজিত ইউরোপিয়ান রোভার চ্যালেঞ্জ প্রতিযোগিতায় তানভীন ও তার দল বিশ্বে দশম এবং এশিয়ার মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করে। এ ছাড়াও ড্রোনকেন্দ্রিক আরো অনেক সফলতা রয়েছে তানভীনের।

তানভীরের বাবা শামসুজ্জামান বলেন, ‘চাকরির সুবাদে সকাল ৬টায় বের হয়ে রাতে বাড়ি ফিরি। তানভীন নেই, মেয়ে আমেরিকায়। আমার স্ত্রী এখন একাকিত্ব জীবন যাপন করছে। সরকারের কাছে আমার একটাই চাওয়া, যে উদ্দেশ্য নিয়ে আন্দোলন হয়েছে; সেটা যেন বৃথা না যায়।’

শামসুজ্জামান জানান, প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে পাওয়া ১০ লাখ টাকা দিয়ে ড্রোন-ব্যবসা শুরু করে ‘অ্যান্টস।’ ব্যবসা করে সফল হতে চেয়েছিল তানভীন। যে কারণে বিসিএস দেওয়ার বিষয়ে তার কোনো আগ্রহ ছিল না।

 

সূত্র: কালের কন্ঠ

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

মৃত্যুর ১৭ ঘণ্টা আগে তানভীনের স্ট্যাটাস, ‘ঈমানের সর্বনিম্ন স্তরে আছি’

আপডেট সময় : ১০:১২:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৫
জাহিদুজ্জামান তানভীন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল সেটা টের পায়নি তার পরিবার। মৃত্যুর পর তার বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে কথা বলে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে শেয়ার করা স্ট্যাটাস পর্যালোচনা করে বিষয়টি জানতে পারেন তারা। 

মৃত্যুর ১৭ ঘণ্টা আগে তানভীন তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে শেয়ার করেছিলেন, ‘আমরা ঈমানের সর্বনিম্ন স্তরে আছি।’ বাড়ি থেকে বের হওয়ার কিছুক্ষণ পরই পুলিশের সাঁজোয়া যান থেকে ছোড়া গুলিতে নিথর হয়ে যায় তানভীনের দেহ।

তানভীনের গলা ও সারা শরীরে গুলি লাগে।

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার ভিটি বিশারা গ্রামের প্রকৌশলী মো. শামসুজ্জামানের একমাত্র ছেলে তানভীন। গাজীপুরের ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক শেষ করে বন্ধুদের নিয়ে ‘অ্যান্টস’ নামের ড্রোনকেন্দ্রিক একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন তিনি। মাস্টার্স করার জন্য দেশের বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল তানভীন।

 

রাজধানীর উত্তরার আজিমপুর কাঁচাবাজারের কাছে জামতলায় ভাড়া বাসায় থাকতেন শামসুজ্জামানের পরিবার। একমাত্র প্রকৌশলী মেয়ে আমেরিকায় থাকেন বলে ছেলে তানভীন ও স্ত্রী বিলকিস জামানকে নিয়ে সেখানে বসবাস করতেন।

তানভীরের পরিবার জানায়, ১৮ জুলাই বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় মাকে সালাম দিয়ে এটিএম বুথ থেকে টাকা তোলার জন্য আজিমপুর এলাকায় যায় তানভীর। সেখানে যাওয়ার পরই গুলিবিদ্ধ হয় সে।

 

দুপুর ১২টার দিকে তানভীনের মোবাইল ফোন থেকে তার মায়ের কাছে ফোন করে জানানো হয় তানভীরের গুলিবিদ্ধ হওয়ার কথা। পরে উত্তার কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালের একটি কক্ষে তানভীনের লাশ দেখতে পান পরিবারের লোকজন। লাশ আনতে বেশ বেগও পেতে হয় তাদের।

 

তানভীন ছিলেন বেশ মেধাবী। তিন বন্ধু মিলে গড়ে তেলা ‘অ্যান্টস’ নামের প্রতিষ্ঠানের ‘চিফ টেকনিক্যাল অফিসার’ ছিলেন তিনি।

 

২০১৮ ও ২০১৯ সালে বুয়েট নেভাল ডিপার্টমেন্টের আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেস্ট শিপ ডিজাইন প্রতিযোগিতা এবং ২০২০ ও ২০২১ সালে আননেমড এরিয়াল প্রতিযোগিতায় জয়লাভ করে তানভীন ও তার দল।

 

এ ছাড়াও ‘ন্যাশনাল অ্যারোনটিক্স অ্যান্ড স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এনএএসএ-নাসা) আয়োজিত ইউরোপিয়ান রোভার চ্যালেঞ্জ প্রতিযোগিতায় তানভীন ও তার দল বিশ্বে দশম এবং এশিয়ার মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করে। এ ছাড়াও ড্রোনকেন্দ্রিক আরো অনেক সফলতা রয়েছে তানভীনের।

তানভীরের বাবা শামসুজ্জামান বলেন, ‘চাকরির সুবাদে সকাল ৬টায় বের হয়ে রাতে বাড়ি ফিরি। তানভীন নেই, মেয়ে আমেরিকায়। আমার স্ত্রী এখন একাকিত্ব জীবন যাপন করছে। সরকারের কাছে আমার একটাই চাওয়া, যে উদ্দেশ্য নিয়ে আন্দোলন হয়েছে; সেটা যেন বৃথা না যায়।’

শামসুজ্জামান জানান, প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে পাওয়া ১০ লাখ টাকা দিয়ে ড্রোন-ব্যবসা শুরু করে ‘অ্যান্টস।’ ব্যবসা করে সফল হতে চেয়েছিল তানভীন। যে কারণে বিসিএস দেওয়ার বিষয়ে তার কোনো আগ্রহ ছিল না।

 

সূত্র: কালের কন্ঠ