মৃত্যুর ১৭ ঘণ্টা আগে তানভীন তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে শেয়ার করেছিলেন, ‘আমরা ঈমানের সর্বনিম্ন স্তরে আছি।’ বাড়ি থেকে বের হওয়ার কিছুক্ষণ পরই পুলিশের সাঁজোয়া যান থেকে ছোড়া গুলিতে নিথর হয়ে যায় তানভীনের দেহ।
মৃত্যুর ১৭ ঘণ্টা আগে তানভীনের স্ট্যাটাস, ‘ঈমানের সর্বনিম্ন স্তরে আছি’
- আপডেট সময় : ১০:১২:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৫
- / ৪৬৪ বার পড়া হয়েছে
তানভীনের গলা ও সারা শরীরে গুলি লাগে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার ভিটি বিশারা গ্রামের প্রকৌশলী মো. শামসুজ্জামানের একমাত্র ছেলে তানভীন। গাজীপুরের ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক শেষ করে বন্ধুদের নিয়ে ‘অ্যান্টস’ নামের ড্রোনকেন্দ্রিক একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন তিনি। মাস্টার্স করার জন্য দেশের বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল তানভীন।
রাজধানীর উত্তরার আজিমপুর কাঁচাবাজারের কাছে জামতলায় ভাড়া বাসায় থাকতেন শামসুজ্জামানের পরিবার। একমাত্র প্রকৌশলী মেয়ে আমেরিকায় থাকেন বলে ছেলে তানভীন ও স্ত্রী বিলকিস জামানকে নিয়ে সেখানে বসবাস করতেন।
তানভীরের পরিবার জানায়, ১৮ জুলাই বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় মাকে সালাম দিয়ে এটিএম বুথ থেকে টাকা তোলার জন্য আজিমপুর এলাকায় যায় তানভীর। সেখানে যাওয়ার পরই গুলিবিদ্ধ হয় সে।
দুপুর ১২টার দিকে তানভীনের মোবাইল ফোন থেকে তার মায়ের কাছে ফোন করে জানানো হয় তানভীরের গুলিবিদ্ধ হওয়ার কথা। পরে উত্তার কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালের একটি কক্ষে তানভীনের লাশ দেখতে পান পরিবারের লোকজন। লাশ আনতে বেশ বেগও পেতে হয় তাদের।
তানভীন ছিলেন বেশ মেধাবী। তিন বন্ধু মিলে গড়ে তেলা ‘অ্যান্টস’ নামের প্রতিষ্ঠানের ‘চিফ টেকনিক্যাল অফিসার’ ছিলেন তিনি।
২০১৮ ও ২০১৯ সালে বুয়েট নেভাল ডিপার্টমেন্টের আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেস্ট শিপ ডিজাইন প্রতিযোগিতা এবং ২০২০ ও ২০২১ সালে আননেমড এরিয়াল প্রতিযোগিতায় জয়লাভ করে তানভীন ও তার দল।
এ ছাড়াও ‘ন্যাশনাল অ্যারোনটিক্স অ্যান্ড স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এনএএসএ-নাসা) আয়োজিত ইউরোপিয়ান রোভার চ্যালেঞ্জ প্রতিযোগিতায় তানভীন ও তার দল বিশ্বে দশম এবং এশিয়ার মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করে। এ ছাড়াও ড্রোনকেন্দ্রিক আরো অনেক সফলতা রয়েছে তানভীনের।
তানভীরের বাবা শামসুজ্জামান বলেন, ‘চাকরির সুবাদে সকাল ৬টায় বের হয়ে রাতে বাড়ি ফিরি। তানভীন নেই, মেয়ে আমেরিকায়। আমার স্ত্রী এখন একাকিত্ব জীবন যাপন করছে। সরকারের কাছে আমার একটাই চাওয়া, যে উদ্দেশ্য নিয়ে আন্দোলন হয়েছে; সেটা যেন বৃথা না যায়।’
শামসুজ্জামান জানান, প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে পাওয়া ১০ লাখ টাকা দিয়ে ড্রোন-ব্যবসা শুরু করে ‘অ্যান্টস।’ ব্যবসা করে সফল হতে চেয়েছিল তানভীন। যে কারণে বিসিএস দেওয়ার বিষয়ে তার কোনো আগ্রহ ছিল না।
সূত্র: কালের কন্ঠ
সংবাদটি শেয়ার করুন






















